ঢাকা, রোববার 10 September 2017, ২৬ ভাদ্র ১৪২8, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যু ধামাচাপা দিতে সরকার কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে - খন্দকার মোশাররফ

 

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা ইস্যু ধামাচাপা দিতে সরকার কূটকৌশল এর আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই অভিযোগ করেন। মোশাররফ বলেন, সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য রেখেছেন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা পৃথিবী দেখছে যে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠিকে নির্মূল করে দেয়ার জন্য আজকে মিয়ানমার সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। আমরা শুধু এদেশের মানুষের মনের কথাকে শুক্রবার মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিধ্বনি করেছি, এখানে নোংরা রাজনীতির প্রশ্নই উঠে না।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে খন্দকার মোশাররফ গতকাল সকাল সাড়ে ১০ টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে গিয়ে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি জেবা খান, যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ কয়েক‘শ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতা-কর্মীরা মরহুম নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত অংশ নেয়।

 রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সরকার কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আজকে ঠিক মিয়ানমার সরকারের মতোই এই বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য নানা কৌশল, কূটকৌশল গ্রহণ করেছে। যেটা এই দেশের জনগণ মোটেই পছন্দ করছে না। আমরা মনে করি, আমরা যা বলছি, সারা পৃথিবী যা দেখছে- এটাই সত্য। আর মিয়ানমার যা বলছে, বাংলাদেশ সরকার তাদের পক্ষে সাফাই গাইছে-এটা সঠিক নয়।

শনিবার মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা রাজনীতির নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন। আপনাকে ও আপনার দলকে বলব, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইস্যু সৃষ্টি করে রাজনীতির নোংরা খেলা থেকে বিরত থাকুন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়নের শিকার হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশ পানে ছুটছে। কয়েক দশক ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে শরণার্থী নিতে অনীহ হলেও এরই মধ্যে মিয়ানমারের  দেড় লক্ষাধিক মুসলিম নাগরিক ঢুকে পড়েছে।

 রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠির নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, তারা (মিয়ানমার সরকার) একটা জাতি গোষ্ঠিকে নির্মূল করে দেয়ার জন্য সরকারিভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এটাকে কখনো আমরা সমর্থন করতে পারি না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও কিন্তু আমাদের এদেশ থেকে বহু শরনার্থী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলো কিন্তু আমাদের যারা বিরুদ্ধে ছিলো তারা ওই সময়ে বলেছিলো এখানে এটা কোনো বিষয় না এরা অযথা বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের নাগরিক তার ভিটে মাটি, তার সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে এভাবে পালিয়ে আসতে পারে- সেখানে যদি সেইভাবে একটা ধ্বংসাত্মক এবং সর্বাত্মক একটা হত্যাযজ্ঞ না হয় তাহলে বাড়ি-ঘর ছেড়ে তারা পালিয়ে আসতে পারে না। এটাই প্রমাণ যে, আমরাই সঠিক কথা বলছি, সরকারই বরং ধামাচাপা দিচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আর কোনো কর্মসূচি বিএনপি দেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, পরবর্তি করণীয় নির্ধারণ হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে যথা সময়ে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে এদেশের জনগণের মনোভাব প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই এই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী, সেখানে তাদের জন্মগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে আক্রমন হচ্ছে, তারা প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে আসছে। তাদের সাময়িকভাবে এখানে আশ্রয় দিয়ে পরর্বতীকালে তাদেরকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তারা যেন তাদের নাগরিকত্ব পায় সেজন্য সরকারকে যথাযথ কুটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ