ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মারিয়া শারাপোভার স্বর্ণালী প্রত্যাবর্তন

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গ্র্যান্ডস্লামে ফিরেই দুর্দান্ত জয় পেয়েছেন সোনালী চুলের অধিকারী মারিয়া শারাপোভা। এটিকে স্বর্ণালী প্রত্যাবর্তনই বলতে হবে। ইউএস ওপেনের প্রথমপর্বে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে মেয়েদের দুই নম্বর খেলোয়াড় সিমোনা হালেপকে হারিয়ে দিয়েছেন রাশান তারকা। বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্লামে রুশ তন্বী তনুলতা ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ নিয়ে খেলতে এসেই নিজের চেনা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন। নিউ ইয়র্কে প্রায় ২৪ হাজার দর্শকের সামনে দুইঘণ্টা ৪৪ মিনিটের লড়াইয়ে রোমানিয়ার হালেপকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন শারাপোভা। ডোপিংয়ের অভিযোগে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত এপ্রিলে কোর্টে ফিরেন রাশান ডার্লিং। এরপর মাঝে কিছুদিন চোটের কারণে খেলতে পারেননি। র‌্যাঙ্কিংয়ে তার বর্তমান অবস্থান ১৪৬তম। ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে বছরের শেষ এই গ্র্যান্ডস্লামে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক শীর্ষ তারকা। এই নিয়ে হালেপের বিরুদ্ধে খেলা সাত ম্যাচের সবকটিতেই জিতলেন শারাপোভা। শারাপোভার মতো জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছেন সাবেক নাম্বার ওয়ান ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, ভেনাস উইলিয়ামস, গারবিন মুগুরুজা, পেত্রা কেভিতোভা। তবে প্রথমপর্বেই বিদায় নিয়েছেন ব্রিটিশ কন্যা জোহানা কোন্টা।
র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচ নম্বর খেলোয়াড় ডেনিশ তারকা ওজনিয়াকি সরাসরি ৬-১, ৭-৫ গেমে রোমানিয়ার মিহেলা বুজারনেকুকে, তৃতীয় বাছাই স্পেনের মুগুরুজা ৬-০, ৬-৩ গেমে যুক্তরাষ্ট্রের বারবারা লেপচেঙ্কোকে, জার্মানির জুলিয়া জর্জেস ৬-১, ৬-০ গেমে স্বদেশী আনিকা বেককে, সেøাভাকিয়ার ডনিনিকা চিবুলকোভা ৬-৭ (৫/৭), ৬-৩, ৬-২ গেমে স্বদেশী জানা চেপেলোভাকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনাস ৬-৩, ৩-৬, ৬-২ গেমে সেøাভকিয়ার ভিক্টোরিয়া কুজবোভাকে ও চেক কন্যা কেভিতোভা ৭-৫, ৭-৫ গেমে হারিয়েছেন সার্বিয়ার জেলেনা জাঙ্কোভিচকে। অঘটনের শিকার হয়েছেন সপ্তম বাছাই ব্রিটেনের জোহানা কোন্টা। অবাছাই সার্বিয়ার আলেকজান্দ্রা ক্রুনিচের কাছে তিনি হেরেছেন ৪-৬, ৬-৩, ৬-৪ গেমে।
নিষিদ্ধ থাকার পর এপ্রিলে কোর্টে ফেরেন শারাপোভা। প্রত্যাবর্তনের পর এটাই তার প্রথম গ্র্যান্ডস্লামে ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন শারাপোভা দ্বিতীয়পর্বে খেলবেন হাঙ্গেরির তিমিয়া বাবোসের বিরুদ্ধে। শুরুটা দুর্দান্ত করা রুশ তারকা এবার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। হালেপকে হারানোর পর শারাপোভা বলেন, আমি ম্যাচটাকে খুব বড় করে দেখতে চাইনি। এটাকে নতুন একটা দিন হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম। নতুন একটা সুযোগ হিসেবে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এই জয়টা তারচেয়েও বেশি কিছু। শারাপোভা গত বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সময় ডোপপাপে অভিযুক্ত হয়ে দোষী প্রমাণিত হন। জানা যায়, তিনি মেলডোনিয়াম নামক বলবর্ধক ওষুধ নিয়মিতভাবে সেবন করতেন তিনি। প্রসঙ্গত রোমানিয়ান সিমোনা হালেপের বিরুদ্ধে নিজের অবিশ্বাস্য রেকর্ডকে আরও বাড়িয়ে নিলেন শারাপোভা।
৩০ বছর বয়সী শারাপোভা সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা। পাঁচবারের গ্র্যান্ডসøাম জয়ী ও তিনবারের রানারআপ। সকলের জানা একজন চিত্রশিল্পীর কাছ থেকে রং-তুলি, একজন গায়কের কাছ থেকে গিটার কেড়ে নেয়ার কষ্ট শুধু ওই গায়ক কিংবা ওই চিত্রশিল্পীই বুঝবেন। শারাপোভাও নিজেকে মনে করেন টেনিস কোর্টের একজন শিল্পী। র‌্যাকেটের এক একটি আঁচড়ে মোহিত করতেন দর্শকদের। আর সেই কোর্ট থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে দীর্ঘ ১৫ মাস। চার মাস আগে মুক্তি পেয়েছেন। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসের কাছে হারের পর ওয়ার্ল্ড এন্টিডোপিং এজেন্সির (ওয়াডা) কাছে ডোপ পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করেছিলেন পাঁচবারের গ্র্যান্ডসøাম জয়ী। নমুনা বিশ্লেষণ করে ওই বছর ২ মার্চ শারাপোভাকে মেলডোনিয়াম সেবনের দায়ে অভিযুক্ত করে ওয়াডা। এরপর প্রাথমিকভাবে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পান রাশিয়ান টেনিসকন্যা। গত বছরের অক্টোবরে কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপীলের পর তার নিষেধাজ্ঞা ৯ মাস কমানো হয়। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যখন কোর্টে ফিরেছেন তখন টেনিসে বদলে গেছে অনেক কিছু। আরেকবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে সেরেনা উইলিয়ামস নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়, মুগুরুজা তখন পর্যন্ত গ্র্যান্ডস্লামে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন না, শারাপোভার কঠোর সমালোচক এ্যাঞ্জেলিক কারবার তার অনুপস্থিতিতে জিতেছেন দুটি বড় শিরোপা। যখন টেনিস থেকে বাইরে চলে গিয়েছিলেন তখনই ফর্ম কিছুটা পড়তির দিকে ছিল শারাপোভার। বয়সও হয়ে গেছে ৩০। তবে এবার ইউএস ওপেনে বেশ আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। শুরুটাও করেছেন কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে। লক্ষ্য একটাই- চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
নিষেধাজ্ঞা শেষে ভক্ত-অনুরাগীদের সুখবর দেন মারিয়া শারাপোভা। দীর্ঘ ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে খেলছেন তিনি। এক দশকেরও বেশি সময় আগে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। সাবেক ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নকে ওয়াইল্ড কার্ড দেয়ার প্রথাটা অবশ্য বেশ পুরনো। শারাপোভার আগে মার্টিনা হিঙ্গিস, লেটন হিউইট, কিম ক্লিস্টার্স এবং জোয়ান মার্টিন দেল পোত্রকেও ওয়াইল্ড কার্ড প্রদানের মাধ্যমে মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে খেলার আমন্ত্রণ জানায় কর্তৃপক্ষ। শারাপোভাও এই সুযোগ পেয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত। তবে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকাকে এখনও ব্যথিত করে গত দু’টি বছর কোর্টে না খেলতে পারাটা। এ প্রসঙ্গে পাঁচটি গ্র্যান্ডসøামের মালিক নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘গত দুটি বছর আমার জন্য খুবই খারাপ কেটেছে। খুবই কঠিন। যেমনটি আমি কখনই প্রত্যাশা করিনি। তবে একটা কথা সত্য যে, টেনিসের প্রতি আমার যে প্যাশন তার এতটুকুও কমেনি। বরং এর প্রতি আমার ভালবাসা আরও বহুগুণে বেড়েছে।’
শারাপোভা ২০০৪ সালে উইম্বলডন জেতার পর ২০০৬ সালে ইউএস ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতেন তিনি। এছাড়া ২০১২ এবং ২০১৪ সালের ফরাসী ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হন রাশিয়ান টেনিসের এই প্রতিভাবান তারকা। সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা শারাপোভার বর্তমান র‌্যাঙ্কিং ১৪৮। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে সরাসরি ইউএস ওপেনে খেলা যায় না। ইউএস ওপেন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন শারাপোভা। পরিপূর্ণ ফিট হয়ে এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য তিনি নিজেকে সিনসিনাতি মাস্টার্স ও টরেন্টো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তাই অনেকেই আবার শারাপোভাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। ফ্লাশিং মিডোসে আসলেই পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে পারবেন তো তিনি? ভক্ত-অনুরাগীদের অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার। এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারছেন না সেরেনা উইলিয়ামস। মূলত অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণেই নেই সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাও। তাই শারাপোভার ফেরাতেই আলাদা করে দৃষ্টি থাকবে টেনিসপ্রেমীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ