ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঈদুল আজহায় দুর্ঘটনা কম হলেও  যাত্রী দুর্ভোগ বেশি হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদুল আজহায় দুর্ঘটনা কম ঘটেছে। তবে দুর্ভোগ  বেশি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ২১ জেলার মানুষের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ছাদে যাত্রী বহন ঠেকাতে পারেনি প্রশাসন। এমনটাই উঠে এসেছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অনেক মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতি এবং ৩০ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের কারণে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে প্রতি বছর ঈদযাত্রায় বিভিন্ন মহলসহ ঘরমুখো সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন থাকলেও এবারের দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন ছিল। গার্মেন্টস শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রার প্রথমদিন ২৮ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর (ঈদের ছুটির পর দ্বিতীয় কর্মদিবস) পর্যন্ত ৯ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭২ জন নিহত ও ১৫৫ জন আহত  হয়েছেন। অর্থাৎ এবার ঈদুল আজহায় দৈনিক গড়ে ৮জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। আর ঈদুল ফিতরে গড়ে দৈনিক নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ১৫ জন ও ২৮ জন। ওই সময়ে আটদিনে সারা দেশে ১২০ জন নিহত ও ২২৬ জন আহত হয়েছেন।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দূরপাল্লার অধিকাংশ বাস ও লঞ্চ সার্ভিস ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে। ঈদের দিন নিকটবর্তী দূরত্বের সাধারণ বাস ও লেগুনার মতো ক্ষুদ্র যানবাহনগুলো আদায় করেছে তিনগুণ ভাড়া। এ ছাড়া এ তিনদিন অনেক বাস সার্ভিসসহ সকল লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে এবং খোলা ট্রাকে যাত্রী বহন করা হয়েছে। একইভাবে ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে এবং পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

পদ্মায় আকষ্মীক প্রবল স্রোতে ও তীব্র নাব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল সীমিত হয়ে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে সড়কপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘর-ফেরত যাত্রীরা।

পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বিকল্প দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চরম অব্যবস্থাপনা ও তীব্র যানজটের কারণে ঢাকামুখী  বাসগুলো পারাপারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি পারাপারে অচলাবস্থার কারণে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ সড়কের বিকল্প হিসেবে নৌপথে ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে ফিরছেন। এই সুযোগে বরিশালসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর সকল লঞ্চ সার্ভিস ধারণ ক্ষমতার ৩-৪ গুণ যাত্রী বহন এবং দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।

গতকাল বুধবার ঈদ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সম্পর্কে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে জানান, ২৮ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার কমলাপুর ও সেনানিবাস রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটসহ রাজধানীর সকল বাস টার্মিনালের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজপোর্টাল, জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকার অনলাইন ও মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এবারের ঈদে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সবগুলো বাস টার্মিনালসহ রাজধানীর সর্বত্র এবং মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলেও জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ