ঢাকা, মঙ্গলবার 12 September 2017, ২৮ ভাদ্র ১৪২8, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাল সার্টিফিকেটে পুলিশে চাকরি এবার শাস্তির বদলে পদন্নোতি

 

খুলনা অফিস : পত্রিকায় বহুবার লিখেছে। এলাকার লোকজন আমার বিরুদ্ধে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত করেছে। তদন্তও হয়েছে কিন্তু আমার চাকরির কোন ক্ষতি হয়নি। আর হবেও না। সরকারি চাকরি হওয়া যত কঠিন তার চেয়ে বেশি কঠিন চাকরি যাওয়া। কি নামে চাকরি করছি, বাড়ি কোথায় ছিলো বা এখন কোথায় থাকি। বাবার কি নাম, বাবার কি নাম দিয়েছি তা চাকরি নেয়ার সময় পুলিশ বিভাগ যাছাই-বাছাই করেছে। যদি ভুয়া নামে- ভুয়া ঠিকানায় চাকরি নিয়ে থাকি সেটা দেখার বিষয় ছিলো যাছাই-বাছাই কর্মকর্তার। এখন ওসব নিয়ে প্রশ্ন করে কোন লাভ নেই। আপনারা যত লিখবেন আমার জন্য ততই ভালো হবে। টাকা থাকলে পুলিশের চাকরি যায় না।’ এধরনের নানা মন্তব্য পাইকগাছা থানার এএসআই শাহাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল হাওলাদারের।

তিনি আরো বলেন, ‘আগে ছিলাম ড্রাইভার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় আর পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়ায় আমার প্রোমশন হয়েছে। ড্রাইভার থেকে এএসআই হয়েছি। সুতরাং লিখে কোন লাভ হবে না।’

জাল সার্টিফিকেট ও ভুয়া ঠিকানায় চাকরি নেয়া এই শাহাজুল ইসলাম ওরফে শাকিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধানে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসছে।

 কে এই শাহাজুল ইসলাম বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামের বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠানো পুলিশ কনষ্টেবল ছরোয়ার হাওলাদারের পুত্র পাইকগাছা থানার হরিঢালী ক্যাম্পের এএসআই শাহাজুল ইসলাম। শাহাজুল ইসলাম নামটি ভুয়া। আসল নাম শাকিল হাওলাদার। শাকিল হাওলাদারের পিতার নাম সরোয়ার হাওলাদার আর শাহাজুলের পিতার নাম ছয়রুদ্দিন। ১৫ বছর আগে শাকিল হাওলাদার মেহেরপুরের জেলা সদরের বুড়িপোতা গ্রামের মো. শাহাজুল ইসলামের এসএসসি সমমান মাদরাসা সার্টিফিকেট নিয়ে পুলিশে চাকরি নেয়। সার্টিফিকেটধারী শাহাজুল ইসলাম বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী জীবন যাপন করছে। গত ৭ আগস্ট মেহেরপুরের ২নং বুড়িপোতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান এইমর্মে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন। ৫ আগস্ট আমঝুপি আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ মাহবুব উল আজম প্রদত্ত প্রত্যয়পত্রের মাধ্যমে জানাগেছে, ২০০১সালে শাহাজুল ইসলাম জিপিএ ২.১৭ পেয়ে দাখিল পাশ করে। তাহার রোল নং ছিলো ১৮৬৩১৪, রেজি. নং ছিলো-৮৫৬৮৭০/৯৯।

ওই মাদরাসার অফিস সহকারী রেশমা খাতুন জানান, ২০০১ সালে দাখিল পাশ করা শাহাজুল ইসলামের মুল সনদপত্র এখনও মাদরাসায় জমা আছে।

এদিকে বুড়িপোতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, পুলিশে কর্মরত শাহাজুল ইসলাম বুড়িপোতা গ্রামের নয়। বুড়িপোতা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. শরিফ উদ্দীন এর বরাত দিয়ে তিনি জানান, শাহাজুল ইসলাম সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।

এদিকে শাহাজুলের জন্ম তারিখ ২৫ আগস্ট ১৯৮৪। অথচ তার পিতা সরোয়ার হাওলাদার পুলিশে চাকরি নিয়েছে ১৯৮৫ সালে। সচেতন মহলের প্রশ্ন তাহলে কি সে বিবাহিত অবস্থায় চাকরিতে যোগদান করেন।

যে কারণে পিতা সরোয়ার চাকরিচ্যুত পাইকগাছা থানার হরিঢালী ক্যাম্পের এএসআই শাহাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল হাওলাদারের পিতা সরোয়ার হাওলাদার চাকরিতে থাকাকালিন সময়ে জনৈক কালামের ছেলেকে পুলিশে চাকরি দিবে বলে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়। পরবর্তীতে তাকে চাকরি না দিলে তারা পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দিলে তা তদন্ত হয়। তদন্তে সরোয়ার হাওলাদার টাকা গ্রহণের সত্যতা মিলে। তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হুজুর সুপারিশ করেন। সেই মামলায় সরোয়ার চাকরিচ্যুত হন।

সত্যতা মিলেছে মায়ের আবেদনে মোরেলগঞ্জ থানার এএসপি সার্কেলে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেন এএসআই শাহাজুলের মা, সরোয়ার হাওলাদারের স্ত্রী শিরিনা বেগম। তিনি আবেদনে ছেলের নাম সাকিল হাওলাদার বলে উল্লেখ করেন। অথচ সাকিল মেহেরপুরের জেলা সদরের বুড়িপোতা গ্রামের মো. শাহাজুল ইসলামের দাখিল সনদে বীরদর্পে পুলিশে চাকরি করছে।

বিভিন্ন অভিযোগ শাকিল ওরফে শাহাজুলের পরিবারের অত্যাচারে গ্রামবাসি অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। তার পিতা ছরোয়ার হাওলাদার বারইখালী গ্রামের মো. জালাল শেখের মেয়ে জান্নাতি আক্তার হত্যা মামলার ১নং আসামী। সে পুলিশের দাপট দেখিয়ে মামলার বাদি ও তার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলা ফাঁসানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসি ছরোয়ার হাওলাদার ও তার ছেলে এএসআই সাকিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়, আইজিপি, এআইজি সিকিউরিটি সেল, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবরে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন।

এলাকার জালাল শেখ জানান, গত বছরের ১৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরোয়ার হাওলাদারের নেতৃত্বে তার ছেলে রিপন হাওলাদার ও গোলাম মোস্তফাসহ ১২/১৩জন তার মেয়ে জান্নাতীকে ধরে নিয়ে যায়। পরের দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলম উকিলের বাড়ির সামনে খালের পাশ থেকে জান্নাতীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জালাল শেখ বাদি হয়ে ১৩জনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামের মৃত মুনসুর হাওলাদারের ছেলে সরোয়ার হাওলাদার, তার স্ত্রী শিরিন বেগম, ছেলে রিপন হাওলাদার, মালেক হাওলাদার, মেয়ে রুনা বেগম, মো. হাকিমের ছেলে গোলাম মোস্তফা ও স্বপন, গোলাম মোস্তফার স্ত্রী জাহানারা বেগম, স্বপনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম, সোহরাব হাওলাদারের ছেলে শাহীন হাওলাদার ও সুমন হাওলাদার, সুমনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও শাহীনের স্ত্রী রিনা বেগম। তিনি আরো জানান, সরোয়ার হাওলাদার ও তার দুই ভাই ফজলু ও সোহরাব ছিল রাজাকার। সরোয়ারের শ্যালক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। স্বপন বনদস্যু বেল্লাাল বাহিনীর সদস্য। অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিল। বর্তমানে আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। তারা এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে ছোটটারে মেরেছি। এবার বড়দের মারবো। এ অবস্থায় বাদির পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আসামীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে তারা প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

সচেতন মহলের প্রশ্ন শাকিল হাওলাদার কিভাবে ভুয়া সার্টিফিকেট, ভুয়া ঠিকানায় পিতার নাম পরিবর্তন করে পুলিশ বিভাগে কর্মরত আছেন। শুধু কর্মরতই না সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ থাকলেও কিভাবে শাস্তির পরিবর্তে পদন্নোতি পেলেন?।

পাইকগাছার ঘোষখালী নদী পারাপারে

দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

খুলনার পাইকগাছার গড়ইখালী ঘোষখালী (বদ্ধ) নদীর আশপাশ ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। নদীর ৫টি স্থানে পারাপারের জন্য রশি টানা রয়েছে। কোন বৈঠা ছাড়াই নৌকায় চড়ে বসার পর রশি ধরেই পার হয় যাত্রীরা। এভাবেই প্রতিদিন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পারাপার হতে হয়। ব্রিজ না থাকায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়।

জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে গড়ইখালী অন্যতম। সুন্দরবনের কোল ঘেষেই কয়রা উপজেলার সীমান্তেই ইউনিয়নটির অবস্থান। ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা গত কয়েক বছরের ব্যবধানে কিছুটা উন্নত হলেও অনুন্নত রয়ে গেছে অভ্যন্তরিন যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে রয়েছে ৫/৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘোষখালী (বদ্ধ) নদী। নদীর ২ পারের লোকজনের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। পারাপারের জন্য ৫ টি স্থানে পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। যার মধ্যে শান্তা, ফকিরাবাদ, কুমখালী, মসজিদ খেয়াঘাট, কুমখালী হুগলারচক, কলেজ খেয়াঘাট, হুগলারচক কুমখালী, সন্যাসির খেয়াঘাট, আমিরপুর বাইনবাড়িয়া, ক্যাম্প খেয়াঘাট ও কাঁঠালতলা খেয়াঘাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পার হয়। তবে অন্যান্য নদীতে বৈঠার মাধ্যমে পারাপার করা হলেও এখানে রয়েছে ব্যতিক্রম। নদীর দুই ধারে রশি টানা থাকে, নৌকায় চড়ারপর রশি ধরেই পার হতে হয় যাত্রীদের। এভাবেই প্রতিদিন পারাপার নিয়ে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে নদীর উত্তরপাশে রয়েছে শহীদ আয়ুব ও মুছা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। এখানেই রয়েছে সমাপনি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র। ফলে পার্শ্ববর্তী কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষ সহ অসংখ্য শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে স্কুল, কলেজ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। কয়রার হড্ডা গ্রামের কলেজ ছাত্রী ঝুমা মন্ডল জানান, নদী পার হয়ে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করতে হয়। অনেক ঝুকি নিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা থেকে পড়ে যেতে হয়, আবার অনেক সময় যাত্রী বেশি হলে নৌকা তলিয়ে যায়। ছোট একটি ব্রিজ থাকলে আমাদের মত শত শত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দূর্ভোগ পোহাতে হতো না বলে শিক্ষার্থী ঝুমা জানান। কুমখালী গ্রামের রমেশচন্দ্র মন্ডল জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মাপামাপি ও সমিক্ষা করেছেন। কিন্তু ব্রিজ করার কোন লক্ষণ আজও পর্যন্ত চোখে পড়েনি। নদীর উপর কমপক্ষে ২/৩টি ব্রিজ নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দূর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস। এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও কুমখালী গ্রামের কৃতি সন্তান ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল জানান, অত্র এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম দূর্ভোগ হচ্ছে ঘোষখালী নদী পারাপার। এলাকার মানুষের দূর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে নদীর কলেজ খেয়াঘাট ও ক্যাম্প খেয়াঘাট এলাকায় ২টি ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে নূন্যতম ১টি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ