ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বিএনপি বলেছে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না। গতকাল বুধবার সকালে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে কিছুদিনের মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমার কথা কিন্তু বিদ্যুতের দাম না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে যা নজিরবিহীন ও গণবিরোধী। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এরকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নেয়া হবে না। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জনবিরোধী এই উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা এম এ মালেক, শরিয়তপুর জেলা সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ, সাধারণ সম্পাদক সর্দার একেএম নাসিরউদ্দিন কালু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ হচ্ছে অর্থনীতির জন্য অভিশাপ। এইসব প্রকল্পের পেছনে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আত্বীয়-স্বজন। তাদের লুটপাটের আরো বেশি সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এখন লুটের খাত। সরকার তার পছন্দের লোকদের দিয়ে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল প্রকল্প করিয়েছে। ওইসব প্রকল্পে জনগণের দেয়া ট্যাক্স থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। তাতেও কুল পাচ্ছে না। এখন আবারো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার পরিকল্পনা করা হচ্ছে গরীবকে আরো গরীব বানাতে চাচ্ছে সরকার।
রিজভী জানান, গত দেড় বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি। কিন্তু দেশে এখন পর্যন্ত কমানো হয়নি। এমনকি সরকার কমানোর কথা ভাবছেও না। ফলে দাম কমার সুবিধা থেকে দেশ বঞ্চিত হ”েছ। বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার অকটেনের উৎপাদন খরচ ৫০ টাকারও কম। সরকার বিক্রি করছে ৯৯ টাকা। পেট্রোলের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যেও ব্যবধান প্রায় একই রকম। সরকার দেশে ডিজেল বিক্রি করছে ৬৮ টাকা লিটার। অথচ ডিজেলের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি লিটার ৪০ টাকার কম। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেল সরকার বিক্রি করছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা। ক্রয়মূল্য বর্তমানে ২৫ টাকার মতো। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে সীমিত আয়ের মানুষ। শিল্প খাতেও পড়বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। তিনি বলেন, এমনিতে সরকারের লুটাপাট আর ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশে কোন বিনিয়োগ নেই। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা মানেই বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। এতে গোটা অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। আবার শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও। নিত্যপণ্যসহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। এর মাশুলও দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের আকার স্ফীত থেকে স্ফীততর হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট আয় ও পেশার মানুষের কষ্ট ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। এরপর আবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ভার স্ফীত করার মাধ্যমে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। কৃষি খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। রিজভী জানান, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্য্ন্ত ৬ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ৬ বার এবং খুচরা পর্যায়ে ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়নো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলে দাম না কমায় সরকারের সমালোচনা করেন রিজভী।
সরকারের কোনো দায়িত্ববোধ নেই মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ববোধ নেই। তারা একের পর পর জনবিরোধী কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এমন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নেয়া হবে না।
এই পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবের মাঝেও শাসক দল আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটোয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্ত্রাসী তাণ্ডব থামছে না অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ঈদের আগে ২০দলীয় জোটের কল্যানপার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সাদাত আহমেদসহ ৬জনকে অপহরণ করা হলেও এখনও তাদের ফেরত দেয়া হয়নি। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালী বাজার থেকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারকে (৫৮) প্রকাশ্য তুলে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাবিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার সকালে তুষখালী বাজারে একটি ওষুধের দোকানে বসা অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস তালুকদারের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে আওয়ামী নেতারা নৃশংসহভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়। জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হাবিবুর রহমানের খুনীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা জানাই গভীর সমবেদনা।
এছাড়া শরীয়তপুরে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের হামলা, খুলনার রূপসায়, মাদারীপুর, চট্টগ্রামের মিরেরশ্বরাই, গাজীপুরের কালিগঞ্জের বক্তারপুরে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনার নিন্দা জানান রুহুল কবির রিজভী। ঈদের মধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ার তুষখালী বাজার থেকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারকে প্রাকাশ্যে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দাও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ