ঢাকা, শুক্রবার 08 September 2017, ২৪ ভাদ্র ১৪২8, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাছ কেটে বনসাই লাগাতে নিষেধাজ্ঞা শত কোটি টাকার কাজে অনিশ্চয়তা

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর বনানী থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে রাস্তার দু’পাশের পুরাতন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সেখানে বনসাই লাগানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়। গতকাল পুরো প্রকল্প কাজের নতুন করে প্রস্তাবনা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভার ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে এখন নতুন করে প্রস্তাবনা তৈরি করার নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে একটি বড় ধরনের হোঁচট খেল এতদিন ধরে এগিয়ে চলা বনানী-এয়ারপোর্ট সড়কের নিরাপত্তা ও শ্রী বর্ধনের কাজ। বিদেশি কোম্পানির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিকে নতুনভাবে প্রস্তাবনা দিতে বলেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বনানী-টঙ্গী-জয়দেবপুর মহাসড়কের বনানী রেল ক্রসিং হতে এয়ারপোর্ট মোড় পর্যন্ত উভয় পাশে ৬ কিলোমিটার সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সম্পাদনের অনুমোদনের জন্য পাঠায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
এদিকে আগের প্রস্তাবনায় বলা হয়- বনানী-টঙ্গী-জয়দেবপুর মহাসড়কের বনানী রেল ক্রসিং হতে এয়ারপোর্ট মোড় পর্যন্ত মহাসড়কাংশটি এয়ারপোর্ট সড়ক নামে পরিচিতি। এ সড়কে প্রতিদিন বিদেশি-ভিভিআইপি, ভিআইপিসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ক্ষুদ্র আরবরিকালচার ইউনিট দ্বারা সড়কটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছিল না। ৯০ দশকের করা কাজের সঙ্গে আধুনিক সুবিধা যোগ করে যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষিতে  মহাসড়কটির  রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য স্পন্সর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র মতে,  গত বছর দরপত্রের মাধ্যমে বনানী-এয়ারপোর্ট মোড় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার মহাসড়কাংশটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ১০ বছর মেয়াদে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপকে নিয়োগ দেয়া হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় করবে ৯০ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার টাকা। আর এলইডি ডিসপ্লে বোর্ড, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, ডিজিটাল বিলবোর্ড ইত্যাদি স্থাপনের মাধ্যমে ৯৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা নেবে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবনাটি পর্যালোচনা করে পুনরায় পাঠানোর জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মন্ত্রিসভা কমিটির আজকের সভায় বনানী-এয়ারপোর্ট মোড় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার মহাসড়কাংশটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ১০ বছর মেয়াদে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান দ্বারা সম্পাদনের প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি। নতুন করে প্রস্তাবণা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ মহাসড়কাংশটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের এগিয়ে এনেছে। অধিকাংশ স্থানে উঠে গেছে নিরাপত্তা দেওয়ালের মূল কাঠামো। বাকি অংশের দেয়ালও নির্মাণাধীন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রকল্পের সূচনা করেন। এরইমধ্যে বেশ এগিয়েছে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ।
যদিও  প্রকল্পটির শুরুতেই বনসাই গাছ লাগানো নিয়ে তোপের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ উঠে- আসল’ গাছ কেটে ‘নকল’ গাছ লাগানোর। সড়কের ধারের কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া এবং অন্যান্য নানান জাতের গাছ কেটে বিদেশ থেকে আমদানি করা বনসাই গাছ লাগানো হয়েছে। এতে রাস্তার ধারের সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হয়েছে সে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তীতে বনসাই লাগানো বন্ধের নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ