ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিরপুরের কমলপ্রভার আস্তানায় ৭ জন পুড়ে অঙ্গার ॥ মিলেছে খুলি বিস্ফোরণে মেঝেতে গর্ত

 

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : মুখভর্তি লম্বা দাড়িওয়ালা মধ্যবয়সী পরিচিত মুখের মানুষটি যে এতোবড় জঙ্গি, তা ভাবতেই পারেননি ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডের বাসিন্দারা। মাজার রোডের পাশের বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয়তলা ‘কমলপ্রভা’ ভবনের পঞ্চম তলায় আস্তানা গেড়ে বসা ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’ আবদুল্লাহ সোমবার মধ্যরাত থেকে ঘেরাও থাকার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণের কথা বললেও তা হয়নি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই বাড়িতে কয়েক দফা বিস্ফোরণ ঘটে; পঞ্চম তলায় তাদের ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। ওই ফ্ল্যাটে আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগীসহ মোট সাতজন অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।  

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জঙ্গিবাদে জড়িত। মিরপুর মাজার রোডের দীর্ঘদিনের এই বাসিন্দা ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করেন।

এলাকাবাসীও বলছেন, তিনি আইপিএস ও ফ্রিজ মেরামতসহ বাসাবাড়িতে মিস্ত্রির কাজ করতেন। পাশাপাশি ওই বাড়ির ছাদে কবুতর পালতেন। তবে তার গ্রামের বাড়ির খোঁজ দিতে পারেননি কেউ। স্থানীয় এলাকাবাসী ও র‌্যাবসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহর পরিচয় সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে এসব জানা গেলেও ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে সেই আবদুল্লাহর পরিচয় দাঁড়িয়েছে আত্মঘাতী হিসেবে।

দুদিন ধরে ঘিরে রাখা ওই আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর ধ্বংস্তুপে তল্লাশি চালিয়ে সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। সোমবার রাতের ওই বিস্ফোরণের কারণে ছয় তলা ভবনটির পঞ্চম তলার মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে চার বর্গফুট মাপের একটি গর্ত, যেখান দিয়ে চতুর্থ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল বুধবার সকাল থেকে ওই ভবনে তল্লাশির পর র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বিকালে সাংবাদিকদের সামনে এসে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছয়তলা ভবনটির নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্চম তলা পর্যন্ত পৌঁছেছে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, ডগ স্কোয়াড ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। “জঙ্গি আবদুল্লাহ যে বাসায় ছিল, সেখানে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সাতটি স্কাল দেখে আমরা মনে করছি, সাতজনের লাশ সেখানে রয়েছে। জঙ্গি নিজেই বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে তারা নিহত হয়।”

র‌্যাবের ধারণা অনুযায়ী, ওই সাতজন হলেন সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী নাসরিন ও ফাতেমা, তিন থেকে নয় বছর বয়সী দুই ছেলে ওমর ও ওসামা এবং আবদুল্লাহর দুই কর্মচারী, যাদের নাম জানা যায়নি।

বেনজীর বলেন, সাতটি খুলি দেখে শনাক্ত করা গেলেও অধিকাংশের দেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারও কেবল হাড় দেখা যাচ্ছে।

এসব লাশ থেকে ডিএনএ ও নমুনা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান। তিনি বলেন, ওই ফ্ল্যাটে পেট্রোল ও একটি কার্টন পাওয়া গেছে; সেখানে আরও বোমা থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবার অনুসন্ধান শুরু হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

দারুসসালাম থানার এসআই ময়নাল জানিয়েছেন, পুড়ে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া সাতজনের মাথার খুলি ও কঙ্কাল উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে তাদের এসব খুলি-কঙ্কাল হাসপাতালে পৌঁছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 আত্মসমর্পণের প্রতিশ্রুতি, তারপর ‘আত্মঘাতী’ 

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মধ্যরাতে মিরপুরে এই অভিযান শুরু করে র‌্যাব। মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয় তলা ওই ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে নেয় র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোরেই ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। মঙ্গলবার সারাদিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা চলে। সন্ধ্যায় জানানো হয়, আবদুল্লাহ রাজি হয়েছেন এবং রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন বলেছেন।

ওই বাসায় আব্দুল্লাহর বোন মেরিনাও অবস্থান করছিলেন। তিনি সোমবার গভীর রাতে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে মেরিনার মাধ্যমে র‌্যাবের সঙ্গে আব্দুল্লাহর যোগাযোগ স্থাপন হয়। 

কিন্তু সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি র‌্যাব সদস্যদের আরও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে বিকট শব্দে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আরও কয়েকটি ছোট বিস্ফোরণ ও গুলীর শব্দ পাওয়া যায়।

বিস্ফোরণের পর ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গিদের’ ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। আগুনের কু-লিতে আশপাশের এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে; এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। র‌্যাবের চারজন সদস্য ওই সময় স্পিøন্টারে বিদ্ধ হন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে রাতেই জানান মুফতি মাহমুদ।

কক্ষ এখনও তপ্ত

গতকাল বুধবার বিকেলে সাতজনের দেহাবশেষ পাওয়ার পর র‌্যাব মহাপরিচলক বেনজীর আহমেদ ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রথম যে বড় বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়, তাতে পঞ্চম তলার মেঝেতে দুই ফুট বাই দুই ফুট আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়। ওই গর্ত দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে। “এসিড, পেট্রোল ও বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ওই বোমার বিস্ফোরণ ছিল ভয়াবহ। থাই গ্লাসগুলো ভেঙে স্পিøন্টারের মত ছিটকে গেছে। আমরা যে নিরাপদ দূরত্ব ঠিক করেছিলাম, তা পার হয়ে আরও পাঁচশ মিটার স্পিøন্টার ছড়িয়েছে।”

 বেনজীর জানান, বিস্ফোরণের পর অগ্নিকা-ের কারণে পাঁচ তলার ওই ফ্ল্যাটের কক্ষগুলো বিকাল ৪টা পর্যন্ত তপ্ত হয়ে ছিল। তখনও তাপমাত্রা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পানি দিয়ে তাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আলামত নষ্ট হয়ে যাবে বলে কিছু জায়গায় পানি দেয়া যাচ্ছে না। “পাঁচ ও চারতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফ্ল্যাট দুটো আর ব্যবহার করা যাবে কিনা তা প্রকৌশলী দিয়ে দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, আবদুল্লাহ ওই বাড়ির ছাদে কবুতর পুষতেন। বিস্ফোরণে অনেক কবুতর মারা গেছে। যেগুলো জীবিত আছে, সেগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে। “নিরাপরাধ দুটো বাচ্চা ছিল, নারী ছিল, আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদের সেইফ করার জন্য। সে তো জঙ্গি ছিল আর এই জঙ্গিদের খুনি মানসিকতার কাছে সন্তানরাও নিরাপদ না।”

আত্মসমর্পণের জন্য বার বার সময় নিয়ে সেই সুযোগে আবদুল্লাহ বোমা বানিয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নে বেনজীর বলেন, “ওই বাসায় আগে থেকেই সে বিস্ফোরক মজুদ করে রেখেছিল।”

আব্দুল্লাহ এলাকায় পরিচিত মুখ

র‌্যাব যাকে আব্দুল্লাহ বলছে তাকে এলাকাবাসীর অনেকে টিটু নামে চেনেন। তারা বলছেন, ওই ভবনে খোকা নামে তার এক ছোট ভাইও থাকত। তাদের ভাষ্য, আবদুল্লাহকে কখনোই জঙ্গি বলে সন্দেহ হয়নি তাদের। এলাকার দীর্ঘ দিনের এই বাসিন্দা রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা এড়িয়ে চললেও প্রায়ই চায়ের দোকানে বসতেন।

ওই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া নামে পঞ্চাষোর্ধ্ব এক নারী বলেন, “আব্দুল্লাহ কলমপ্রভা নামে ভবনে থাকেন। এলাকায় দান-খয়রাতও করতেন। রাস্তা-ঘাটে তেমন কথা বলতেন না। তাকে দেখে ভালোই মনে হয়েছে। “কিন্তু তিনি যে ভেতরে ভেতরে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত তা একটুও বোঝা যায়নি।”

রহিম নামে এক যুবক বলেন, মাজার রোডে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের দক্ষিণপাশে রাস্তার টং দোকানে বসে আব্দুল্লাহর সঙ্গে অনেকবার চা খেয়েছেন তিনি। রাজনীতি নিয়ে আব্দুল্লাহ কোনো আলাপ করতেন না।

 যে ভবনে ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহ অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই ভবনের তৃতীয় তলায় আট মাস আগে ভাড়ায় উঠেছেন গুলশান আরা। একই ভবনে থাকলেও তিনি কখনও আব্দুল্লাহকে দেখেননি বলে জানান। গুলশান জানান, গত রাত দেড়টার দিকে তিনটি বিকট শব্দ হলে তারা ভেবেছিলেন ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে র‌্যাব তাদের উদ্ধার করতে গেলে ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন।

তার কক্ষে ৫০টির মতো আইইডি (ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ থাকার কথা আবদুল্লাহ জানিয়েছিলেন বলে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলের কাছে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করতে বলেছি। সে সময় চেয়েছে। যেহেতু ভেতরে দুটি বাচ্চা রয়েছে, আমরা তাকে সময় দেব। চূড়ান্ত অভিযানের জন্য আমরা প্রস্তুত। এখন তার সিদ্ধান্তের ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।”

সন্ধ্যার পর থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণ করবেন বলে র‌্যাব সদস্যদের অপেক্ষার মধ্যে রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

আব্দুল্লাহর বাসায় ঘুমিয়েছে সারওয়ার-তামিম-মাহফুজরা

আব্দুল্লাহর ‘কমলপ্রভা’ ভবনের পঞ্চমতলার বাসায় ঘুমিয়েছে সারওয়ার জাহান, তামিম ও সোহেল মাহফুজদের মতো বড় বড় জঙ্গি নেতারা। এ তথ্য জানান র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জেএমবিতে জড়িত। নব্য জেএমবি প্রতিষ্ঠার পর সে এই সংগঠনে যোগ দেয়। সারওয়ার জাহান যখন জেএমবি ভেঙে আলাদা দল (নিউ জেএমবি) গঠন করে সেই সময় এক শূরা সদস্য গ্রেফতার হয়। সে তথ্য দেয় যে, আব্দুল্লাহ আল-আনসার হিসাব কাজ করছে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, থাকা-খাওয়া ও অর্থ দিয়ে আব্দুল্লাহ সহযোগিতা করত। আমরা আগে তার নাম শুনলেও পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত ছিলাম না। ‘কমলপ্রভা’ ভবনের পঞ্চমতলার বাসায় সে জঙ্গিদের আশ্রয় ও ট্রেনিং দিত। ওই নতুন শূরা সদস্যের দেয়া তথ্যের পর আমরা আব্দুল্লাহকে খুঁজছিলাম। অবশেষ তাকে পাওয়া গেল। ‘বলতে পারি, একটি বিরাট বিপর্যয় থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি’- যোগ করেন র‌্যাব ডিজি।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯-২০১০ সালের দিকে জেএমবি যখন নড়বড়ে হয়ে যায়, একপর্যায়ে ভেঙে যায় তখন আমরা জানতে পারি কোনো এক আব্দুল্লাহ রয়েছে। সে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের। সমূলে জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, এ অভিযানের কোনো নাম দেয়া হয়নি। অভিযান শেষ করার আগে আশপাশের বাসা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ