ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা বিতরণে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হতদরিদ্র পরিবারের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের তালিকা তৈরী ও তালিকাভুক্ত কার্ডধারী অসহায় মানুষের মাঝে সরকার প্রদত্ত ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে পৌরশহরে বসবাসকারী সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র এসব মানুষের তালিকা তৈরি করে যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পড়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর। আর এ সুযোগে তালিকা তৈরি, যাচাই-বাছাই থেকে শুরু করে ভাতা বিতরণ পর্যন্ত সংশিষ্ট স্তরের দায়িত্ব প্রাপ্তরা জড়িয়ে পড়েন অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে। এতে তৃণমূলের পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মানুষ উৎকোচ ছাড়া তালিকায় নাম উঠানো কিংবা সরকার প্রদত্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কলাপাড়া উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় মোট প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী ১ হাজার ১৬৬ জন, বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী ৫ হাজার ৬৯৩ জন, বিধবা ভাতাপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী ২ হাজার ৮৪৫ জন। এছাড়া অধ্যয়নরত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতাপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী ১৩৭ জন, প্রাথমিক লেভেলে ৯৫ জন, মাধ্যমিক স্তরে ৩২ জন এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১০ জন রয়েছে। এতে প্রাথমিকে ৫শ’ টাকা হারে বছরে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা, মাধ্যমিকে ৬০০ টাকা হারে বছরে জনপ্রতি ৭,২০০ টাকা ও উচ্চমাধ্যমিক ৭০০ টাকা করে জনপ্রতি ৮,৪০০ টাকা গ্রহণ করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মিলিত ভাবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে বসে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগী মানুষের মাঝে টাকা বিতরণকালে মাথা পিছু ৫০-১০০ টাকা হারে বাধ্যতামূলক উৎকোচ নিচ্ছেন। সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া বন্দর শাখা’র ব্যবস্থাপক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর নির্দেশনায় ব্যাংকের মাস্টার রোলের অফিস পিয়ন বশির আহম্মেদ এ টাকা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এমনকি এসব ভুক্তভোগীরা তাদের কার্ড বাতিল হওয়া এবং ভাতা বন্ধ করে দেয়ার ভয়ে নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কলাপাড়া সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহকারী জুনায়েদ হোসেন  বলেন, ব্যাংকের লোকজন ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা নেয়। যার নামে ভাতা বই তার ছবি দেখে টাকা দেওয়ার দায়িত্ব। ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর দিয়ে টাকা দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। মূলত সমাজ সেবা ও ওয়ার্ড ইউপি সদস্যদের সীল স্বাক্ষর প্রত্যায়নে থাকার নিয়ম রয়েছে। সরকারী নীতিমালায় রয়েছে, যে ব্যক্তি ভাতাভোগী যেই দিন ব্যাংকে আসবে সেই দিনেই টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু তাদের কে একসাথে ডাকা হয় রহস্য জনক কারনে। এমনকি কার্ডে নাম ভুল হলে তা সংশোধন করতেও ২০০-৩০০ টাকা নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সমজসেবা কর্মকর্তা মুনতাসীর বিল্লাহ আক্ষেপের সাথে বলেন, ব্যাংক চেকের মাধ্যমে প্রতিবন্ধি ছাত্রদের ভাতা দেওয়া হয়। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে সমাজ সেবার একাউন্ট থেকে যার যার নামের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। টাকা দেয়ার সময় ফিল্ড অফিসারের থাকার কোন নিয়ম নেই, তবুও থাকেন পাশ বই এর কোন সমস্যা যদি হয় তা দেখার জন্য।
কলাপাড়ার মহিপুরের সোনালী ব্যাংক, খেপুপাড়া বন্দর শাখার সোনালী ব্যাংক, মৎস্য বন্দর আলীপুর ও খেপুপাড়া শাখা অগ্রণী ব্যাংক এ প্রকল্পের টাকা বিতরণ করেন।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক খেপুপাড়া বন্দর শাখার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সোনালী ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ পেলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ