ঢাকা, মঙ্গলবার 12 September 2017, ২৮ ভাদ্র ১৪২8, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মালেক  ভাইকে  চিঠি

 

ভাইয়া,

কেমন আছিস সেটা নাইবা জিজ্ঞেস করলাম। আমি জানি তুই যে এখন বড্ড সুখে আছিস। থাকবিই তো। সফল মানুষরা কি কখনো অসুখী হয়। তুই যেখানে আছিস সেখানে কি কেউ অসুখী থাকে? সেখানে তো দুঃখ কষ্ট বলতে কোন শব্দই নেই। কিন্তু আমি ভালো নেই জানিস? থাকবো কি করে বল? তুই যখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র তখন তুই স্বপ্ন দেখেছিলি তোর ছোট ছোট ভাইবোনগুলোও একদিন এখানে পড়তে আসবে। তারপর ওরা অনেক বড় হবে। 

এপ্রিয় দেশটাকে ওরা অনেক সুন্দর করে সাজাবে। তুই যখন এসব স্বপ্ন দেখছিলি তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। তবু আমি তোর স্বপ্নগুলোকে অনেক শ্রদ্ধা করতাম। অনেক বড় করে ভাবতাম। তুই তো অনেক ভাবুক টাইপের ছিলি। মনে পড়ে ? আমি তোকে প্রায়ই ভাবুক মশাই বলে ডাকতাম। তুই কিন্তু তাতে একটুও রাগ করতি না। বরং কি যেন অজানা আশঙ্কায় আমাকে জড়িয়ে ধরতি। মনে হয় এ ছোট্ট বোনটার জন্য কোন অশুভ আশঙ্কা তোকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাই তুই বসে থাকিসনি। তুই বুঝতে পেরেছিলি যে শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে আমরা বড় হচ্ছি সেটা আমাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট তো নয়ই বরং উল্টো জাতিকে আদর্শহীন, নীতি-নৈতিকতাহীন হিসেবে গড়ে তোলার এক নিকৃষ্ট মাধ্যম। তাই তুই শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করলি। একটা সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থার প্লাটফরম ও তুলে ধরলি জনগণ ও সুধীমহলের সামনে। 

এটাই ছিল তোর অপরাধ। আর তাই তোর প্রিয় ক্যাম্পাসই সিক্ত হল তোর বুকের তাজা রক্ত। জানিস সেদিন আমি একটুও কান্না করিনি। আমি সেদিন তোর লাশের পাশে দাড়িয়ে তোর রক্ত ছুয়ে শপথ করেছিলাম, তোর অসমাপ্ত কাজ আমি সমাপ্ত করবই ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে তোরমত আমার রক্তেও রঞ্জিত হবে আমার স্বপ্নের ক্যাম্পাস। তবু আমি পিছু হটবো না। তাই তোর স্বপ্নের চাষদিতে আমিও একদিন ভর্তি হলাম দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। সেই থেকেই আমি তোর স্বপ্নকে ফেরি করে বেড়াচ্ছি। এখন আর আমি নই আমরা। আমরা তোর ছোট ছোট ভাই-বোনরা। জানিস মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয় তোর কাছে চলে যাই। খুব মনে পড়ে তোকে। সেই কবে দেখেছি। 

কত স্বপ্ন দেখতাম আমার একটা লাল টুকটুকে ভাবি আসবে। সে আমাকে কত আদর করবে। চুলে ঝুটি বেধে দিবে। পায়ে আলতা দিয়ে, হাতে মেহেদি দিয়ে আমাকে সাজিয়ে দেবে, তা আর ওরা হতে দিল না। থাক ওসব আর না বলি। এর চাইতে অনেক বড় কিছু আমি পেয়েছি। আজ খুব কম মানুষই আছে যে তোকে চেনেনা। এটাই বা কম কিসে। তুই দোয়া করিস, আমরা তোর ছোট ছোট ভাইবোনরা যেন তোর স্বপ্নকে পৌছে দিতে পারি সতেরো কোটি মানুষের প্রাণে। তারপর একদিন আমরাও চলে আসব তোর কাছে। যে দিন জান্নাতের ঝর্ণার পাশে, অযুত গাছের ছায়ায় ঝিরঝিরে বাতাসে বসে গল্পের আসর জমাবো। 

ইতি

তোর আদরের ছোটবোন

তামিমা, ঢাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ