ঢাকা, মঙ্গলবার 12 September 2017, ২৮ ভাদ্র ১৪২8, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এই গণহত্যার বিচার চাই

মিয়ানমারের রাখাইনে চলছে গণহত্যা। রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তাই প্রাণ বাঁচাতে তারা স্রোতের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আনান কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসিভুক্ত দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্রিফিং-এ বাংলাদেশ এই অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া রাখাইনের দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন চেয়েছে। উল্লেখ্য যে. বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে ওই ব্রিফিং-এ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও রাখাইন রাজ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার প্রাণহানিকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন। এখন বিবেচনার বিষয় হলো, রাখাইনে গণহত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর তার বিচারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণহত্যার বিচারের ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে দেখেছি। আমরা আশা করবো, রাখাইনে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যার বিচারের ব্যাপারেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সোচ্চার হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিকতার পরিচয় দেবে।

রাখাইনে গণহত্যার বিচারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই সোচ্চার না হলে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ ও নিশ্চিহ্ন করার তৎপরতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী আরো আগ্রাসী হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য যে, রাখাইন রাজ্য জুড়ে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে অভিযান শুরুর পর এখন সীমানা সন্নিহিত এলাকাকে ‘আর্মি অপারেশন জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেনা পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইন রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে মাইকিং। মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ জীপ ও চাইক্কাযোগে কিছু রোহিঙ্গাকে বাধ্য করে আঞ্চলিক ভাষায় এই মাইকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকিং-এ ঘোষণা করা হচ্ছে, ‘রোহিঙ্গারা এ দেশ ছেড়ে চলে যাও, তোমরা বাঙালি, বাংলাদেশ তোমাদের দেশ।’ এমন অবস্থায় রক্তাক্ত জনপদ রাখাইনে ১৬ দিনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর এখন আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হলো। এদিকে রোহিঙ্গাশূন্য গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী উড়িয়ে দিয়েছে লাল পতাকা। পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে তাদের গ্রামগুলোতে পুনরায় ফিরে আসতে না পারে সে লক্ষ্যেই লাল পতাকা উড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আনান কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে বলেছে, তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বলেছে, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মানবিক সেবার অধিকার দিতে বলেছে রোহিঙ্গাদের। এদিকে মিয়ানমারে জাতিসংঘের তদন্ত দলকে কাজ করতে দেয়া, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং রাখাইনে সহিংসতায় যুক্ত লোকজনের বিচার- এ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বিবেকবান মানুষরা আনান কমিশনের সুপারিশের দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। আমরা মনে করি, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন হবে উদ্ধত ও বেপরোয়া মিয়ানমারকে আকাশ থেকে মাটিতে নামানো। আর এ কাজে সাফল্য পেতে হলে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে মিয়ানমারের শাসক তথা সেনাবাহিনীকে গণহত্যার অভিযোগে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ লক্ষ্যে কতটা তৎপর হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ