ঢাকা, মঙ্গলবার 12 September 2017, ২৮ ভাদ্র ১৪২8, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশাশুনিতে ওয়াপদার বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত

আশাশুনিতে ওয়াপদার বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চলছে মেরামতের কাজ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: আশাশুনির পাউবো’র বিভিন্ন বেড়ীবাঁধের ফাটল ধরেছে। অর্ধশতাধিক স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। গত কয়েক দিনে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছে। একদিক দিয়ে মেরামত করা হয় অন্য দিকে দিয়ে ভাঙ্গতে শুরু করে। এভাবে চলছে সপ্তাহ খানেক ধরে। যে কোন মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে পাউবো’র বিভিন্ন বেড়ীবাঁধ। ফলে আশ্রয় হীন হয়েছে পড়বে লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে সদরের দয়ারঘাট-জেলেখালী ওয়াপদা বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। আট ফুট ভেড়িবাঁধের অবশিষ্ট আছে মাত্র দেড়ফুট । ফান্ডে টাকা নেই এমন অভিযোগ তুলে বেড়িবাঁধ মেরামত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিলেন পাউবোর কর্মকর্তা। এতে গোটা এলাকাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বাঁধ সংস্কারে পাউবোর কর্মকতাদের গড়িমসির কারণে ইতিমধ্যেই ভাঙ্গনের কবলে পতিত হয়েছে প্রতাপনগর ইউনিয়নের হরিষখালী বেড়ী বাঁধ। তলিয়ে গেছে শত শত মৎস্যঘের ও ফসলী জমি। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। সরেজমিনে দেখাগেছে, সদরের জেলেখালী-দয়ারঘাট গ্রামে সুন্দরবন হ্যাচারী সংলগ্ন এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর ওয়াপদা ভেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। কার্পেট দিয়ে ঢাকা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দেড়-দু’ফুট করে অবশিষ্ট আছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোন জোয়ারে ভেঙ্গে যাওয়ার কথা ভেবে স্থানীয় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এসকল বাঁধ নিয়ে পাউবো’র ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের শেষ নেই। রোববার ভাঙ্গন এলাকা উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাাকিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান, আশাশুনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলন পরিদর্শন করেছেন। তবে অভিযোগ পাউবোর কর্মকর্তাদের উপর দীর্ঘদিন এসকল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করতে কেউ আসেনি। প্লাবনের আশংকায় আতঙ্কিত হয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসি। ভাঙ্গন এলাকা ইতিপূর্বে অনেক জেলা প্রশাসক সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন পরিদর্শন করে অতি দ্রুত বাঁধ সংস্কার সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থায়ী বাসিন্দারা। সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স.ম সেলিম রেজা মিলন জানান ইতিমধ্যে বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করে দিয়েছি। চেষ্টাকরে যাচ্ছি, জনগণকে সাথে নিয়ে যে কোন মূল্যে বাধ রক্ষা করতে। পাউবোর কর্মকর্তা সুনীল ভক্ত জানান, আগামী আজ থেকে বাঁধের কাজ শুরু হবে। সময় মত বাধ সংস্কার না করার কারণে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে স্থায়ী বাসিন্দাদের অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে উক্ত কর্মকর্তার বলেন, আমাদের কি করার আছে ফান্ডে কোন টাকা নাই। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবগিত করেছি। এ ব্যাপারে আতঙ্কিত এলাকাবাসি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাঁধটি মেরামত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য আশু ব্যবস্থা নিতে আকূল আবেদন জানিয়েছেন। 

ভারতীয় মালামাল জব্দ

সাতক্ষীরার দেবহাটার বিভিন্ন এলাকা হতে ৪ লক্ষ ৯ হাজার ৬শত টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেছে নীলডুমুর ১৭ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দেবহাটা উপজেলার বহেরা পাকা রাস্তার উপর হতে ২৫ হাজার ৮ শত টাকা মূল্যের ৪৩ জোড়া ভারতীয় সান্ডেল, পারুলিয়া পাকা রাস্তার উপর হতে ৬৩ হাজার ৬ শত টাকা মূল্যের স্যান্ডেল, কেডস ও লবন, কালীগঞ্জ উপজেলার সোলপুর স্লুইচ গেট এলাকা হতে ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ৫৭০ বোতল ফেন্সিডিল, ১১ সেপ্টেম্বর দেবহাটা উপজেলার বহেরা পাকা রাস্তার উপর হতে ১০ হাজার ৫শত টাকা মূল্যের ২১ প্যাকেট ভারতীয় ল্যাকট্রোজেন গুঁড়া দুধ, ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের ২৪ শত প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৯ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫টি হরলিক্স, দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর স্লুইচ গেট হতে ৯৬ হাজার টাকা মূল্যেও ২৪০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে বিজিবি। তবে এ সময় কোন চোরাকারবারীকে আটক করতে পারেনি বিজিাবি। নিলডুমুর ১৭ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ