ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মসজিদ কমিটির উদ্যোগে থুকড়া গ্রামের সব পরিবারের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া গ্রামের সর্বমোট পরিবারের সংখ্যা ৫৫৫টি। জনসংখ্যার হিসাবে এর পরিমান দাড়াবে প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে এবার কুরবানি দেয় মাত্র ৪৫টি  পরিবার। বাকি ৫০৬টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কি তাহলে ঈদের আনন্দ থাকবে না? ঠিক এমন ভাবনা থেকেই এগিয়ে আসে থুকড়া বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটি। মসজিদ কমিটির ব্যবস্থাপনাই ৪৫টি পরিবারের কাছ থেকে সর্বমোট ৬৪৮ কেজি গোশত সংগ্রহ করে তা বাকি পরিবারগুলোর মধ্যে বন্টন করে দিয়ে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নেয়া হলো থুকড়া গ্রামের সব পরিবারের মধ্যে।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া তথ্য ও এলাকায় খোঁজ  নিয়ে জানা যায়, প্রথমে এলাকার প্রতিটি ঘরের তালিকা তৈরি করা হয়। একই সাথে কতজন এবার কুরবানি দিচ্ছেন  তারও একটি পরিসংখ্যান নেয়া হয়। মসজিদ কমিটি ৪৫ জন কুরবানিদাতার কাছ থেকে ৬৪৮ কেজি গোশত সংগ্রহ করে তা বাকি ৫০৬ পরিবারের মধ্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ১-৩ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের জন্য সোয়া এক কেজি, ৪-৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য দেড় কেজি আর ৮ থেকে তার উপরের সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য বরাদ্ধ করেন দু’কেজি করে। এভাবে ৫২০টি প্যাকেট করে তারা পৌঁছে দেন প্রতিটি ঘরে ঘরে। এ কাজে সেচ্ছায় শ্রম দেন এলাকার একদল নিবেদিত মানুষ।
এ কর্যক্রম সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, এ উদ্যোগ খুবই প্রসংসনীয় এবং কষ্টের। আমাদের পক্ষে এভাবে সমবন্টন করে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গোশত পৌঁছে দিয়ে আসা সম্ভব হতো না, যেটি মসজিদ কমিটি করেছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমরা চেয়েছি  এলাকার সকল মানুষ পবিত্র ঈদ-উল আযহার আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করুক। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম বিগত দু’বছর ধরে চলে আসছে। আগামী দিনে আরো জোরদার ভাবে করা হবে ইনশাআল্লাহ।
থুকড়া যাকাত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ডা. হাফেজ মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ মানসুর বলেন, আমাদের সামাজিক উন্নতির জন্য সবার আগে যেটি প্রয়োজন তা হলো সহানুভূতি এবং ঐক্য। এ দুটি জিনিস যদি গ্রহণ করা যায় এবং আল্লাহর বিধানবলী যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে গোটা সমাজের চিত্রই বদলে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ