ঢাকা, রোববার 10 September 2017, ২৬ ভাদ্র ১৪২8, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভুয়া ওয়ারেন্টে ১০ দিন ধরে জেল হাজতে রয়েছে আগৈলঝাড়ার এক দিনমজুর

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : ঢাকার শাহ আলী থানার ভুয়া মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেড আদালতের ভুয়া ওয়ারেন্টে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে এক দিনমজুরকে। গত ১০ দিন ধরে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন ওই দিনমজুর। আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ জানান, গত ২৮ আগস্ট থানায় আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাকাল গ্রামের মৃত হরিপদ দাসের পুত্র দিনমজুর উৎপল দাস(৪৫) ও তার ছোট ভাই গৌতম চন্দ্র দাস(৪০)র নামে ঢাকা শাহ আলী থানার মামলা নং-৩৭(২)১৭ নং মামলার ওয়ারেন্ট থাকার আদেশ থানায় আসে। এ সময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তা তামিল করার জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ হোসেনকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এসআই জাহিদ গত ১ সেপ্টেম্বর উৎপল দাসকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে সোপর্দ করেন। আদালতের বিচারক তাকে বরিশালে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে হতদরিদ্র দিনমজুর উৎপল অদ্যবধি জেল হাজতে রয়েছেন। ছোট ভাই গৌতম দাস পুলিশের ভয়ে পালিয়ে

 বেড়াচ্ছে। ঢাকা শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমার থানায় ১৮টি মামলা রেকর্ড হয়। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের উৎপল দাসকে যে মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে সেই মামলা নং ৩৭। হয়তো এটা কোন প্রতারক চক্রের কাজ হয়ে থাকতে পারে। দিন মজুরের বোন সবিতা রানী দাস (৩৫) জানান, তার অসহায় হতদরিদ্র দাদা দিন মজুরের কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১০দিন জেল হাজতে থাকায় তার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভুয়া মামলার ভুয়া ওয়ারেণ্ট দিয়ে তাদেরকে হয়রানী করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই গ্রামের মৃত সতীস দাসের পুত্র গবিন্দ দাস (৪৫) তার সহদর দীপক দাস (৩৫) ও তাদের সহযোগীরা জাল জালিয়াতি করে মোগো সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় দাদা উৎপল দাস বাদি হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় জালিয়াতির মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ওই মামলাটি তদন্ত শেষে গত ২ জুন পুলিশ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দাদা উৎপল দাসকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ জালিয়াতি করে ভুয়া মামলার ভুয়া ওয়ারেন্ট বের করে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে হয়রানি করেছে। অভিযোগ সম্পর্কে গবিন্দ দাস ও তার সহদর দীপক দাসের কাছে জানতে চাইলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওয়ারেন্টের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক এ প্রসঙ্গে বলেন, থানায় ওয়ারেন্ট এসেছে তাই দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা তা তামিল করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি ওয়ারেন্ট ভুয়া কিনা সেটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একজনকে ভ্রাম্যমান আদালতে দ- ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মোকসেদ হাওলাদারের ছেলে শফিকুল ইসলাম রানাকে ১পিচ ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ শফিকুলকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেলের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শফিকুলকে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। একইদিন কোটালীপাড়া উপজেলার শিকিরবাজার এলাকার আ. হক মিয়ার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী হাচিফ মাহমুদকে (৩০) আমবৌলা এলাকা থেকে ৬ পিচ ইয়াবাসহ এসআই শাজাহান গ্রেফতার করেন। অন্যদিকে উপজেলার পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রিয়লাল সরকারের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী গোবিন্দ সরকার (২০) ও ঐচারমাঠ গ্রামের মঙ্গল বিশ্বাসের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাগর বিশ্বাসকে (২২) মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে ৩পিচ ইয়াবাসহ এসআই জাহিদ ও এএসআই নেছার উদ্দিন গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেন। গতকাল শনিবার সকালে দ-প্রাপ্ত শফিকুল ও  মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী ৪জনকে বরিশাল প্রেরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ