ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আজ জরুরি বৈঠক নিরাপত্তা পরিষদের

 

সংগ্রাম ডেস্ক :  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আজ বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো নৃশংসতায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ বৈঠক আহ্বান করেছে বৃটেন ও সুইডেন। এ খবর দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার বিষয়কওয়েবসাইট আরটিই। জাতিসংঘে নিযুক্ত বৃটেনের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রোফট রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আজকের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক নিয়ে বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে কি অবর্ণনীয় অবস্থা চলছে তাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কি পরিমাণে উদ্বিগ্ন সে বিষয়টি ফুটে উঠেছে এতে। ওই সব রোহিঙ্গা পালিয়ে রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। উল্লেখ্য, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের নৃশংস অত্যাচারকে জাতিসংঘ ‘জাতি নির্মূল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক সভ্যতায় একটি জাতিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে অং সান সুচির সরকার। সোমবার পাওয়া জাতিসংঘের তথ্য মতে, ২৫ শে আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর কমপক্ষে তিন লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন মিয়ানমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ‘সিস্টেম্যাটিক আক্রমণ’ চালাচ্ছে মিয়ানমার। তিনি এটাকে জাতি নির্মূল বা এথনিক ক্লিনজিং বলে আখ্যায়িত করেন। হোয়াইট হাউজ থেকেও রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাস্তুচ্যুত হওয়া দেখে বোঝা যায়, সেখানকার নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বেসামরিক সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে, সহিংসতা বন্ধ করতে ও সব সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া বন্ধের জন্য মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।

এর আগে আগস্টের শেষের দিকে মিয়ানমারের এই ভয়াবহ সহিংসতা নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে তারা তখন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় নি। জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, আগামীকাল রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ এই সংস্থা যখন জরুরি বৈঠক ডেকেছে তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে চীন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য মিয়ানমারকে খুব বেশি প্রয়োজন চীনের। তা ছাড়া তাদের অস্ত্রের বড় বাজার রয়েছে মিয়ানমারে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে যখনই জাতিসংঘে যাওয়ার আলোচনা উঠেছে ঠিক তখন থেকেই মিয়ানমার কূটনৈতিক দুতিয়ালি শুরু করেছে। তারা চীন ও রাশিয়াকে হাতে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান/ পার্সটুডে/ রয়টার্স।

তাতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যদি কোনো উদ্যোগ গৃহীত হয় বা হওয়ার আলামত দেখা দেয়, তা বন্ধ করে দিতে বা সেই উদ্যোগে ভেটো দিতে চীন এবং রাশিয়াকে প্রলুব্ধ করেছে বা করছে মিয়ানমার। তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতিসংঘের কূটনীতিকরা। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি।

অং সান সুচির প্রতি সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড থেকে তাকে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী দালাই লামা, দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু । তারা সহ পাকিস্তানের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলতে, নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

সহিংসতা বন্ধে সুচিকে ইরানের চিঠি

মিয়ানমার সরকারকে দেশটির রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী শাহিনদোখ্ত মোল্লাভেরদি মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিকে লেখা একচিঠিতে এই আহ্বান জানিয়েছেন। সু চিকে লেখা চিঠিতে তিনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংস গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমরা জানি অতীতে আপনি সরকারের কাছে ‘সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্য আইন প্রণয়নের’ দাবি জানিয়েছেন। আমরা আশা করছি আপনি নিজের সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। নিজের মানবতাবাদী ভাবমর্যাদাকে প্রমাণ করার জন্য বর্তমানের চেয়ে ভালো সময় আর আপনি পাবেন না।”

অং সান সু চি’কে লেখা চিঠিতে মোল্লাভেরদি আরো বলেছেন, “আমি ইরানি প্রেসিডেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি, চলমান নজিরবিহীন সহিংসতা বন্ধ করতে এবং দুর্গত জনগোষ্ঠীর কাছে আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছে দিতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিন।”চিঠিতে তিনি মিয়ানমারকে এমন একটি দেশ হিসেবে অভিহিত করেন যার ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের দীঘর্ ইতিহাস’রয়েছে। সু চি’কে লেখা চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী আরো বলেন, “আমরা আশা করব আপনার একান্ত উদ্যোগে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সহিংসতার অবসান হবে এবং মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সেদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। সেইসঙ্গে মিয়ানমার সরকার এই জনগোষ্ঠীকে দেশের অন্যান্য নাগরিকের সমান মর্যাদা দেবে এবং সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা থেকে সরকারই রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করার ব্যবস্থা নেবে।”

মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন-- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সরকারের বর্বর গণহত্যা ও ভয়াবহ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা নিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আজ (মঙ্গলবার) বলেছেন, গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, মিয়ানমার সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে তিনি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ বলতে সেনা মোতায়েনের কথা বলেন নি। সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে মুসলিম সরকারগুলোকে মিয়ানমার সরকারের অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বঘোষিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের নীরবতার তীব্রসমালোচনা করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংকটে যদিও ধর্মীয় রূপ থেকে থাকে তবে তাকে কোনোভাবেই বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যকার ধর্মীয় দ্বন্দ্ব বলা যাবে না বরং এটি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যারা এই বর্বর হত্যাকা- ও নির্যাতন চালাচ্ছে তারা হচ্ছে মিয়ানমারের সরকার যার শীর্ষে রয়েছেন একজন নিষ্ঠুর নারী যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই বর্বর ঘটনার মধ্যদিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারেরও মৃত্যু ঘটেছে বলে সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, রোহিঙ্গা ইুস্যুতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসিতে আলোচনা হওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি ইরান সরকারকে এ ইস্যুতে জোরালো অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আজকের বিশ্ব হচ্ছে নির্যাতনের বিশ্ব কিন্তু ইরানকে নিপীড়িনের বিরুদ্ধে কথা বলার সম্মান ধরে রাখতে হবে এবং বিশ্বের যেখানে অন্যায় ও নিপীড়ন চলুক না কেন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

হোয়াইট হাউসের গভীর উদ্বেগ

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিজ দেশের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক বেসামারিক মানুষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়। পালিয়ে আসা মানুষদের মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসাও করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে। সংকট উত্তরণে মিয়ানমারকে কফি আনানের নেত্বত্বাধীন রাখাইন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে রাখাইনের দুর্গত মানুষের ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়টি একবারও ব্যবহার করা হয়নি। আর মিয়ানমারকে ডাকা হয়েছে উপনিবেশিক বার্মা নামে। সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় 'বিদ্রোহী রোহিঙ্গা'রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে থাকে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে শূন্যে ছুড়তে থাকে সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে। আহত শরণার্থী হয়ে তারা ছুটতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তে। সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। ২৫ আগস্ট পুলিশ চেকপোস্টে হামলার পর অন্তত ৩ লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। আমরা ওই হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানাই।’ সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘ বেশিরভাগ বাস্তুহারা মানুষই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় আমরা বাংলাদেশ সরকারকে স্বাগত জানাই। বিশাল সংখ্যক সংখ্যালঘুদের এই পালিয়ে যাওয়ার কারণে এটাই স্পষ্ট হয় যে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেসামরিক মানুষকে রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন।’ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতিসংঘ ছাড়াও আরও ১৬টি মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ত্রাণ কার্যক্রমে অসহযোগিতা আর বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে তখন বলা হয়, কখনও ভিসা বন্ধ করে, কখনও সহায়তাকর্মীদের ফেরত পাঠিয়ে, কখনওবা আবার স্থানীয় প্রশাসনের রক্তচক্ষুর মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন শঙ্কা দেখা দেয় বলে অভিযোগ তুলেছে মানবিক সহায়তার আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো। এদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে সারা স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা এমন অভিযোগে উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, হত্যা ও ধর্ষণসহ অনেক অভিযোগ পাচ্ছি আমরা।’ মিয়ানামার কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি সম্মান রেখে এই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কাউকে যেন ঘরছাড়তে না হয় সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা পরিস্থিতির তদন্তে গত বছর মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেন। আগস্টের শেষ সপ্তাহে আনানের নেত্বত্বাধীন রাখাইন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসে। এতে রোহিঙ্গাদেরকে ‘বিশ্বের একক বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, যদি স্থানীয় জনগণের বৈধ অভিযোগগুলি উপেক্ষা করা হয়, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত না করা হয় এবং এ সম্প্রদায়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক থেকে যায় তাহলে উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য জঙ্গিবাদের উর্বর ঘাঁটিতে পরিণত হবে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে রাখাইন কমিশনের ওই প্রস্তাবনা অনুযায়ী মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সারা স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনের প্রতি সম্মান রেখে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাই। নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করে রাখাইন কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করারও আহ্বান জানাই আমরা।’ হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমার সরকারের মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে স্যান্ডার্স বলেন, যতদ্রুত সম্ভব এই সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। সহিংসতার শিকার এলাকাগুলোতে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয় এতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ