ঢাকা, রোববার 10 September 2017, ২৬ ভাদ্র ১৪২8, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধের দাবিতে  সুজনের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন। গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত।

মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সুজন মহানগর কমিটির জুবায়েরুল হক নাহিদ, সহ-সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী ও মো. নাজিমউদ্দিন, ঢাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার শেলী, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইউনূস আলী মাসুদ ও মো. সেলিম, জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক সেলিনা হাফিজ, জাভেদ জাহান, মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মায়ানমারে রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন থেকে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নতুন করে গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যা। মূলত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের নামে চলছে এই হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যেই নিহতের সংখ্যা সহ¯্র ছাড়িয়েছে।

সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা ও প্রাণ বাঁচানোর জন্য লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পালিয়ে আসার সময়ও পলায়নপর মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। পলায়নের সময় নৌকাডুবিতেও প্রাণ হারিয়েছে অনেকে। এখন পর্যন্ত নৌকাডুবির ঘটনায় ৯১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে অদ্যাবধি প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

বর্তমানে রাখাইনে যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিশ্বের সচেতন ও মানবতাবাদীদের এগিয়ে আসাসহ বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে মানববন্ধন থেকে জোরালো দাবি জানায় সংগঠনটি।

তাদের দাবিগুলো হলো, অবিলম্বে রাখাইনে গণহত্যা বন্ধ করা, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলসহ জাতিসংঘকে যুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার, জাতিসংঘ কর্তৃক মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাখাইনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশে আশ্রিত শরনার্থীদের দ্রুত স্বদেশে ফেরত নেয়াসহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যথাযথ পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ, শরনার্থীদের যথাযথভাবে নিবন্ধন করাসহ পরিচয়পত্র প্রদান করা, যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরনার্থীরা বাংলাদেশে অবস্থান করবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের ব্যয়ভার অন্যান্য রাষ্ট্র তথা দাতাগোষ্ঠী কর্তৃক বহন করা, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত ‘রাখাইন রাজ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিশন’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখিত সুপারিশসমূহ মিয়ানমার সরকার কর্তৃক অবিলম্বে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী যাতে অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ