ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টাইগার্স নেস্ট : পাহাড় চূড়ার বিস্ময়

আবু হেনা শাহরীয়া : টাইগার্স নেস্ট। পাহাড় চূড়ায় এক বিস্ময়ের নাম এটি। পর্যটকপ্রেমীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় নাম। পারো শহর ঘুরতে আসা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে যদি কেউ টাইগার্স নেস্ট না দেখে। শান্ত, সুন্দর সাজানো গোছানো ভুটানের পারো শহর। এই শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ টাইগার্স নেস্ট। এখানে আসলে কেউই এটি মিস করতে চান না কেউই। পারো শহর থেকে প্রায় ৯০০ মিটার উঁচুতে টাইগার্স নেস্ট। নামের সঙ্গে বাঘ থাকলেও ধারেকাছে বাঘের টিকিটাও মিলবে না। এটি একটি মনেস্ট্রি। স্থানীয়রা টাইগার্স নেস্টকে তাক্তসাং বলে থাকে। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা টাইগার্স নেস্ট দেখতে চাইলে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হবে। সকাল থেকেই কেডস-শর্টস পরে কেতাদুরস্ত হয়ে বহু পর্যটক হাজির  হন পাহাড় চূড়ায় ওঠার জন্য।

টাইাগার্স নেস্ট দেখতে দেখা মিলবে মেঘ ও সবুজের সঙ্গে পথচলা। এছাড়া পথটিও কিছুটা কর্কটাকীর্ণ।  বেশ কিছু রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। পাহাড়ি রাস্তা সবুজে ঢাকা। সঙ্গে মেঘের লুকোচুরি। নাম না জানা কতই না গাছ! সেই গাছের ফাঁক দিয়ে মেঘ এসে উঁকি দিয়েই হারিয়ে যাচ্ছে। অদ্ভুত রকম সুন্দর প্রকৃতি এখানে। রাস্তার কোথাও সমতল, কোথাও পাহাড়। আবার কোথাও খাঁড়া রাস্তা। হাঁটতে হাঁটতে একে এক রূপকথার মতো বন মনে হবে! জেদিকে চোখ যায় পাইন গাছের সারি। পাইনের ঝিরিঝিরি পাতায় মেঘ জমে আছে কুয়াশার মতো। ঘন জঙ্গলের রাস্তার দিকে তাকালে চমকে উঠতে হয়। ঝরা পাতায় মোড়ানো রাস্তায় যেন পদচিহ্ন পড়েনি এর আগে! সুনসান নিরব পাইনের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে মনে হলো ভুল করে বুঝি রূপকথার কোনও রাজ্যে এসে পড়েছি। এই যেন হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া রূপকথার রাজ্যে! পাহাড়ি পথের বেশ কয়েক জায়গায় দেখা যাবে রঙিন পতাকার মতো কাপড় টাঙিয়ে রাখা। এটি প্রার্থনার একটি অংশ। মাঝপথে একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। 

এক সময় মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসবে ঝকঝকে সোনালি টাইগার্স নেস্ট। অনেকক্ষণ তাকিয়েই থাকতে হবে মন্ত্রমুগ্ধের মতো। যেন মেঘের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক কল্পনার বাড়ি। বিশাল পাহাড়ের ছোট্ট এক ভাঁজে কীভাবে অপূর্ব সুন্দর এই স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে সেই ১৬৯২ সালে! টাইগার্স নেস্টের একপাশে মেঘ যেন বাসা বেঁধে আছে। এটি যেন কল্পনাকেও হার মানানো এক রাজ্য। তবে টাইগার্স নেস্ট তখনও দূরে। সামনে কেবল সিঁড়ি আর সিঁড়ি। সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতে হবে। তারপর ঝরনা ও ব্রিজ পাড়ি দিয়ে আবারও উপরে উঠতে হবে। তবেই পাওয়া যাবে টাইগার্স নেস্ট। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামাও যে ভয়ংকর কঠিন হতে পারে, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাবে এখানে। মনে হবে অনন্তকাল চলে যাবে কিন্তু এই সিঁড়ি আর শেষ হবে না!

সিঁড়ির শেষ প্রান্তেই দেখা মিলবে টাইগার্স নেস্ট তথা বাঘের গুহার। ১৬৯২ সালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয় তাক্তসাং গুহার পাশে। ভুটানের ধর্মীয় গুরু পদ্মসম্ভব তিব্বত থেকে বাঘের পিঠে করে এখানে আসেন। তিনি এখানে ৩ বছর, ৩ মাস, ৩ সপ্তাহ, ৩ দিন এবং ৩ ঘণ্টা ধরে ধ্যান করেছিলেন। তারপরই এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই বিস্ময়কর মন্দিরের। তবে টাইগার্স নেস্ট নিয়ে প্রচলিত আছে আরও অনেক গল্প। জনশ্রুতি আছে, রাজা ইয়েশে সগিয়ালের স্ত্রী ছিলেন গুরু পদ্মসম্ভবের অনুসারী। তিনি বাঘের রূপ ধরে পদ্মসম্ভবকে নিয়ে আসেন এখানে। তবে সব গল্পেই রয়েছে বাঘের উপস্থিতি। মন্দিরের ভেতর মোবাইল কিংবা ক্যামেরা নেওয়া নিষেধ। ফলে ছবি না তুলে কেবল ঘুরে ঘুরেই দেখতে হবে ভেতরের অংশ। পাথর কেটে বানানো টাইগার্স নেস্টের ভেতরে রয়েছে চারটি মূল মন্দির। দেয়ালে রয়েছে পেইন্টিং। মন্দিরের প্রতিটি কোণে আভিজাত্যের ছাপ। মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয় পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকে এই অসম্ভব সুন্দর স্থাপনাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ