ঢাকা, শনিবার 9 September 2017, ২৫ ভাদ্র ১৪২8, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সবজি ও মাছের দাম বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল আযহার পর পরই বেড়েছে সবজি ও মাছের দাম। অধিকাংশ সবজির দামই আকাশচুম্বি। ৫০-৬০ টাকার কমে কোন সবজি নেই। দেশে বন্যার কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সবজি আর মাছের বাজারে মনিটরিং না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সবজি আর মাছ বাজারে অস্বস্তি  থাকলেও ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারের ক্রেতারা জানান, ঈদের তিনদিন মাছ ও সবজিতে ক্রেতা শূন্য ছিল। কিন্তু ঈদের চতুর্থ দিন থেকে চাহিদা বাড়ায় মাছ ও সবজি এই দুটোতেই দাম বেড়ে গেছে।

এই দাম বাড়ানোর অভিযোগের আঙ্গুল বিক্রেতাদের দিকে তাক করে ক্রেতারা জানান, ঈদ কোনো বিষয় নয়, বাজার মনিটরিং না থাকায় বিক্রেতারা যখন তখন নিজেদের মতো করে দাম বাড়ান।

কাঁচাবাজারে  দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, মরিচ ১৩০ টাকা, বেগুন ও বরবটি ৬০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ, কাকরোল ও ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সুজন মিয়া জানান, ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত টমেটো ১০০ টাকা ও বেগুন ৪০ টাকাসহ অন্যান্য সবজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল। কারণ ওই সময়ে সবজির চাহিদা তেমন ছিল না। তাই পঁচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত দুইদিন সরবরাহ কম। অনেক জেলায় বন্যার কারণে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। যেসব জেলা থেকে সবজি আসছে সেখান থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেজন্য দাম একটু বেশি। এই অবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও সপ্তাহ খানেকময় লাগতে পারে।

এদিকে মাছের বাজারে ইলিশ ছাড়া সব মাছেরই আকার ভেদে প্রতি কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি রুই ২৯০-৪৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-২০০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা। ইলিশ কেজি থেকে দেড় কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১২০০ টাকা। তবে মাছের আকার ও ওজন বাড়লে ইলিশের দামও বাড়ে।

বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লারের পাইকারি মূল্য ১১০ টাকা (প্রতি কেজি) এবং খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। পাকিস্তানী ৭০০ গ্রাম ওজনের মুরগির পাইকারি মূল্য ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, খুচরা বাজারে ১৫০ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের কক মুরগির পাইকারি মূল্য ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

ঈদুল আযহার আগে পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া রসুন কেজি প্রতি কমেছে ৪ থেকে ৫ টাকা। দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাষকলাই ১৩৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৫ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৩ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৮-৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ