ঢাকা, রোববার 10 September 2017, ২৬ ভাদ্র ১৪২8, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘ ওআইসিসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান

চট্টগ্রাম অফিস : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা.ধর্ষণ এবং বাড়িতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে, অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ, পালিয়ে আসা অসহায়,নারী,পুরুষ ও বৃদ্ধদের  আশ্রয় প্রদান,তাদের সার্বিক সহযোগিতা দানের জন্য এবং তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করার দাবী জানিয়ে চট্টগ্রামের ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ একযৌথ বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে চট্টগ্রামের ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মিয়ানমার সরকার ও মগ উগ্রসেনারা এবং বৌদ্ধ জঙ্গীরা নির্বিচারে মুসলিম নিধন করলেও জাতি সংঘসহ বিশে^র মানবাধিকার সংগঠন গুলো আজ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন,মিয়ানমারে মুসলিম জাতিসত্তা নিধনের বিরুদ্ধে সকল মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, রোহিঙ্গা মজলুম মুসলমানদের রক্ষার জন্য জাতিসংঘ,ওআইসি ও আসিয়ানভুক্ত দেশ সমূহসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। বিবৃতিদাতা চট্টগ্রামের ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ হলেন, প্রফেসর ড: অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান ড: অধ্যক্ষ মাওলানা এ. টি. এম. তাহের, ড: প্রফেসর হেলাল উদ্দিন মো: নোমান, শাহজাদা মুহাদ্দিছ মাওলানা মুনিরুল মান্নান, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী, মাওলানা মামুনুর রশিদ নুরী, ড: প্রফেসর মাওলানা নিজাম উদ্দিন, মুফতি হাফেজ মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা আনোয়ার হোসেন ও মুফতি মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যক্ষ মাওলানা মিয়া মুহাম্মদ হোসাইন শরীফ, মাওলানা নুরশেদুল ইসলাম ও মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রমুখ।

চট্টগ্রামে আরাকান সংহতি পরিষদের এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন,অংসান সূচির দাবি অনুযায়ী যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের মধ্যে যাদের কাছে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব/ আইডি কার্ড আছে তাদেরকে পুনরায় আরাকানে ফেরত যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে তার এই শর্তযুক্ত বক্তব্যটি বিশ্ববাসীর সাথে সম্পূর্ণ ধাপ্পাবাজী ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ অংসান সূচির বর্তমান ক্ষমতাসীন দলে আরাকান থেকে নির্বাচিত তার দলীয় ৭ জন মুসলিম রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার বর্তমান সরকারের সাথে কার্যরত আছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো আরাকান এলাকা থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভোটে নির্বাচিত এই ৭ জন সংসদ সদস্য কাদের ভোটে নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়েছেন? ঐ ৭ জন সংসদ সদস্যকে যারা ভোট দিয়েছেন তারা অবশ্যই মিয়ানমারের বৈধ ভোটার এবং বৈধ নাগরিক। এটা অংসান সূচিকে মেনে নিতে হবে। বাস্তবতা হলো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দ্বারা যে ৭ জন পুলিশ হত্যার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিগত অক্টোবর ২০১৬ সালের সংঘটিত মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক আরাকানের মুসলমানদের উপর হামলা করে হাজার হাজার মুসলিম নরনারী হত্যা ও লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে আরাকান থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে পুশ ইন করে শরণার্থী বানানো হয়েছে। অনুরুপভাবে এবারও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় এবং বার্মিজ সেনা গোয়েন্দা বাহিনীর মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে সম্পূর্ণ বার্মা রাজ্যকে মুসলিম শূন্য ও একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় মৌলবাদী রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবারও গত ২৪ আগস্ট কফি আনানের নেতৃত্বে আরাকানের মুসলিমদের নাগরিকত্ব প্রদানের সুপারিশসহ রিপোর্ট প্রকাশের দিনই রাতের গভীরে কিছু চেকপোস্টে মুখোশ পরিহিত বার্মিজ সেনাবাহিনীর লোকেরা নিজেরাই হামলা চালিয়ে কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে।  তারপরের নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক হামলা করে সেনা সদস্য হত্যার মিথ্যা অজুহাত সৃষ্টি করে তার প্রতিশোধ কল্পে ২৫ আগস্ট গভীর রাত থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সদস্য এবং বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা আরাকানের সকল মুসলিম গ্রাম/ জনপদ ঘেরাও করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ২৫ মার্চ কালো রাতের মত সমস্ত রোহিঙ্গা পল¬ীতে একযোগে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মুসলিম নারী পুরুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জান বাঁচানোর তাগিদে চলে আসার সময় তাদের নাগরিকত্ব সনদ ও ভোটার আইডিকার্ডসহ জায়গা জমির কোন ডকুমেন্ট তারা সংগে আনতে পারেননি। তদুপরি রোহিঙ্গাদের সমস্ত বাড়ী ঘর ও গ্রাম অফিস আদালত স্কুল মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়ায় তাদের নাগরিকত্বের কাগজপত্র ও আইডি কার্ড বা কোন ডকুমেন্ট এখন আর তাদের কাছে রক্ষিত নাই। এ কথাটা অংসান সূচি ভাল করেই জানেন বলে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার জন্য নাগরিকত্বের সনদ বা আইডি কার্ড থাকলে তাদেরকে আরাকানে ফেরত নেয়া হবে বলে এই অযৌক্তিক ও অমানবিক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তাই বক্তাগণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত তালিকাভুক্ত শরণার্থীদেরকে বিনা শর্তে নাগরিকত্ব দিয়ে আরাকানে ফেরত নেয়ার জোর দাবী জানান এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষি বাহিনী স্থায়ী ভাবে নিযুক্ত করে তাদের পূর্বেকার জমিজমা স্থাবর অস্থাবার সম্পত্তি ফেরত প্রদানের দাবী জানান এবং তাদেরকে জাতিসংঘ ও বিশ্ব সাহায্য সংস্থা কর্তৃক উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবী জানান। ৮ সেপ্টম্বর সকাল ১০ টায় চট্টগ্রামস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে “আরাকান সংকট ভূতাত্ত্বিক স্ট্র্যটেজি ও বাংলাদেশের করণীয় শীর্ষক” আলোচনা সভা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা কলিমুল¬াহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনা অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুস সাত্তার, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ চৌধুরী, সিএমপির সাবেক ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গির আলম, হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা আল¬ামা মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, সাংবাদিক ওসমান গণি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা কামরুল ইসলাম, এডভোকেট মো. কায়ছার, কে এম আলী হাসান, কবি মো. ফরিদ মিল¬াত, মো. সাব্বির আহমদ, সিরাজুল মাওলা প্রমুখ। বক্তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং বেসরকারি ব্যক্তি ও সংগঠনের ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সহজভাবে পৌঁছানোর জন্য কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফের সরকারী কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দানের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।

 বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি-চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ কর ও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধ করার দাবিতে  স্মারকলিপি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রুহুল আমীনকে প্রদানকালে বক্তারা বলেছেন ধর্ম বড় বিবেচ্য বিষয় নয়। মানুষ হত্যা সভ্যতার বড় অপরাধ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন মিয়ামারের গত ২৫ আগষ্ট থেকে সেখানকার রোহিঙ্গা গণহত্যা করে মিয়ানমার সরকার নিজেদের মানবতার শত্রু রূপে পরিচয় দিয়েছে। বক্তরা বলেন অবিলম্বে মিয়ানমারে মানুষ হত্যার বন্ধের দাবি জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন মানবিক চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার এক লাখের অধিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। বক্তারা রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমারে অং সান সুচির ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিচারের দাবিতে জাতিসংঘ ও অন্তর্জাতিক আদালতের প্রতি জোর দাবি জানান। এছাড়া  বক্তারা বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী আগ্রাসন রুখে দেওয়ার জন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করার আহবান জানান। স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি লায়ন একে জাহেদ চৌধুরী, কার্যকরী সভাপতি আলি আহমেদ শাহিন. সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ দিদার আশরাফী,  অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খান, মু্িক্তযোদ্ধা এস এম আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা মিনাজুর রহমান মিলন,  প্রণবরাজ বড়–য়া, জাকির হোসেন, পারভিন আক্তার-চৗধুরী, রোজী চৌধুরী, মোহাম্মদ এজাহারুল হক, সেমিল উদ্দিন ডিপলু, আনিস আহমেদ খোকন, রিমন মুহুরী, রূপালী খাতুন, হারুনুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম রাজু, ইউনুস মিয়া, মোহাম্মদ আলমগীর প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ