ঢাকা, সোমবার 11 September 2017, ২৭ ভাদ্র ১৪২8, ১৯ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গারাও শরণার্থীদের আশ্রয় দেন ১৯৭১ সালে

ইসমাঈল হোসেন দিনাজী : আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বাংলাদেশী শরণার্থীদের কেবল ভারতই সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। আশ্রয় দিয়েছে এমন নয়। তবে ভারত বড়দেশ। আমাদের সীমান্ত ও ভারতের সীমান্ত বিরাট এলাকাজুড়ে। এজন্য শরণার্থীদের সিংহভাগই ভারতে গিয়ে আশ্রয়গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সীমান্ত আর মিয়ানমার তথা সাবেক বার্মার সীমান্ত কম হলেও হাজার হাজার শরণার্থী সেসময় রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেন। 

ভারত যেভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় ও নানাবিধ সহযোগিতা দিয়েছে, সেভাবে হয়তো সম্ভব হয়নি। কিন্তু হাজার হাজার শরণার্থী যেভাবে জীবন নিয়ে রাখাইন প্রদেশে পালিয়ে গিয়ে ওদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন তা কম কীসে? আর এজন্য হয়তো অনেক বিপদ সত্ত্বেও নাফ নদীর ওপার থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছেন কক্সবাজারের সীমান্তবাসী বাংলাদেশীরা। এটাই স্বাভাবিক। 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. পিনাকি ভট্টাচার্য লিখেছেন, 

‘আমরা শুধু শুনে এসেছি মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের শুধুমাত্র ভারতই আশ্রয় দিয়েছিল। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় বার্মাতেও বাংলাদেশের শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছিল, আর তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিল মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশেই।

১৯৭১ সালের ১৮ই জুন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বার্মার জনগণ আর সরকারকে ধন্যবাদ জানান।’ (সূত্র: মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, ৩য় খ-, পৃষ্ঠা-৫৩)।

ডা. পিনাকি আরও উল্লেখ করেন, ‘অবশ্য বার্মার মুসলিম জনগণের বদান্যের এ ইতিহাস মুছে দিয়ে ভারতকে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পূর্ণ কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে। সেকারণেই রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়ায় আমাদের চেতনাশিবিরে কোনও গ্লানি হয়নি। নিশ্চয় রোহিঙ্গাদের মধ্যে বয়স্করা এই ঘটনা জানেন। তারা আমাদের কী বলেছেন? আমাদের নিয়ে কী ভেবেছেন, ভাবুন একবার। একবারও কি কেউ বলেননি, অকৃতজ্ঞ।’*

সরকাররের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, ‘গণহত্যার শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে সীমান্ত খুলে দিন। শরণার্থীশিবির চালু করুন। বাংলাদেশের আপামর মানুষ এটাই চায়। মানুষের হৃদয়ের কথা শুনুন।’

আসলে আমরা ইতিহাস ভুলে গেছি। ভুলতে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ এমন ইতিহাস আমাদের জানা থাকলে, তরুণ প্রজন্ম আসল কথা জেনে ফেললে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সার্বিক সহযোগিতার একক কৃতিত্ব যে বন্ধুদেশটির থাকে না! 

আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর এখন যে জুলুম-নির্যাতন রাখাইন বৌদ্ধ ও মিয়ানমার সৈন্যরা চালাচ্ছে তা সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এমনকি তা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।

অনেক বছর ধরে বিতাড়িত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে শিবিরে অবস্থান করছেন। তাদের জীবনযাপন যার পর নেই মানবেতর। এর মধ্যে আবার সোয়া লাখের অধিক রোহিঙ্গা বিভিন্ন ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে পড়েছেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টের নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন আরও কয়েক লাখ। সুযোগ পেলেই তারা ঢুকে পড়ছেন বাংলাদেশে জীবন বাঁচাতে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে কয়েকদিনের মধ্যে ঢুকেপড়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা  লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে। কোনও কোনও এনজিও বলছে আরও বেশি। কেউ কেউ বলছেন, ইতোমধ্যে দুই থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয়স্থল গড়ে তুলছেন। তবে এসংখ্যা যে আরও বেড়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বলে জানায়। 

রাখাইন সসস্ত্র বৌদ্ধ ও মিয়ানমারের সৈন্যরা নিরপরাধ রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। জ্বালিয়ে দিচ্ছে তাদের বাড়িঘর। নারীদের শ্লীলতা হানি করছে। এরপর তাদের আগুনে ছুঁড়েমারা হচ্ছে। দুধের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না নরপশুদের হাত থেকে। অবোধ দুধের শিশুদের আগুনে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে। জীবদ্দশায় হাত-পা কেটে নিয়ে ছুঁড়েমারা হচ্ছে নাফনদীতে। এছাড়া রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের রাইফেলের বেয়োনেটে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জান বের করে দেয়া হচ্ছে। জীবদ্দশায় কারুর কারুর হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। কুড়োল দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে অথবা ধারালো তরবারি দিয়ে জীবদ্দশাতেই ধর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে পৈশাচিক উল্লাস প্রকাশ করছে রাখাইন বৌদ্ধ ও সৈনিকেরা। আবার এসব নিষ্ঠুরতার ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ফেসবুক ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। 

 বৌদ্ধসন্ন্যাসীরা ‘অহিংস’ বাণী  প্রচার করলেও তাদের কার্যকলাপ এর বিপরীত। বুদ্ধদেব ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ এমন মহৎ বাণীর প্রেরণাদাতা হলেও তার অনুসারীরা হিংসার দাবানল জ্বালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের আরাকানে।

রাখাইন অস্ত্রধারী ও সৈন্যদের অনেকে না হয় মূর্খ। স্বার্থপর। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর লুটে নেবার জন্য তাদের লোভ কাজ করছে। কিন্তু শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি কী করছেন? তার মুখ কুলুপ আঁটা কেন? আসলে মিয়ানমারে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সেনাবাহিনীর সঙ্গে আপোস করেই সু চি ক্ষমতায় আছেন। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু করবার নেই সু চির।

চীন, ভারতসহ কোনও কোনও দেশ মজলুম রোহিঙ্গাদের পক্ষে না দাঁড়িয়ে লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে। মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে। শেষতক সৌদিআরব রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে। এজন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি দিয়ে চুপ থাকলেই চলবে না। মজলুমের পক্ষে শক্ত পদক্ষেপ নিতে তার সমস্যা কোথায়? 

মিয়ানমারবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে চিহ্নিত করে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে গুলি ও ধর্ষণের মুখে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ কে না জানে, আরাকান একসময় স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। রোহিঙ্গারা সে আরাকান রাষ্ট্রের নাগরিক। পরে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় তদানীন্তন বার্মা সরকার। সেই থেকে রোহিঙ্গারা নিজভূমে পরবাসী। অং সান সু চির এসব কথা বিস্মৃত হবার কথা নয়। কিন্তু তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের অধিকারের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। আমরা তার এ ন্যক্কারজনক ভূমিকার জন্য যারপরনাই বিস্মিত। 

মিয়ানমারবাহিনী এতোটাই বেপরোয়া হয়ে পড়েছে যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তারা মানুষই মনে করছে না। বাবা-মাকে বেঁধে রেখে তাদের সামনে মেয়েদের দলবেঁধে ধর্ষণ করছে। ছেলেদের টুকরো টুকরো করে কেটে কুকুরকে খাওয়াচ্ছে। ওদের আর্তনাদ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের কানে পৌঁছে না। শিশুদের গুলি করে আগুনে ছুঁড়ে ফেলে এই নরপশুরা উল্লাসের ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। এমনই মানবিক বিপর্যয় ঘটছে সেখানে প্রতিদিন। এমতাবস্থায় বিশ্ববিবেক কী করে চুপ থাকে তা আমাদের বোধগম্য নয়। 

প্রকৃতপক্ষে নাফ নদী এখন রোহিঙ্গাদের লাশের নদীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভেসে আসছে নারী ও শিশুর অসংখ্য লাশ। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়ছে। নদীতে লাশের মিছিল। প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসছে প্রতিদিন হাজার হাজার অসহায় মানুষ। অথচ সু চি বলছেন, এসব নাকি সত্য নয়। বাহ্ কী তীক্ষèদৃষ্টি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির!

রাথিদং ও বুথিদংয়ের জঙ্গলে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শত শত শিশু খাদ্য ও পানির অভাবে মারা যাচ্ছে। গাছের পাতা ও শেকড় চিবিয়ে খেয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন রোহিঙ্গারা। বিতাড়িত রোহিঙ্গারা যাতে কোনওভাবে ফিরতে না পারেন সেজন্য মিয়ানমারের সেনারা সীমান্তের পথে পথে স্থল মাইন পুঁতে রাখছে।

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, মালদ্বীপ রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করবে তুরস্ক। তুরস্কের ফার্স্টলেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে সীমান্তে গিয়ে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেছেন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা জানানো হয়েছে।

বুদ্ধদেবের অনুসারীরা এতো হিংস্র জানোয়ারে পরিণত হতে পারে- তা রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের নিষ্ঠুরতা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল বৈকি। অবশ্য চীনা বৌদ্ধরাও সেদেশের মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশগুলোতে অনেক নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে। এখনও তা থেমেছে বলা যায় না। জোর করে মুসলিমদের রোযা ভাঙানোর ঘটনা ঘটে প্রায় প্রতি রমযানেই চীনের বিভিন্ন প্রদেশে। আজকাল ভারতেও ঘটছে এমন ঘটনা। কিন্তু মিয়ানমারের বৌদ্ধরা সবকে ছাড়িয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেক সোচ্চার না হলে কোনও দেশেই সংখ্যালঘু মুসলিমরা নিরাপদ নন।

মুসলিমঐক্য মুসলিমদেরই গড়তে হবে। তবে এ ঐক্য অন্যরা চাইবে না কখনই। ইউরোপ, আমেরিকা, চীন, জাপান, ভারত, ইসরাইল কেউ চায় না মুসলিমঐক্য অটুট থাকুক। মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসুবিধা তাদের। তাই তাদের মুসলিমঐক্য কাম্য নয়। এসব কিছু বুঝেও শতধাবিচ্ছিন্ন মুসলিমবিশ্ব। একে-অন্যকে শুধু গুঁতোয়। অথচ আল্লাহ্তায়ালা মুসলিমদের বলেছেন, ‘লা তাফাররাকু।’ অর্থাৎ ‘তোমরা দলেদলে বিভক্ত হয়ো না।’ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ নির্দেশ অমান্য করে মুসলিমরা আজ শতধাবিচ্ছিন্ন। ফলে মুসলিমদের তেমন গণ্য কেউ করছে না। তাই রোহিঙ্গা, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন নিয়ে বৃহৎ শক্তিসমূহের কোনও মাথাব্যথা নেই।

বাংলাদেশ অবশ্য রোহিঙ্গাদের জন্য যথাসাধ্য সহায়তা করছে। কয়েক বছর যাবৎ কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভরণপোষণ করে আসছে। তাদের নিজদেশে ফেরত পাঠাবার চেষ্টাও চালিয়েছে। কিন্তু আবার মিয়ানমারবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের নির্মূল অভিযান শুরু করেছে। আসলে মিয়ানমার সরকার চায় না মুসলিমরা আরাকানে থাকুক। একই উদ্দেশ্যে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে।

প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গারা এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে জান হাতে নিয়ে পালিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় তাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়া ব্যতীত অন্য কোনও উপায় নেই। তবে এটা স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাসমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে বিশ্বমুসলিম নেতৃত্বকেই। অন্যরা এর সমাধান করে দেবে এমন মনে করা দুরাশা  বৈকি। তবে আমাদের ভাবতে হবে ১৯৭১ সালে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ভারত যেভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, ঠিক সেভাবে না পারলেও হাজার হাজার শরণার্থীকে সেসময় নিজেদের বাড়িঘরে পরমাত্মীয়ের মতোই আশ্রয় দিয়েছিলেন রোহিঙ্গারা। তখন হয়তো বার্মা সরকারেরও সহানুভূতি ছিল বাংলাদেশীদের প্রতি। এজন্য অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম রোহিঙ্গা তথা সেদেশের জনগণের সঙ্গে সঙ্গে বার্মা সরকারকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ