ঢাকা, শুক্রবার 08 September 2017, ২৪ ভাদ্র ১৪২8, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে হারের পর ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা বললেন মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্যই এই হার বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩০৫ রান । দ্বিতীয় ইনিংসে যেন পুরোই বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দল ১৫৭ রান তুলতেই অল আউট হয়। অবশ্য এ জন্য বড় ক্রেডিট অসি স্পিনার নাথান লিওনের। ঢাকা টেস্টে অসাধারণ জয়ের পর পুরো জাতি স্বপ্ন বুনেছিল ২-০ তে সিরিজ জয়ের। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে টাইগার অধিনায়ক মুশফিক মনে করেন ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ ভালো ছিল উইকেট। তবুও প্রথম ইনিংসে রান কম করার মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে কম করে হলেও বাংলাদেশের ৩৫০ রান করা উচিত ছিল বলে মনে করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তবে ম্যাচটি হারলেও সিরিজ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলেও দাবি করেন মুশফিক। তার মতে সবগুলো বিভাগেই কম-বেশি বাংলাদেশ উন্নতি করেছেন। সব বিভাগেই ভালো করেছে বাংলাদেশ। সিরিজে সমতা ফিরলেও অবশেষে বহুল কাংখিত সিরিজটি হয়েছে তাতেই খুশি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ অধিনায়ক অকপটেই স্বীকার করেছেন টেস্ট সিরিজ ড্রয়ের পেছনে বড় দায় ব্যাটসম্যানদের। বোলাররা ২০ উইকেট নিয়ে ঢাকা টেস্ট জিতিয়েছিল। চট্টগ্রামেও তাদের ফর্ম ধরে রেখেছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা ছিল লাইমলাইটের বাইরে। অধিনায়ক মুশফিক বলেন, ‘আমরা যদি প্রথম ইনিংসে ৩৫০ প্লাস বা ৪০০-এর কাছাকাছি রান করতে পারতাম তাহলে হয়তোবা ওদেরকে ১৫০ রানের লিড দিতে পারতাম। তাহলে অন্যরকম খেলা হতে পারত। আমার মনে হয় যে পুরো সিরিজজুড়ে আমাদের ব্যাটিংটা আমাদের দুর্বলতার জায়গা ছিল।’ চট্টগ্রাম টেস্টে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩০৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়তে পারেনি টিম বাংলাদেশ। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিং নেমে মাত্র ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও মুশফিক ব্যাটসম্যানদের দুষছেন প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতার জন্য, ‘দ্বিতীয় ইনিংসের চেয়ে প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা আমাদের জন্য অনেক বড় রোল প্লে করেছে। সেখানেই আমরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলাম। এরকম ফ্ল্যাট উইকেটে অন্তত প্রথম দিনে উইকেটটা যেরকম ছিলৃএমন কোনো স্পিন ছিলো না যেটা কিনা আনপ্লেয়েবল বা রিস্কি ছিল। আমার মনে হয় ওই জায়গাটায় আমরা অনেকখানি পিছিয়ে গেছি।’ সিরিজে অস্ট্রেলিয়াও যে খুব ভালো ব্যাটিং করেছে তেমনটা নয়। কিন্তু সময়মতো ও সঠিক জায়গায় ঠিকই তাদের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে ডেভিড ওয়ার্নার। সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি হয়েছে, দুটিই ওয়ার্নারের। সর্বোচ্চ ২৫১ রানও তার। ব্যাটিং নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘দুই-তিনটি আউট দুর্ভাগ্যবশত হয়েছে। আবার চতুর্থ দিন কিংবা তৃতীয় দিনে এরকম বাজে একটা উইকেট হয়ে যাবে, যেখানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিং করা কঠিন।’ আগের দিন ফিল্ডিংয়ের সময় গায়ে বল লেগেছিল মুমিনুলের। তবে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক জানালেন, চোট নয়, চিন্তা-ভাবনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মুশফিক বলেন,‘আসলে চিন্তা ছিল ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন করার। এখন আটে নেমে মুমিনুল ভালো খেলেছে বলে হয়তো বলতে পারেন আরেকটু আগে কেন নামানো হয়নি। তবে আমরা তো ফল দেখে চিন্তা করি না। দলের যেটায় ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেটা করার চেষ্টা করি আমরা। আটে খেলা, সত্যি বলতে, আমাকেও যদি খেলতে বলেন, খুবই কঠিন। কোনো ব্যাটসম্যানেরই আটে খেলা যথার্থ নয়। তবে যেটা বললাম, সিদ্ধান্তটি ছিল ট্যাকটিকাল।’ সেই ট্যাকটিক্যাল ব্যাপারটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিলেন মুশফিক। ‘চার নম্বরে গত কয়েক টেস্টে স্পেশালিস্ট সেভাবে নেই আমাদের। সাব্বির খেলেছে। ওর কাছ থেকে যতটা পাওয়ার, আমরা পাচ্ছিলাম না। সাব্বির যেহেতু সাত নম্বরে খেলে ভালো রান করেছে, আমরা চেয়েছি ওকে ওই জায়গায় রাখতে। আর সাকিব সবসময় পাঁচে খেলে। তিন নম্বরে মুমিনুল আগে খেলেছে। তবে আমদের যেহেতু তিনজন ওপেনার খেলে, ওই জায়গাটা বদলানো কঠিন হয়ে যায়। আমরা চিন্তা করেছি, অন্তত মাঝে একটা ডানহাতি ব্যাটসম্যান গেলে ওদের ছন্দের সমস্যা হতে পারে।’ প্রথম ইনিংসে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের কথা ভাবেনি দল। প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানই খেলিয়েছে বাঁহাতি। মুশফিক জানালেন, উইকেট তখন তুলনামূলক সহজ ছিল বলেই ব্যাটিং অর্ডারে নাড়াচড়া করা হয়নি। মুশফিক বলেন,‘ প্রথম ইনিংসে আমরা মনে করেছি যে উইকেট এমন কোনো কঠিন ছিল না যে বাঁহাতিদের জন্য কঠিন হবে। কেউ কিন্তু স্লিপে বা কাভারে বা উঁচিয়ে মারতে গিয়ে আউট হননি। সব সোজা বল মিস করেছে। বাঁহাতি বলে সমস্যা হয়নি।’ দ্বিতীয় ইনিংসে চারে সুযোগ পেয়েও নাসির হোসেন কাজে লাগাতে পারেননি, মুশফিক ইঙ্গিত দিলেন সেই ব্যর্থতার দিকে। মুশফিক বলেন,‘অনেকে প্রশ্ন করতে পারে সাব্বির সাতে কেন। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ও সাতেই ব্যাট করেছে এবং ভালো করেছে। আমরা চেষ্টা করি, টিম ম্যানেজমেন্ট চেষ্টা করে, যে ব্যাটসম্যান আছে সেভাবে পরিকল্পনা করার। বাস্তবায়ন সেভাবে না হওয়া মানেই সিদ্ধান্তে ভুল ছিল, এমনটি নয়। বরং যাদের প্রমোশন দেওয়া হয়েছে, তারা যদি আরও বেশি নিবেদন দেখাতে পারত, তাহলে অন্যরকম হতে পারত।’ ক্যারিয়ারে আগে সব সময় তিন-চারের বাইরে কখনও খেলেননি মুমিনুল। এই টেস্টে এসেছিলেন প্রবল চাপ নিয়ে। দুই ইনিসে খুব বড় কিছু করতে পারেননি। তবে প্রথম ইনিংসে ৩১ রানের পথে খেলেছেন স্বচ্ছন্দে। দ্বিতীয় ইনিংসে আটে নামানো হলেও করেছেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান। এই পারফরম্যান্সে মুমিনুলকে নিয়ে, মুমিনুলের জন্য আশা দেখছেন অধিনায়ক। ‘ও অফ স্পিন খেলতে পারে না বলে কথা ছিল। কিন্তু সে দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনারকে খেলে। যতক্ষণ ছিল, ভালো খেলেছে। ভবিষ্যতে আমরা চেষ্টা করব এগুলো মাথায় রাখতে এবং সেভাবেই পরিকল্পনা গড়তে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ