ঢাকা, মঙ্গলবার 12 September 2017, ২৮ ভাদ্র ১৪২8, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিআইডি ও পিবিআই’র তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছে বাদি সাক্ষীসহ ২১জন

খুলনা অফিস : খুলনার তেরখাদা উপজেলার হাড়িখালী এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ফকির (২৮) হত্যা মামলার  তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। ২০১৪ সালের এ হত্যাকান্ডে থানায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় ইতোমধ্যে বাদী নিহতের সৎ ভাই জিন্দার ফকিরকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। এর অগে সিআইডি এ মামলার তদন্তকালে মামলার ৫ জন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। সর্বশেষ এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর শেখ আবু বকর ছিদ্দিক বাদী হয়ে জিন্দার ফকিরসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১২০-বি, ৩০২/৩৪ ধারায় গত ৭ সেপ্টেম্বর তেরখাদা থানায় মামলা দায়ের করেছেন (নং-০৩)।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১২ নবেম্বর রাতে উপজেলার হাড়িখালী গ্রামের মৃত ইয়ার আলী ফকিরের ছেলে মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ফকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। খুনিরা সিরাজুলের বুকে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের ৩৩টি আঘাত করে। এ ঘটনায় তার সৎ ভাই জিন্দার ফকির বাদী হয়ে ওই এলাকার জনৈক আকবার মোল্লাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার এসআই প্রবীণ কুমার চক্রবর্তী মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হলে ইন্সপেক্টর শেখ শাহজাহান মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। তবে তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৩৩ জন আসামির কারও বিরুদ্ধে এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ না পেয়ে ২০১৫ সালের শেষের দিকে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট (এফআরটি) দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কোন প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। বরং মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকতে পারে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তিনি বাদীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি চান। তদন্ত কর্মকর্তা তখন ওই মামলার ৫ জন সাক্ষীকেও গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। সিআইডি’র তৎপরতা ও আদালতে মামলার চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদী জিন্দার ফকির নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। ওই আবেদন আমলে নিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে আদেশ দেন।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (পিবিআই’র) ইন্সপেক্টর শেখ আবু বকর ছিদ্দিক জানান, তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে ঘটনাস্থলসহ এলাকাবাসী ও সাক্ষীদের সাথে পৃথক পৃথক ভাবে কথা বলি। এছাড়া হত্যাকান্ডের সময় ঘটনাস্থলে কোন কোন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন তা মোবাইল ফোন সিম লোকেশনে দেখা গেছে। তিনি জানান, ওই মামলার আসামিদের ৩৩ জনের মধ্যে একজনেরও মোবাইল লোকেশন ঘটনাস্থলে ছিল না। বরং মামলায় উল্লিখিত হত্যাকাণ্ডের সময় মোতাবেক দেখা গেছে বাদী জিন্দার ফকিরসহ কয়েকজন সাক্ষী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তদন্তেও বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে জিন্দার ফকিরসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে নতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি বলেও জানান তিনি। জিন্দার ফকিরকে গ্রেফতারের পর ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হলে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোট নং-১’র বিচারক মারুফ আহমেদ তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ