ঢাকা, রোববার 10 September 2017, ২৬ ভাদ্র ১৪২8, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাগেরহাটের আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উদ্বোধন শীঘ্রই

খুলনা অফিস : বিশ থেকে পঁচিশ বছর আগে গুটিকয়েক মোরগ-মুরগির বাচ্চা লালন পালন করার মধ্য দিয়ে সরকারিভাবে শুরু করা মোরগ মুরগী পালন কেন্দ্র হয়। বর্তমানে এখানে চালু হতে যাচ্ছে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে বাগেরহাটের কাঁঠাল এলাকায় প্রজনন কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। আর এই খামারটি স্থাপন করার ফলে এলাকায় বেসরকারি পর্যায়ে নতুন নতুন হাঁস খামার গড়ে উঠবে। এতে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা সমাধান হবে অপরদিকে স্থানীয়ভাবে আমিষের চাহিদা পুরণ হবে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, সুলভ মূল্যে হাতের নাগালে উন্নত জাতের হাঁসের বাচ্চা পেলে এলাকায় বেসরকারিভাবে হাঁস পালনে বিপ্লব ঘটবে এবং উৎপাদিত ডিম স্থানীয়দের আমিষের চাহিদা মেটাবে।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠাল এলাকায় ৩ একর জমির উপর ২০/২৫ বছর আগে বাগেরহাট সরকারি মোরগ-মুরগী পালন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এই কেন্দ্রে এক দিনের মুরগীর বাচ্চা এনে বড় করে বিক্রি করা হতো। সম্প্রতি সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হাঁসের খামার বেড়ে যাওয়ায় ওই মুরগী পালন কেন্দ্রেটিতে নির্মাণ করা হয়েছে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘হ্যাচারীসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন প্রকল্পে’র আওতায় ২০১২ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই খামারটিতে সকল প্রকার আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। একটি হ্যাচারী ভবন, ৬টি লেয়ার সেড, একটি করে গ্রোয়ার সেড, ব্রুডার সেড, গোডাউন, গ্যারেজ, ডরমেটরি ও অফিস ভবন রয়েছে।

বাগেরহাট আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি বর্তমানে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকলেও পরিক্ষামূলক ভাবে দুই ধাপে আনা হয়েছে ২ হাজার খাকী ক্যাম্বেল ও জিংডিং জাতের হাঁস। প্রথম ধাপের ১ হাজার হাঁসের মধ্যে ৪শ পুরুষ হাঁস স্থানীয়দের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। বাকি হাসগুলো কিছু দিনের মধ্যে ডিম দেবে। খামারটিতে ৬ হাজার উন্নত জাতের হাঁস পালন করা যাবে। ফলে মাসে উৎপাদিত হবে ৪০ হাজার হাঁসের বাচ্চা ও ৮০ হাজার ডিম।

স্থানীয় হাঁস খামারী স্বপন কুমার বসু জানান, তিনি একজন সফল হাঁস খামারী। দীর্ঘদিন থেকে তিনি তার খামারের জন্য হাঁসের বাচ্চা যশোর ও খুলনা থেকে নিয়ে আসেন। এতে তার প্রচুর খরচ পড়ত। কাঁঠাল এলাকায় সরকারিভাবে নির্মিত হাঁসের খামার থেকে সুলভে উন্নত জাতের হাঁসের বাচ্চা নিতে পারলে পরিবহন খরচ অনেক কম হবে। পাশাপাশি কম দামে বাচ্চা কিনতে পারায় আরো বেশি লাভ হবে। শুধু তিনিই নন এরকম আরো অনেক খামারী লাভবান হবেন।

স্থানীয় যুবক সামসুর রহমান জানান, কাঁঠাল এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হাঁস খামার থেকে স্থানীয় বেকার যুবকরা হাঁসের বাচ্চা নিয়ে নতুন নতুন খামার গড়ে তুলবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বশিরুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল গ্রামে সরকার যে হাঁস খামার নির্মান করেছে তা এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে। এখান থেকে সল্প মূল্যে হাসের বাচ্চা নিয়ে এলাকার যুবক-যুবমহিলা হাঁসের খামার গড়ে তুলবে। এতে তাদের কর্মস্থলের ব্যবস্থা হবে।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুজ্জামান খান বলেন, বাগেরহাট শহরতলীর কাঠাল এলাকায় ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে যে হাঁস প্রজনন খামার নির্মান করা হয়েছে তা অল্প দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। খামারটি আমিষের পুষ্টির ঘাঁতি পুরণ ও দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এখানে হাঁসের ডিম থেকে একদিনের হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে বাগেরহাটসহ পার্শ্ববর্তি জেলাসমুহের খামারিদের কাছে সল্প মূলে সরবরাহ করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা জানান, ‘কাঁঠাল এলাকার সরকারি মুরগী খামারটি অনেকদিন থেকে পরিত্যক্ত ছিল। বিষয়টি আমি সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করি। তারই অংশ হিসেবে হাঁসের এই খামারটি এখানে নির্মান হয়। পরিক্ষামূলকভাবে এখানে কিছু হাঁসের বাচ্চা এনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এখান থেকে উন্নত জাতের হাঁসের বাচ্চা নিয়ে ছোট-বড় খামার গড়ে উঠবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, আমিষের চাহিদা পুরণে মাংশ ও ডিমের গুরুত্ব অনেক। সেই দিকে খেয়াল রেখে হাঁস মুরগী পালনের দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সহজে ও কমমূল্যে যাতে খামারীরা হাঁসের বাচ্চা পেতে পারে সে লক্ষ্যে বাগেরহাটে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার প্রতিষ্ঠা করা হযেছে। খামারটি বাগেরহাটে স্থাপনের ফলে শুধু বাগেরহাট জেলা নয় পার্শ্ববর্তী জেলার খামারিরাও অনেক উপকৃত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ