ঢাকা, শুক্রবার 08 September 2017, ২৪ ভাদ্র ১৪২8, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় পাঁচটি প্রতিমা ভাঙচুর করলো ছাত্রলীগ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ৫টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগের  হামলায় মন্দির কমিটির সভাপতিসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, মন্দির কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল ঘোষ, পলাশ ঘোষ, বাবুলাল ঘোষ, কালিপদ ঘোষ, সুমন ঘোষ ও সুকুমার ঘোষ। এ ঘটনায় পুলিশ শাহরিয়ার ও চঞ্চল নামের দুই যবুককে আটক করেছে।
বুধবার গভীর রাতে আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি শংকর ঘোষ জানান, স্থানীয় গোলযোগকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষেদের ১৩ নং ওয়ার্ড সদস্য দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তার বাহিনী রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা চালায়। এতে নারী পুরুষসহ কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়। সন্ত্রাসী বাহিনীরা চলে যাওয়ার সময় কচুয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে চলে যায়। মন্দিরের ভাঙচুরকৃত মূর্তিগুলোর মধ্যে বিষ্ণু, ব্রম্মা দূর্গা, কার্তিকসহ ৫টি মূর্তি রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙ্গুর হোসেন জানান, আমি সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুর ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। জেলা পরিষদের সদস্য দেলোয়ার ও তার বাহিনী এ কাজ করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
জেলা পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে জানান, আমি স্থানীয় গুনাকরকাটি বাজারে চুল ছাটাই করছিলাম। আমার দুই ভাগ্নে শুভ ও শাওন আমাকে নিতে আসছিল। পথিমধ্যে কচুয়া ঘোষ পাড়া নামকস্থানে আসলে কিছু যুবক আমাকে নিয়ে কটূক্তি করছিল। এ সময় আমার ভাগ্নেদের সাথে তাদের কথাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা সঠিক নয় বলে তিনি জানান। 
তবে রাত ১২টায় চুলছাটার কোন ঘটনা ঘটেনি বলে গুনাকরকাটি বাজার কমিটি জানায়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মন্দির কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল ঘোষ ও কচুয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম শুভর সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার গভীর রাতে শুভ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে উজ্জ্বলের ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষায় অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। হামলা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা মন্দিরে ঢুকে বিষ্ণু, ব্রম্মা, দূর্গা ও কার্তিকের মূর্তি ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় পুলিশ সকালে শুভর সহযোগী চঞ্চল ও শাহরিয়ারকে আটক করে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি। এর আগে ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর একই এলাকাতে ১৫টি প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ