ঢাকা, মঙ্গলবার 12 September 2017, ২৮ ভাদ্র ১৪২8, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সমন্বয় না থাকায় জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের মেয়র আ.জ.ম নাসির বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামোয় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অবগত না করে অসমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদন করছে। সংস্থাগুলোর সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোনোরূপ সমন্বয় না থাকায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ-সহ নানান সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খালসমূহ হতে অবৈধ দখলদারগণকে উচ্ছেদের জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য গঠিত টাস্কফোর্স ও এর কর্মপরিধি সম্পর্কে গতকাল সোমবার বিকেলে নিজ বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খালসমূহ হতে অবৈধ দখলদারগণকে উচ্ছেদের জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ- এর সিটি কর্পোরেশন-২ অফিস আদেশ তুলে ধরেন। তিনি টাক্সফোর্স এর কমিটির রূপরেখা তুলে ধরে কমিটির বিষয়ে বলেন, কমিটিতে তিনি আহবায়ক এবং চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, চসিক এর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কে সদস্য করা হয়েছে। 

 মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খালসমূহ হতে অবৈধ দখলদারদেরকে উচ্ছেদ, খালসমূহের দুপার্শ্বে বেদখলকৃত সরকারি জায়গা উদ্ধার, খালসমূহ হতে মাটি উত্তোলন, খাল খনন ও ভরাটকৃত খালের মাটি/ আবর্জনা নিষ্কাশন করে খালসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখা, খালসমূহ অবৈধ দখলকারী দায়ী ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জায়গায় পুনরায় যাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মিত না হয় সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং- এর ব্যবস্থা করা।

সেবা সংস্থাগুলোর সেবার স্বার্থে তিনি বলেন,সংস্থাগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে প্রকল্প বিষয়ে পূর্বে অবগত না করানোর ফলে অনেক সময় উন্নয়ন কার্যক্রমে Over lapping হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক সরকারের যেকোনরূপ উন্নয়ন কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অবগতকরণপূর্বক সম্পাদন করলে চট্টগ্রামকে জনদুর্ভোগহীন পরিকল্পিত নগরে পরিণত করা সম্ভব হবে। তাই জনদুর্ভোগ ও জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মহানগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামোয় নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিতকরণ এবং সিটি কর্পোরেশন থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ একান্ত আবশ্যক বলে মনে করছি।

তিনি বলেন, এ নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে এবং দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার কারনে যে কোন ঝুকি নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। সম্মেলনে কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

 টাস্কফোর্স এর সভা অনুষ্ঠিত-চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খালসমূহ হতে অবৈধ দখলদারগণকে উচ্ছেদের জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য গঠিত টাস্কফোর্স এর প্রথম সভা গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাক্সফোর্স এর আহবায়ক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন। সভায় কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এর প্রতিনিধি উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি রাজস্ব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ এর প্রতিনিধি উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইম হোসেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জোনাল অফিসার পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিনিধি পরিবেশ কর্মকর্তা কমিটির সদস্য সচিব ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সনজিদা শরমিন, স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোছাইন, আবু ছালেহ, কামরুল ইসলাম সহ সংশ্লিস্ট প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র নাছির ৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর স্বউদ্যোগে অনুমোদিত ৫ হাজার ৬ শত ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পকে চট্টগ্রাম এর ইতিহাসে মেগা প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করে বলেন, চট্টগ্রাম এর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা থেকেই জিওবি প্রকল্পের অধীনে বিশাল এ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তারই আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৮ আগস্ট টাক্সফোর্স গঠন করেছে। সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়,পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

মেয়র বলেন চট্টগ্রাম এর জলাবদ্ধতা নিরসন করতে শুধু সিডিএ নয় এর পাশাপাশি অন্যদেরও একযোগে কাজ করতে হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা সমীক্ষার মাধ্যমে ড্রেনেজ মাষ্টারপ্লান ও সোয়ারেজ মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করেছে। তাদের প্লান অনুসরন করে ডিপিপি বাস্তবায়ন করা হলে সুফল পাওয়া যাবে। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমুহের অবৈধ দখলদার প্রসঙ্গে সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে নগরীতে ৫৭ টি খাল উল্লেখ করা হয় যার দৈর্ঘ্য ১৬৩.৫০ কি.মি. সেসকল খালগুলো কর্ণফুলি নদী এবং বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে অবৈধ দখল প্রসঙ্গে প্রধান প্রধান খাল সমূহের তালিকা, ওয়াসা ড্রেনেজ মাস্টারপ্লান-২০১৬ এর সাথে তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাতে বলা হয় খালের দুই পাড়ে অবৈধভাবে নির্মিত ৪ তলা ভবন, ১ তলা ভবন, সেমিপাকা ঘর, টিনশেড দোতলা ঘর সহ অসংখ্য স্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে। এসকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঝুকিপূর্ণ কাজের অংশ। তা সত্বেও জনস্বার্থে খাল দখলমুক্ত করে খালের দু’পাশে রাস্তা নির্মাণ এবং খালের ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরী। ওয়াসার ডিপিপি’র সাথে ওয়াসার মাস্টারপ্লানের অসংগতিগুলোও খতিয়ে দেখা হয়। সভায় কমিটির সদস্যদের নিকট আলোচ্যসূচির একটি তথ্যচিত্র হস্তান্তর করা হয়। সভায় খাল সমূহের দু পাশে বেদখলকৃত সরকারী জায়গা উদ্ধার, খাল সমুহ হতে মাটি উত্তোলন, খনন ও ভরাটকৃত খালের মাটি ও আবর্জনা অপসারণ করে খাল সমুহের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা নিরসনে সভার সভাপতিকে প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ