ঢাকা, শুক্রবার 08 September 2017, ২৪ ভাদ্র ১৪২8, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়ে আজ থাইল্যান্ড যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

স্পোর্টস রিপোর্টার : ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়েই আজ শুক্রবার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ৩২ সদস্যের বাংলাদেশ নারী দল থাইল্যান্ড যাচ্ছে। থাইল্যান্ডের চুনবুরিতে ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এশিয়ার ৮ দেশের লড়াই। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট শুরু হবে পরের দিন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও জাপান সাবেক চ্যাম্পিয়ন দল আর  ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৭ নম্বরে। তাই বড় কোন টার্গেটের কথা না বলে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বললেন প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল যেন ভাল করতে পারে তাই সর্বোচ্চ ব্যায় করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যা অতীত ইতিহাসে হয়নি। ১ বছর ব্যাপী অনূর্ধ্ব-১৬ দলটি শুধু দেশেই ট্রেনিং নেয়নি। বিদেশের মাটিতেও প্রাকটিস ম্যাচ ও ট্রেনিং করেছে নারী দলটি।  গত বছর ২৭ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের ‘সি’ গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে থাইল্যান্ডের টিকিট পেয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দল। বাছাই পর্বের প্রতিপক্ষ ইরান, সিঙ্গাপুর, কিরগিজস্তান, চাইনিজ তাইপে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের চেয়ে চূড়ান্ত পর্বের দলগুলো অনেক শক্তিশালী। এক কথায় পার্থক্য নদী আর সাগরের মতো। সাঁতার কেটে নদী পাড় হওয়া মেয়েরা যাতে সাগরে ঝাপ দিয়ে তলিয়ে না যায় সেজন্যই বাফুফে তাদের দীর্ঘ অনুশীলন করিয়েছে। জানা গেছে,থাইল্যান্ডের জন্য কৃষ্ণাদের প্রস্তুত করতে বাফুফের সাড়ে ৩ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে।বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহিলা কমিটির চেয়ারপারসন মাহফুজা আক্তার কিরণ জানালেন,‘গত বছর যখন মেয়েরা বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে নাম লিখিয়েছে তার পরই আমরা পরিকল্পনা করি তাদের বছরব্যাপী অনুশীলনের। কারণ, বাছাই আর চূড়ান্ত পর্বের দলগুলোর শক্তির পার্থক্য অনেক। আমরা কেবল তাদের ঘরেই অনুশীলন করাইনি, ৫ বার বিদেশে পাঠিয়ে ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট খেলিয়েছি। মেয়েরা ২ বার জাপান এবং একবার করে সফর করেছে সিঙ্গাপুর, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর মধ্যে প্রথমবার জাপান সফরের বিমানভাড়া দিয়েছিল জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন  (জেএফএ)। বাকি ৪টি সফরের বিমানভাড়া বাফুফেকে বহন করতে হয়েছে। মেয়েদের শুধু মাঠের অনুশীলনই নয়, তাদের পড়াশুনার বিষয়টিও দেখেছে বাফুফে। বাংলা, ইংরেজি ও গনিতসহ চারটি বিষয়ে পড়াশুনার জন্য ৩ জন শিক্ষকও নিয়োগ দিয়েছিল বাফুফে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়েদের পরীক্ষা দেয়ারও সুযোগ করেছিল দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। সর্বশেষ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন নারী ফুটবল দলের ৪ জন। ১৪ জন দেবেন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। ক্যাম্প শুরু হওয়ার পর থেকেই মেয়েদের মাসিক বেতন দিয়ে আসছে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের বানিজ্যিক  প্রতিষ্ঠান এসএস স্টিল ও এসএস সলিউশন। গত বছর বাছাই পর্বের দলের ২৩ জনকে দেয়া হয়েছে মাসে ১০ হাজার টাকা করে। আর ক্যাম্পের বাকিদের মাসিক বেতন ৩ হাজার টাকা করে। দীর্ঘ মেয়াদি ক্যাম্পে কি ধরনের পরিবর্তন এসেছে এ প্রসঙ্গে দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বললেন,শুরুতে মেয়েরা যতটা দুর্বল ছিলো শারিরিক বা মানসিকভাবে এখন তা নেই।  মাঠের পারফরম্যান্স ও আচরনেও পরিবর্তন এসেছে। ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিটনেস। যেখানে আমরা অনেক পিছিয়েছিলাম। এখন ফিটনেস অনেক ভালো মেয়েদের। মেয়েরা এখন ৯০ মিনিট একতালে খেলতে পারে। বাফুফে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলনেতা আমিরুল ইসলাম বাবু,পল থমাস স্মলি(ডাইরেক্টর টেকনিক্যাল কমিটি),বাফুফে সেক্রেটারী আবু নাইম সোহাগ,জাকির হোসেন (টিম ম্যানেজার),স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের ডাইরেক্টর ইকবাল বিন আনোয়ার ডনসহ অন্যান্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ