ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘তৃতীয় পক্ষ কোনোভাবেই চাচ্ছে না শিল্পীরা এক হয়ে যাক’

স্টাফ রিপোর্টার : ‘তৃতীয় একটি পক্ষ কোনোভাবেই চাচ্ছে না, শিল্পীরা সবাই এক হয়ে যাক। এই তৃতীয় পক্ষ বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে নানা বিবৃতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’ -অনেকটা ক্ষোভের সাথেই কথাগুলো বললেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান।
তার এই ক্ষোভের বিষয়টি পরিষ্কার হলো যখন তিনি ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের  ব্যাপারে চলচ্চিত্র পরিবারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বললেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফারুক ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে বলছি, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সবাই একই ছায়াতলে আছি। কিন্তু তৃতীয় একটি পক্ষ বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে নানা বিবৃতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
শাকিব খানের ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে গতকাল বুধবার বিকেলে বিএফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে জায়েদ খান বলেন, শাকিব খান আমাদের বড় ভাই। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দুইবারের সভাপতি। সবই বাদ দিলাম, দিনের শেষে তিনি শিল্পী। তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র পরিবারের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়। ফারুক ভাই তার বক্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন। একই জায়গায় চলতে গেলে পরিবারের সবার মধ্যে টুকটাক ঝামেলা হয়। তারপর ফারুক ভাইয়ের বাসায় গেছেন শাকিব ভাই। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছেন। দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেখানে কিন্তু চলচ্চিত্র পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। ফারুক ভাইয়ের স্ত্রী রান্না করেছেন। নিজে খাবার তুলে দিয়েছেন। ঝামেলা যা, সব কিন্তু ওখানেই শেষ।
গত ২৯ আগস্ট মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরায় বরেণ্য চিত্রনায়ক ফারুকের বাসায় চলচ্চিত্র পরিবার আর দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খানের মধ্যে সমঝোতা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক ফারুক, শাকিব খান, পরিচালক আমজাদ হোসেন, চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, নৃত্য পরিচালক সমিতির সভাপতি মাসুম বাবুল, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান এবং প্রযোজক আরশাদ আদনান। আলোচনার একপর্যায়ে ফারুক ও শাকিব খান কোলাকুলি করেন। ভবিষ্যতে একসঙ্গে সমঝোতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেন। একই সঙ্গে সব ধরনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ রাজি হয়। এরপর চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, শাকিব আমাদের ছেলে। ও যা করেছে, না বুঝে করেছে। এখন আর আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।
জায়েদ খান আরো বলেন, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমার কিন্তু ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নেই। রাজ্জাক ভাইয়ের লাশ যেদিন কবর দেয়া হয়, সেদিন আমরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেছি। ফারুক ভাই সেদিন রাতে শাকিব ভাইকে বলেছিলেন, তোমার যদি সম্ভব হয় তাহলে এফডিসিতে গিয়ে সবার সঙ্গে মিষ্টিমুখ কইরো, তুমি আমারই ছোট ভাই, এই সিনেমা দিয়েই কিন্তু তোমার নাম-যশ হইছে। তাকে কেন এফডিসিতে এসে মাফ চাইতে হবে? তার সঙ্গে যা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে, তা তো ফারুক ভাইয়ের বাসায় সেদিন শেষ।
শাকিবের ব্যাপারে চলচ্চিত্র পরিবারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে জায়েদ খান বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফারুক ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে বলছি, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সবাই একই ছায়াতলে আছি। এফডিসি শাকিব খানের বাড়ি। এখানে সে যখন মন চায় তখন আসবে, তবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাকে এখানে আসতে হবে না। সে আসবে সবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য।
শাকিব খানকে নিয়ে একটি মহলের অপতৎপরতার ব্যাপারে জায়েদ খান বলেন, তার কাছে আমি আবদার করেছি, ভাইয়া আমি আপনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আপনি কেন এখনো আমাকে শুভেচ্ছা জানাননি। তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন, আমি তোমাকে অবশ্যই ফুল দিতে আসব। তৃতীয় একটি পক্ষ কোনোভাবেই চাচ্ছে না, শিল্পীরা সবাই এক হয়ে যাক। এই তৃতীয় পক্ষ বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে নানা বিবৃতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা একই পরিবারে আছি। দয়া করে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ