ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঘুরে আসুন বাঁশখালীর ইকোপার্ক

বাঁশখালীর ইকোপার্কে ঝর্ণার স্রোতের ধারা

মোঃ আবদুর জব্বার বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): অন্যতম বাঁশখালী ইকোপার্ক। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের নজর কাড়তে এই পার্কে নেয়া হয়েছে নানান কর্মসূচি। বাঁশখালীর চুনতি অভয়ারণ্যে সহস্রাধিক হেক্টর বন ভূমি নিয়ে এই পার্কটির কার্যক্রম শুরু হয়। পার্কটি এক সময় বামের ছড়া ও ডানের ছড়া নামে পরিচিতি লাভ করলেও ২০০৪ সালের পর থেকে বাঁশখালী ইকোপার্ক নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুর অবস্থান। এছাড়াও সুউচ্চ টাওয়ারের মাধ্যমে সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণ পিপাসুদের আকৃষ্ট করে। চুনতি অভয়ারণ্যে এক সময় ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৮৫ প্রজাতির পাখি, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণীর অবস্থান থাকলেও কালক্রমে বনের উপর জনচাপ সৃষ্টি হওয়ায় উন্নতির দিকে হয়ে যাচ্ছে। যাতে করে ওইসব বন্য প্রাণী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে তারই লক্ষ্য নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের কার্যক্রম। ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, বর্তমানে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ইকোপার্কের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে এসে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে যেকোন গাড়ি যোগে পৌরসভার দক্ষিণ জলদী মনছুরিয়া বাজার নেমে অনায়াসে ইকোপার্কে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা বাজার থেকে যেকোন রিকশা অথবা সিএনজি যোগে সহজেই ইকোপার্কে যাওয়া যায়। এক সময় ইকোপার্কে হোটেল রেস্তোরাঁর স্বল্পতা থাকলেও বর্তমানে বেড়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নানা ধরনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানান পার্কের ইজারাদার সোলেমান বাদশা। ছোট বড় অসংখ্য লেক পাহাড় ঘেরা এই বাঁশখালী ইকোপার্কটি দীর্ঘ সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের আনন্দ বিনোদনের সঙ্গী হয়ে আছে। এক সময় এখানে বিভিন্ন প্রজাতির চম্পা ফুল, গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, সিভিটসহ নানা ধরনের বনাঞ্চলে ভরপুর ছিল। ছিল বন্য শূকর, সাম্বার, চিতা বিড়াল, খেঁকশিয়াল, হরিণ, ভালুক, উদবিড়াল বিচিত্র পাখি অজগরসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী। এই বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য নিশ্চিত করার জন্য বাঁশখালীর জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের আওতায় ২০০৪ সালে বাঁশখালী ইকোপার্কের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ সময় এই ইকোপার্কে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ অনেক পর্যটন বান্ধব স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে ইকোপার্কের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস.এম গোলাম মওলা বলেন, এই ইকোপার্ককে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নতুন করে কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাছাড়া বাঁশখালী ইকোপার্কের মত এত বিশাল স্থান জুড়ে উঁচু নিচু টিলা সমৃদ্ধ ইকোট্যুরিজ্যম ও চিত্ত বিনোদনের সুযোগ আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। তাই সম্প্রতি জেলার মিটিংএ বাঁশখালী ইকোপার্ককে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাব প্রেরণসহ প্রকল্প গ্রহণে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ