ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি ॥ প্রাণহানি ৮৫

॥ সাড়ে ৭ লাখ পরিবার ও ১৯০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত, দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, প্রায় ১ লাখ জলাশয়ের মাছ গেছে ভেসে, ১১০০ কিলোমিটার রাস্তা, ৬০ কিলোমিটার বাঁধ ও ১৩৮টি ব্রিজ বিধ্বস্ত ॥
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ৮৫ জনের প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। জেলাগুলো- হচ্ছে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী , দিনাজপুর , ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়।
এসব জেলার ৫৮ উপজেলার ৪৫১ ইউনিয়নে ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬১ টি পরিবার বন্যায় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় বন্যায় ৮৫ ব্যক্তির প্রাণহনি ঘটেছে এবং ১৩ টি গবাদিপশু ও ১১ হাজার ২৩৬ হাঁস-মুরগি মারা গেছে। ৯৯ হাজার ৮১৭টি জলাশয়ের কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাছ এবং মাছের পোনা ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৯০২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ। এছাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৯ হেক্টর জমির উঠতি ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৪৫ কিলোমিটার বাগান। বন্যায় ১১০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন ৩৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা ও ১৮ টি ব্রিজ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ( এল জি ই ডি ) অধীন ৭১৪ কিলোটিার দীর্ঘ রাস্তা ও ১২০টি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি করে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ ছাড়াও ৩১ হজার ৫২ টি নলকূপ এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৬ টি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্বাস্থ্য সম্মত জীবনযাপনে হুমকির সৃষ্টি করেছে। রংপুর অঞ্চলের এবারের বন্যা ৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাকেও হার মানিয়েছে।
বন্যাদুর্গত এসব জেলার মানুষদের মানবিক সহায়তা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট এ পর্যন্ত সাধারণ ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ হিসেবে ৪ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হজার টাকা , ৩৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ হাজার ৫০৪ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছ্ড়াা গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ৮ হাজার ৫৬৯ বা-িল ঢেউ টিন এবং ২কোটি ৫৭ লাখের বেশী টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব বরাদ্দ থেকে গত মাস পর্যন্ত শুকনো খাবারের প্যাকেট সম্পূর্ণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ত্রাণ তহবিলের নগদ ২ কোটি ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকাএবং ৮ হাজার ১৬৪ মেট্রিকটন চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য এই ৮ জেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৮ হাজার ৫৬৯ বা-িল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ বাবদ নগদ অর্থে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা শিগগির বিতরণ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
 বিভাগীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিনাজপুর জেলা। এই জেলার ১৩ উপজেলায় ৮৬ টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭১টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানি ঘটেছে ৩০ ব্যক্তি ও ৩টি গবাদিপশুর। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনস্থ ১১৪ কিলোমিটার রাস্তা ও ২টি ব্রিজ এবং এলজিডির ৩৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ৫টি ব্রিজ, ৪৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪৪ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমির উঠতি ফসল, ৩৬ হাজার ২১৬টি জলাশয়, ২৯০ কিলোমিটার বাগান, ৩ হাজার ১৩০ টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্তসহ ৩টি গবাদিপশু মারা গেছে।
দিনাজপুর জেলায় সরকারি সাধারণ ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য থেকে গত মাস পর্যন্ত ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৫৯৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ২৫০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় হয়েছে।
রংপুর বিভাগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হচ্ছে গাইবান্ধা। এই জেলার ৭ উপজেলার ৬৯ টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৩ টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে প্রাণহানি ঘটেছে ১৩ ব্যক্তির। ২১ হাজার ৬৬৩ হেক্টর জমির উঠতি ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে এবং ২ হাজার ৫২৫টি জলাশয়ের বিপুল পরিমাণ মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা এবং ৭ টি ব্রিজ, ২০ কিলোমিটার বাঁধ, ৪০ কিলোমিটার বাগান, ৩ হাজার ৩১টি নলকূপ, ৪১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৭ হাজার ৭০৬ টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলায় সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৯০ মেট্রিকটন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারের মধ্য থেকে গত মাস পর্যন্ত ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ১ হাজার ৬৮৬ মেট্রিকটন চাল ও শুকনা খাবার সম্পূর্ণ বিতরণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলায় ৯ উপজেলার ৬২ ইউনিয়নে বন্যায় ১ লাখ ২৬ হাজর ৬১৬টি পরিবার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা ও ২ টি ব্রিজ এবং এল জি ই ডির ৬০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ও ৩৫ টি ব্রিজ , ২৪ কিলোমিটার বাঁধ, ৫২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলায় ২৩ ব্যক্তির প্রাণহানি সহ ৮ টি গবাদি প্রাণি এবং ১১ হাজার হাঁস-মুরগি মারা গেছে। এছাড়া ৩৬ হাজার ৫৯৩ হেক্টর জমির উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে এবং ১১ হাজার ৮৫৬ টি জলাশয়ের কোটি কোটি টাকা মূল্যের মাছ ও পোনা মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া ১০০ কিলোমিটার বাগান, ১২ হাজার ৭১৯টি নলকূপ এবং ৮৩ হাজার ৩৩৬৪ টি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুড়িগ্রামে সাধারণ ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দ থেকে ১ কোটি ৩ লাখ টাকার মধ্যে ৮২ লাখ টাকা এবং ২ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার সম্পূর্ণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যাদুর্গতদের গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৯১২ বান্ডিল ঢেউ টিন ও ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলায় ৫ উপজেলার ৩৫ টি ইউনিয়নে ১ লাখ ২ হাজার ৭৫০টি পরিবার, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ও ১ টি ব্রিজ, এল জি ই ডির আওতাধিন ৭৬ কিলোমিটারের বেশী রাস্তা ও ২৪ টি ব্রিজ, ৭৩০ মিটার বাঁধ, ২৪১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলায় প্রাণহানি ঘটেছে ৬ ব্যক্তির। এছাড়া ৮ হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমির উঠতি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ৭ হাজার ৭০২টি জলাশয়ের বিপুল পরিমাণ মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ১৫ কিলোমিটার বাঁধ, ৮ হাজার ৬৩০টি নলকূপ এবং ১৩ হাজার ৮১৫টি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলার বন্যাদুর্গত মানুষের মানবিক সহায়তার জন্য সাধারণ ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে নগদ ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ১০২ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার। গত মাস পর্যন্ত এ বরাদ্দ থেকে ১৮ লাখের বেশী টাকা, ৬৪২ মেট্রিক টন চাল এবং সম্পূর্ণ শুকনা খাবার  বিতরন করা হয়েছে। এছাড়া বন্যাদুর্গতদের গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ৯৯৭ বান্ডিল ঢেউ টিন ও ২৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বন্যায় রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় ৬১টি ইউনিয়নে ৯৯ হাজার ৬২১টি পরিবার, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রায় ৫২ কিলোমিটার রাস্তা ও ৪টি ব্রিজ এবং এল জি ই ডির প্রায় ৫২ কিলোমিটার রাস্তা, ১৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৯৩১টি নলকূপ এবং ৩ হাজার ৫৩৪টি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানি ঘটেছে ৬ ব্যক্তির এছাড়া ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমির উঠতি ফসল ও ৯ কিলোমিটার বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। ১ হাজার ৫৫১ টি জলাশয়ের মাছ ও মাছের পোনা পানিতে ভেসে গেছে।
রংপুরে বন্যার্ত মানুষের মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৪৯ লাখ টাকা, ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বরাদ্দ থেকে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ও ৯৩৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৩১৪ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় হয়েছে ।
নীলফামারী জেলায় ৬ উপজেলায় ৫১ ইউনিয়নের ৪১ হাজার ৫৩৫টি পরিবার, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রায় ৫৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং এল জি ই ডির ২৩১ কিলোমিটার রাস্তা ও ৬ টি ব্রিজ, ৫ কিলোমিটার বাঁধ ৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৮৪টি নলকূপ ও ৪ হাজারের বেশি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১২ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমির উঠতি ফসল ও ৯১ কিলোমিটার বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রাণহানি ঘটেছে ৬ ব্যক্তির। ২৪ হাজার ৯৬২টি জলাশয়ের মাছ ও মাছের পোনা পানিতে ভেসে গেছে।
নীলফামারী জেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের মানবিক সহায়তা হিসেবে সাধারণ ত্রাণ তহবিল থেকে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বরাদ্দ থেকে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ও ৫২৫ মেট্রিক টন চালসহ সম্পূর্ণ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে নীলফামারীতে ৮৩৩ বা-িল ঢেউ টিন ও ২৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলায় ৫ উপজেলার ৪৩ টি ইউনিয়নে ৪৫ হাজার ৩০৫ টি পরিবার, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা ও ৫টি ব্রিজ এবং এলজিইডির সাড়ে ৯ কিলোমিটার রাস্তা ও ৬টি ব্রিজ ও ১ হাজার ১১৯টি ল্যাট্রিন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৩৪ হেক্টর জমির উঠতি ফসল, ৪ হাজার ৪৯৮ টি জলাশয়ের মাছ ও মাছের পোনা পানিতে ভেসে গেছে। এখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৬ ব্যক্তির।
পঞ্চগড় জেলার বন্যাদুর্গত মানুষের মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭১৮ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য থেকে ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল সহ সম্পূর্ণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ৩২৩ বান্ডিল ঢেউ টিন ও ৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগে বন্যায় সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা। এই জেলার ৫ উপজেলায় ৪৪টি ইউনিয়নে ২৮ হাজার ৮০০ পরিবার, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাড়ে ২৮ কিলোমিটার রাস্তা ও ১টি ব্রিজ এবং এলজিইডির প্রায় ১২৯ কিলোমিটার রাস্তা ও ২২টি ব্রিজ, ৯ কিলোমিটার বাঁধ, ৫২৭টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৭ হাজার ৫৮৬ হেক্টর জমির উঠতি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪ হাজার ৮২৩টি জলাশয়ের মাছ ও মাছের পোনা পানিতে ভেসে গেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার বন্যার্ত মানুষের মানবিক সহায়তার জন্য সাধারণ ত্রাণ তহবিল থেকে ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৮২৪ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বরাদ্দ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা , ৩০৫ মেট্রিক টন চাল ও শুকনা খাবার সম্পূর্ণ বিতরণ করা হয়েছে। এই জেলায় গৃহনির্মাণ সহায়তা হিসেবে ৪৩১ বা-িল ঢেউ টিন ও ১২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ