ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় ভদ্রা ও সালতা নদী  খননে বাধা অবৈধ স্থাপনা

 

খুলনা অফিস : জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ভরাট হওয়া ভদ্রা ও সালতা নদী দুটি খনন কাজে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা। এককালের প্রমত্তা ভদ্রা আজ ভরাট হয়ে চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। ওই নদীটির অবশিষ্ট কোন অংশ নেই যা দখলে নেই। এছাড়া ডুমুরিয়া বাজোরের কাছে ভদ্রা নদীর সংযোগ থেকে বটিয়াঘাটার শৈলমারী নদীতে মিশে যাওয়া নদীটিও অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। সালতা নদীর ভরাট হওয়া অংশও দখলে চলে গেছে প্রভাবশালীদের। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে নদী দুটি খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একনেকে প্রকল্প বাস্তবায়ণে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই প্রকল্প বাস্তবায়ণ করবে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই হতে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে একটি অর্থবছর চলে গেছে। আগামী ২০১৯ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

জানা যায়, ডুমুরিয়ার ভদ্রা নদীটি এঁকে বেঁকে সাগরের সাথে মিশেছে। অপর অংশটি ডুমুরিয়ার শোলগাতিয়া এলাকার বুড়িভদ্রার সাথে মিশেছে। ভদ্রা নদীর পায় ৩০ কিলোমিটার পলিপড়ে এবং নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। আর নদী ভরাটের সাথে সাথে সেটি দখলদারের হাত থেকেও রেহাই পায়নি। প্রভাবশালীরা যে যার মত করে ভরাট হওয়া ভদ্রার বুক দখল করেছে। দখলবাজ চক্র নিয়ম বর্হিভূতভাবে ভরাট হওয়া জমিতে গড়ে তুলেছে রাইস মিল, স মিল, বাজার , বহুতল ভবনসহ নানা স্থাপনা। তাছাড়া ভরাট হওয়া ভদ্রার বুকে সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পও গড়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে ভরাট হওয়া ভদ্রার বুকে মিনি স্টেডিয়াম স্থাপনের কাজও বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভদ্রা নদীটি দুই প্রান্ত থেকে ভিন্ন ভিন্ন মাপে খনন করা হবে। এরমধ্যে দক্ষিণ অংশে ডুমুরিয়ার দিঘলিয়া (স্থানীয় নাম দিঘেলা) থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তারাংশের তেলিগাতি হতে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন করা হবে। দিঘেলার ভদ্রার মুখে ১০ ভেনের স্লুইজ গেট নির্মাণ করা হবে। তেলিগাতিওে একটি স্লুইজ গেট নির্মিত হবে। ভদ্রা নদীটি খননের সম্ভাব্য মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে উপরে ১১০ মিটার এবং তলদেশ ৬০ মিটার। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯কিলোমিটার খনন হয়ে শৈলমারি নদীতে সংযুক্ত করা হবে। সালতা নদীর তলদেশে ১০ মিটার সম্ভাব্য মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে নদী দুটি খননের জন্য প্রকল্প জমা দেয়া হয়। প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার গত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৬- ২০১৭ অর্থ বছরে খনন কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০১৮-২০১৯ মোট ৩ অর্থবছরে।

উপজেলার ১১ নম্বর ডুমুরিয়া (সদর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গাজী হুমায়ুন কবীর বুলু বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ভদ্রা ও সালতা নদী খনন করার উদ্যোগ বর্তমান সরকারের প্রসংশনীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ভদ্রা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশই দখল হয়ে গেছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ করে মাঝ বরাবর খনন কাজ শুরু করতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প প্রধান অহেদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, খোলা দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারা জানান, সরকার ভদ্রা নদীর ভরাট হওযা অংশে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে এ ক্ষেত্রে খনন কাজের কোন সমস্যা হবে না বরে জানান তারা। নদী দুটি স্কেভেটর দিয়ে খনন করা হবে বলে তারা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণের জন্য ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়া হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেক হাসান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ভদ্রা ও সালতা নদী খনন করার উদ্যোগ নিয়েছে। নদীর সীমানা নির্ধারণে সহযোগিতার জন্য তারা দাপ্তরিক চিঠি দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের বিগত সময়ে সংসদ সদস্য থাকাকালে ভদ্রা নদী ও সালতা নদী খনন করার জন্য চেষ্টা করেছি। এবার দল সরকার গঠন করার পর থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরে নদী দুটি খননের জন্য জোর চেষ্টা করি। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। শেষ পর্যন্ত খননের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াও স¤পন্ন হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভদ্রা নদী খননের জন্য মিনি স্টেডিয়াম স্থাপনে কোন সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, ওই স্থান থেকে নদীটি পশ্চিম দিকে সরিয়ে খনন করা হবে। এই নদী দুটি খনন করা হলে বিলডাকাতিয়াসহ এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার নিরসন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ