ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্পীডবোট ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

মাদারীপুর সংবাদদাতা : ঈদ শেষে কর্মস্থল রাজধানীতে ফিরতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভিড় বেড়েছে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে। সোমবার সকাল থেকেই লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীর চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিকে স্পিডবোট কাউন্টারে ঢুকতেই একটি অংশে টানিয়ে রাখা হয়েছে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা, যা কাগজ সেঁটে লাল স্কচটেপ দিয়ে আটকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ২০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্পিডবোটগুলো ২৪ থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। আর প্রতিটি লঞ্চেও অতিরিক্ত যাত্রী। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি স্পিডবোটে ১২০ টাকার ভাড়া ২শ টাকা ও লঞ্চে ৩৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা হারে আদায় করছে বলে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে যাত্রীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। অনেককেই দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোটে উঠতে দেখা গেছে। আগামী দুইদিন এই চাপ আরো কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর পদ্মা নদীর এই পয়েন্টে ড্রেজার কাজ চলমান থাকলেও স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল। নাব্য সংকট ও পদ্মা নদীতে ড্রেজিং কাজ চলামান থাকায় ২০টি ফেরির মধ্যে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলাচল করছে ৩টি ফেরি। যা বিকল্প চ্যানেল ব্যবহার করায় সময় লাগছে দ্বিগুন থেকে তিনগুনেরও বেশি। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আছে ৫ শতাধিক যানবাহন। নাব্য সংকট সমাধানে ড্রেজিং কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারী যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাসকে পাটুরিয়া-দৌলদিয়া নৌরুট ব্যবহার করার পরামর্শ কর্তৃপক্ষের।
কাঁঠালবাড়ি স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘ঘাটের সবকিছু আমাদের অধীনে নেই। ভাড়া বাড়ানো বা কোনো সিদ্ধান্তই আমাদের মতামতে হয় না। ঘাটের ইজারাদার ও অন্যদের সিদ্ধান্তেই সবকিছু বিবেচনা করা হয়।’স্পিডবোট ঘাটে ভাড়ার তালিকা ঢেকে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভাড়ার তালিকা শিবচরের ইউএনও নির্ধারণ করে টানিয়ে রেখেছিলেন। এখন ওই তালিকার কী অবস্থা বা কেন কাগজ সেঁটে লাল স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’
মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো: সালাম হোসেন জানান, যাত্রী ও যানবাহন পারপারে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি চলাচল করলেও নাব্য সংকটে এখন খুড়িয়ে খুড়িয়ে ৩টি ফেরি চলছে। এছাড়া এই নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ ও ৩ শতাধিক স্পীডবোট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহম্মেদ জানান, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, র‌্যাবের একাধিক দলও নিয়োজিত আছে ঘাট এলাকায়। পাশাপাশি লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলোর প্রতি আলাদা নজর রাখা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে। স্পিডবোটে কিছু বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা দেখা গেছে। স্পিডবোট ও লঞ্চগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি, যানজট ও অধিক ভাড়া আদায়ে কোনো অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। আর ভাড়ার তালিকা ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান। কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুট দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ঈদে এর সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ