ঢাকা, রোববার 10 September 2017, ২৬ ভাদ্র ১৪২8, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২ হাজার বছরের পুরনো পথে  ফেরত যাচ্ছে এশিয়া

 

৯ সেপ্টেম্বর, দ্য গার্ডিয়ান : বৈশ্বিক অর্থনীতির মাধ্যাকর্ষণের ভর ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। ১৮২০ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্র বা জিডিপির ভর এশিয়া থেকে ইউরোপের দিকে ধাবিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি আটলান্টিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। ১৯৬০, ৭০, ৮০ এবং ৯০’র দশকে এটি অবস্থান করে উত্তর গোলার্ধের পশ্চিমাংশে। মাত্র এক দশকের মধ্যে এই সূচকে অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটে। ২০০০ থেকে ২০১০ সালে মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রস্থল আবার এশিয়াতে ফিরে আসে অর্থাৎ গত ২ হাজার বছরের ইতিহাস আবার তার পুরনো পথে হাঁটতে শুরু করে। কখনো কখনো আমরা এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। গবেষণাপত্র ও বই ঘাঁটলে দেখা যাবে বর্তমান সময়টা এখন এশিয়ার শতাব্দীর। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তর কোরিয়া ও চীন নিয়ে নানা প্রতিবেদন হচ্ছে, যেখান মিয়ানমারের কথা উল্লেখ নেই। বিশ্বজুড়ে উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শাসনতান্ত্রিক আদর্শ নিয়ে কি হচ্ছে তা থেকে ইউরোপীয় নাগরিকরা অনেক দূরে অবস্থান করছে। ইউরোপিয় অঞ্চলে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈচিত্র, অভিবাসন, জার্মান নির্বাচন, ইমানুয়েল ম্যাক্রোর নীতি, ব্রেক্সিটের ঝড় বিয়ে বির্তক চলছে, এই সব উত্থানে চাপা পড়ে গিয়েছে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির বিপথগামী গণতান্ত্রিক অবস্থা ও পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি। এছাড়াও আমরা বিশ্বে আমাদের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি হবে তা ভুলে গিয়েছি ও ভুলে যাচ্ছি। একবার ওবামা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ২০১২ সালে আমাকে বলেছিলেন কিভাবে ইউরোপ অসহিঞ্চু হয়ে পড়েছে এবং এশিয়া নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলছে। এই সবকিছুই মানসিক প্রভাব। গবেষণায় দেখা যায়, উন্নয়নশীল এশিয় অর্থনীতি অনেক বেশি আশাবাদী, ৫৮ শতাংশ এশিয়ান তাদের অর্থনীতি নিয়ে প্রত্যাশার জাল বোনেন অন্যদিকে ইউরোপে এই হার ২৪ শতাংশ। এশিয়ার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও তাদের সন্তানের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, ভবিষ্যত তাদের কাছে উজ্জল এক নক্ষত্রের নাম। অন্যদিকে ইউরোপিয়রা সময়কে নিজেদের জন্য অনেক কঠিন বলে মনে করেন এবং তারা বিষণœ থাকেন। মূলত জনগণের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপরই একটি অঞ্চলের অবস্থার পরিবর্তন নির্ভর করে।

একসময় ইউরোপ তাদের অঞ্চলের মানুষের স্পৃহা ও উদ্যমের কারণেই বিকাশ লাভ করেছিল। বর্তমানে অ্যাঙ্গেলা মের্কেল ইইউ ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাক্রো পুর্নজাগরণ ও পরিবর্তনের কথ্া বলছেন, তাই এক দিক দিয়ে ইউরোপের নাগরিকরা সুন্দর ভবিষ্যতের জাল বুনতেই পারেন। ইউরোপের সংকট অধিক হলেও ম্যাক্রো ১৯৫০ সালের সেই উদ্যমকে আবারো ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা ও তার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

কিন্তু বর্তমানে কোন চ্যালেঞ্জই একটি রাষ্ট্রের পক্ষে একা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। ইউরোপের অবশ্যই একে অপরের সঙ্গে সংঘবদ্ধ থাকতে হবে। ঠিক এই সময়ই ব্রিটেন ইউরোপ থেকে সরে যাচ্ছে। যদি ইইউ নিজকে সত্যিকারের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে না পারে তাহলে বাহ্যিক হর্তাকর্তাদের চাপ আর নীতির নিচে চাপা পড়বে।

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে তাকালে দেখা যায়, উদার গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সামাজিক বাজার অর্থনীতি, সহমর্মিতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার মত উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। ইউরোপ এই ইস্যুগুলোতে সন্দেহে ভুগছে , ইউরোপের চাইতে বিশ্বের অন্য দেশগুলো এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছুটা সচেতন। শুধুমাত্র অভিবাসী ও শরণার্থী’র মত বিষয়গুলো খুব পরিষ্কার। ইউরো ব্যারোমিটার অপিনিয়ন পুলে দেখা যায়, তিন-তৃতীয়াংশ চীনা এবং ইন্ডিয়ার নাগরিক ‘ইউরোপকে অসহিঞ্চু বিশ্বের স্থিতিশীল স্থান’ বলে মনে করেন। ৮০ শতাংশের ও বেশি নাগরিক ইউরোপের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন অন্যদিকে ইউরোপে এই হার ৬৯ শতাংশ। সমীক্ষায় দেখা যায়, ইউরোপকে এশিয়রা ‘অর্থনৈতিক, শৈল্পিক এবং বাণিজ্যিক শক্তি, জীবনমানের উন্নতি, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবাধিকার এবং আইনের বাস্তবায়ন’ ঘটনো অঞ্চল হিসেবেই চিহ্নিত করে থাকে।

সবশেষে বলা যায়, এই শতাব্দীটা হয়তো এশিয়দের হবে কিন্তু খেলার কার্ড ইউরোপের হাতেও আছে। বরঞ্চ বলা চলে, চাইলে তারা খুব ভাল খেলতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ