ঢাকা, শুক্রবার 08 September 2017, ২৪ ভাদ্র ১৪২8, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অসহায় রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ : বাঁচার জন্য একটু আশ্রয় চাই

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় মগবৌদ্ধদের নিষ্ঠুর ও অমানবিক গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানরা। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ বসতভিটে থেকে উচ্ছেদ হয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পাহাড়ি জঙ্গলে। অনেকে জীবন বাঁচানোর আশায় সকল ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ছুটে আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু এখানে এসেও মিলছে না খাবার, মিলছে না আশ্রয়, মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই, জীবনের একটু নিরাপত্তা। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা খাদ্যের জন্য হাহাকার করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনে ও সীমান্তে তাদের পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত রোহিঙ্গারা চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে কাতরাচ্ছে। চারদিকে কান্নার রোল আর হাহাকার। এমতাবস্থায় অসহায় রোহিঙ্গারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। পালিয়ে আসা এসব মানুষের জন্য প্রয়োজন খাদ্য, পানীয় এবং চিকিৎসা সুবিধা। এখনই এসবের জোগান নিশ্চিত না হলে মানবিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে বিশ্লেষকগণ মনে করছেন।
বিশ্ববাসী লক্ষ্য করছে যে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা রাত কাটাচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে খোলা আকাশের নিচে। সেখানেও অনেকের জায়গা না মেলায় তারা শয্যা পেতেছে রাস্তার উপর। অনেকেই আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড়-সমতল ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। দীর্ঘ পথ হাঁটার ক্লান্তি এবং অনাহারে-অর্ধাহারে শিশু এবং বৃদ্ধসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে এসব রোহিঙ্গার নিত্যসঙ্গী হয়েছে রোদ আর বৃষ্টি। পেটের ক্ষুধা মেটাতে নলকূপের পানিই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। তবুও বিশুদ্ধ নলকূপের পানিও মিলছে না অনেকের ভাগ্যে।
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে গত ২৫ আগস্টে নতুন করে ‘সার্জিক্যাল অপারেশনের’ নামে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে গত ১২ দিনে দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের প্রতিবেদনে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার কথা বললেও বাস্তবে এ সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর কর্মকর্তা ভিভিয়েন ট্যান বলছেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহে ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশে এর আগেও পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইসসিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমার সরকার আবারো রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা শুরু করার পর নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে।’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তনিও গুটেরেস সেখানে একটি মানবিক দুর্যোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে, রোহিঙ্গা অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্যই সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়েছে। সেইসাথে মিয়ানমার নিজেদের গা বাঁচাতে হাস্যকর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা এআরএসএ রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনটি গ্রামের ২৬২৫টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী এআরএসএ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, খোদ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে মুসলমানদের ওপর সহিংসতা ও গণহত্যা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উগ্র বৌদ্ধরাও মুসলিম গণহত্যা ও ধর্ষণে জড়িত রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারাও বলছেন, সেখানকার সেনাবাহিনী তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতেই বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে, নির্বিচারে হত্যা করছে রোহিঙ্গাদের। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়েছে। তারা আরো বলছে, সেখানে কেবল একটি রোহিঙ্গা গ্রামেই সাতশো বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে তারা স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখতে পাচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, এসব ছবি গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং এতে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসলীলার মাত্রা আসলে আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চাইতে অনেক বেশি।
সীমান্ত এলাকার জনৈক জনপ্রতিনিধি বলেন, ঈদের দিন ঘুমধুম সীমান্তে জাফর-আয়েশা দম্পতি মিয়ানমার সেনাদের গুলিতে নিহত হওয়ার পরই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। প্রতিটি সীমান্ত দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকছেন। যেসব সীমান্তে বিজিবির কড়া অবস্থান রয়েছে সেখানের জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে হাজার হাজার নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমান। রাতের আঁধারে কিংবা বৃষ্টিতে সুযোগ মতো তারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। কুতুপালং, বালুখালী ও লেদা রোহিঙ্গা বস্তি নিয়ন্ত্রণকারী মাঝিদের দাবি, তাদের একেক বস্তিতে নতুন করে ৫০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে আরো কয়েকটি বস্তি গড়ে তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। কুতুপালং অনিবন্ধিত ক্যাম্পের মাঝি আবু ছিদ্দিক ও মুহাম্মদ নূর জানান, তাদের ক্যাম্পে গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে আশ্রয় নিয়েছে। বালুখালী ক্যাম্পের মাঝি ইলিয়াছ ও ছৈয়দ নূর জানান, তাদের ক্যাম্প ও আশপাশ এলাকায় নতুন করে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন আশঙ্কাজনকহারে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকেছে। ঠিক কত সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এ সংখ্যা লাখেরও বেশি।
বাংলাদেশের নাফ নদীর পাশে শরণার্থী শিবিরে গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছেন রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের অনেকে দয়াপরবশ হয়ে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন কয়েকজনকে। ইউএনএইচসিআর এর স্থানীয় মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেখানে যে কয়টি শরণার্থী শিবির রয়েছে তাতে আর তিল পরিমাণ জায়গা নেই। কক্সবাজার থেকে রেড ক্রিসেন্ট এর সহকারী পরিচালক সেলিম আহমেদ বলেছেন, গত ২৫ শে আগস্ট মিয়ানমারে সংঘাত শুরুর পরপরই রোহিঙ্গা যারা বাংলাদেশে ঢুকেছে, তাদের বেশির ভাগই উখিয়ার কুতুপালং এ নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য তারা সীমান্তে তৎপর রয়েছেন বলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন। তারা আরো বলেন, ‘আমরা তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছি। ফিরিয়ে দেয়ার পরও মানবিক দিক বিবেচনা করে যারা নিতান্তই অসুস্থ বা বৃদ্ধ মহিলা, শিশু এবং আহত, তাদেরকে তো আমাদের আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা, এগুলো না দিলেই নয়। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছেন, এখনো আমরা সেটা দিয়ে চলেছি।’ এভাবে হাজারো বাধা পেরিয়ে জীবন বাঁচোনোর তাগিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ সংকটের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জনগণের প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করেছে। ভোক্তভুগী বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। এমনকি জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াংগি লি এবং নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই উভয়েই মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি এ সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য অত্যন্ত অমানবিক ও একপেশে বলে মনে হয়েছে। সেখানে তিনি সেনাবাহিনীর উপর আক্রমণের বিষয়টি হাইলাইটে এনে সন্ত্রাস মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর সাথে সুর মিলিয়েছেন। নির্যাতিত অসহায় লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার বিষয়ে তাঁর কোন সমবেদনা কিংবা উদ্বেগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেখতে এবং তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সফরে এসেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান। ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরে একটি প্রাইভেট বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলেত কাভাসুগলো ও তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিআইকা) প্রেসিডেন্ট সারদার ক্যাম। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান হত্যাকা-কে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এরদোগান শুক্রবার ইস্তাম্বুল শহরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, “মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে তা গণহত্যা। সবাই এ ঘটনায় চুপ রয়েছে এবং দূর থেকে তাকিয়ে দেখছে। গণতন্ত্রের আড়ালেই এ গণহত্যা চলছে।” বিষয়টি জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ বার্ষিক অধিবেশনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিশ্বসংস্থা থেকে এখনো পর্যাপ্ত কোন সাহায্য আসেনি এখানে। ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ অফিসের মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, নিবন্ধিত ক্যাম্পে আসা রোহিঙ্গাদেরকে সীমিত আকারে তাঁবু, খাদ্য ও ওষুধ দেয়া হয়েছে। অনিবন্ধিত ক্যাম্পে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট বেশি। কুতুপালং অনিবন্ধিত ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, ক্যাম্পে খাদ্য ও পানির সংকট বাড়ছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। আরাকানে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি ডাব্লিউএফপিসহ অনেক দাতা সংস্থা কাজ করছিল, সহিংসতা শুরু হওয়ার পর তাদের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। আরাকানের উত্তরাঞ্চলে ৮০ হাজারেরও বেশি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছিল, যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জুলাইতে রিপোর্ট করেছিল ডাব্লিউএফপি। এছাড়া যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে অনেক নারী অন্তঃসত্ত্বা, অনেকে সেখানে গিয়ে কেবল সন্তান জন্ম দিয়েছে, কারো একেবারে ছোট সন্তান রয়েছে, তাদের অবিলম্বে খাদ্য সহায়তা না দিলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র জানান, ‘মংডুতে রোহিঙ্গা শিশুরা এমনিতেই অপুষ্টিতে ভুগছিল, তাদের জন্য জরুরি খাদ্য দরকার ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কোনোরকম খাদ্য সহায়তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
বানের পানির মতো ভেসে আসা এ সব অসহায় বনি আদমের আশা ভরসার স্থল হৃদয়বান মানুষ। মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সেইসাথে সুকি-বৌদ্ধদের এমন নিষ্ঠুর গণহত্যা বন্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় তোলা দরকার। রোহিঙ্গাদের বসতভিটে তাদের নিজস্ব। হাজার বছর ধরে তারা মিয়ানমারের নাগরিক। অথচ মিয়ানমারের সেনা প্রধান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘রাখাইনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে তারা একটি ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাঙালি সমস্যা’ একটা দীর্ঘদিনের সমস্যা, যেটা সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ এটাকে তারা বাঙালি সমস্যা বলে চিহ্নিত করছে। বিশ্ববাসীকে বোকা বানিয়ে তারা একটি জাতিসত্তাকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। তাদের এ ভয়ানক ষড়যন্ত্রমূলক কর্মসূচি রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।
লেখক: প্রফেসর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ