ঢাকা, শুক্রবার 08 September 2017, ২৪ ভাদ্র ১৪২8, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্যবসায়ীর চোখ তুলে নেয়ার ঘটনায় খালিশপুর থানার ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনা : দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ শাহজালাল নামের এক ব্যক্তির চোখ উপড়ে ফেলে -ফাইল ফটো

খুলনা অফিস : খুলনায় দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে শাহজালাল নামের এক ব্যবসায়ীর চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম খান, ১০ পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর খালিশপুর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী ও মো. শাহজালালের মা রেনু বেগম বাদি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের আট কর্মকর্তা, তিনজন আনসার সদস্য এবং স্থানীয় দুইজন রয়েছেন। দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা যোগসাজসে তার ছেলে মো. শাহজালালের দুই চোখ উপড়ে ফেলেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় মোট দশজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচারক শহিদুল ইসলাম আদেশের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম খান, এসআই রাসেল, এসআই তাপস রায়, এসআই মোরসেলিম মোল্যা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নূর ইসলাম ও এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী, আনসারের সিপাহি আফসার আলী, ল্যান্সনায়েক আবুল হোসেন, নায়েক রেজাউল এবং খালিশপুর পুরাতন যশোর রোড এলাকার সুমা আক্তার ও শিরোমণি বাদামতলা এলাকার লুৎফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেল।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই বাদীর ছেলে মো. শাহজালাল স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত ৮টায় শাহজালাল তার শিশুকন্যার জন্য দুধ কিনতে দোকানে যাচ্ছিলেন। এ সময় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে কৌশলে তাকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। তার ফিরতে দেরি হওয়ায় খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে জীবনে শেষ করে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন ওসি। দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে স্বজনরা থানার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যান। কিন্তু তাকে রাতে আর থানায় আনা হয়নি। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বজনরা বাসায় ফিরে যান। পরদিন ১৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় তারা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, শাহজালাল নামে কেউ থানায় নেই। পরে খোঁজ খবর নিয়ে তারা জানতে পারেন, শাহজালাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১০-১১ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন শাহজালালের দুই চোখই উপড়ানো ছিল।
এ সময় স্ত্রী ও শাশুড়িসহ অন্যন্যরা জিজ্ঞেস করলে শাহজালাল তাদের বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গাড়িতে করে গোয়ালখালি হয়ে বিশ্ব রোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার হাত-পা চেপে ধরে এবং মুখের মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলে। পরে আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে আসে।’
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে শাহজালালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও সফল হননি। শাহজালালের দুই চোখই অন্ধ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে আসামী পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার দেখান।
মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবী মানবাধিকারকর্মী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আদেশের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ