ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আরও পাঁচ বছর খেলতেই এই বিশ্রাম নেয়া-সাকিব 

স্পোর্টস রিপোর্টার : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিবের আবেদনের কারণেই তাকে দল থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আগামী ছয় মাস টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম চেয়ে বিসিবির কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। আপাতত বিসিবি তাকে তিন মাসের ছুটি দিয়েছে। সাকিবের এমন আবেদনের পর দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তবে সাকিবের বিশ্বাস, এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকাই রাখবে তার ক্যারিয়ারে। কারণ তিনি আরও ৫ বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চান। গতকাল বনানীতে নিজ বাসায় এনিয়ে কথা বলেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমি চাইলেই খেলতে পারি। কিন্তু আমি আরও অনেকদিন ভালোভাবে খেলতে চাই। নিজেকে চাঙ্গা রাখতে এই বিশ্রাস আমার জন্য জরুরি।’ প্রায় ৯ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সাকিবের অনুপস্থিতি টাইগারদের দুশ্চিন্তায় রাখবেই। কেউ কেউ তাই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর বিশ্রাম নেয়ার কথা বলছেন। তবে সাকিব মনে করেন এটাই সঠিক সময়। তিনি বলেন, ‘পরে নিলেও হতো, এমন মনে হলে আমি পরেই বিশ্রাম নিতাম। আমার কাছে মনে হয়েছে এখনই বিশ্রামের উপযুক্ত সময়। সবার সঙ্গে আমার মতের মিল না হওয়াই স্বাভাবিক। সমালোচকরা আমার জায়গায় থাকলে আমার অবস্থা বুঝতে পারতেন। একজন ব্যক্তি নিজেই তার অবস্থা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে। আমার মনে হয়েছে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত এবং এটা আমাকে অবশ্যই ভালো ফল এনে দেবে।’ সাকিবের এমন সিদ্ধান্তে কম সমালোচনা হচ্ছে না। সমালোচকদের কাছে সাকিবের প্রশ্ন রেখে বলেণ, ‘আপনারা কী চান? আমি আরও পাঁচ-ছয় বছর খেলি নাকি এক-দুই বছর? আমার তো মনে হয়, এভাবে খেলতে থাকলে আমি আর এক-দুই বছরের বেশি খেলতে পারব না। ভালো পারফরম্যান্স ছাড়া খেলার চেয়ে একদম না খেলাই ভালো আমার কাছে। আমার লক্ষ্য, যত দিন খেলব, তত দিন যেন ভালোভাবে খেলতে পারি। এজন্য এই বিরতি আমার প্রয়োজন। মানসিকভাবে সতেজ হয়ে ফিরলে আগামী পাঁচ বছর আমার পক্ষে নির্ভার হয়ে খেলা সম্ভব হবে। আমার কাছে একটি-দুটি ম্যাচ বা একটি-দুটি মাস না খেলার চেয়ে এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ ক্রিকেট বোর্ড সাকিবের আবেদনে সাড়া দেওয়ায় সাকিব কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে বলে বিসিবিকে ধন্যবাদ। সব কিছু বুঝিয়ে বলার পর তারা বলেছে যে ঠিক আছে। আমার দৃষ্টিভঙ্গি বিসিবির অযৌক্তিক মনে হয়নি। তাই আমার আবেদনে সাড়া দিয়েছে তারা।’ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। তার আগে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রওনা হওয়ার কথা টেস্ট দলের। ১০ অক্টোবর টেস্ট সিরিজ শেষে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সাকিব। সাকিব বলেন, ‘দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাব বলে প্রায় এক মাসের বিরতি পাচ্ছি। এমন বিরতি গত তিন-চার বছরে পাইনি। নিজেকে চাঙ্গা করতে এটা অনেক বড় বিরতি আমার জন্য। আসলে মানসিকভাবে ফুরফুরে না থাকলে খেলার কোনও মানেই হয় না। টেস্টে চার ইনিংসে আমাকে ব্যাট ও বল হাতে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই সেটা ঠিক ভাবে করতে হলে বিশ্রামটা জরুরি ছিল।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিবের না থাকা শূন্যতা তৈরি করবে বলেই মনে করেন অনেকে। এটা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘কারও জন্যই কিছু আটকে থাকে না। আশা করি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যারা সুযোগ পেয়েছে সবাই ভালো করবে।’ আপাতত টেস্ট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বিশ্রাম থাকলেও সাকিবের ইচ্ছা সবার শেষেই লংগার ভার্সনের খেলা ছাড়ার। সাকিব বলেন,‘আমার ইচ্ছা সবার শেষে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিবো। তার আগে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে থেকে অবসর নিবো। কারণ আমি আরও ৫-৬ বছর ক্রিকেট খেলতে চাই। আর এই চাওয়াটা বাস্তবায়নের জন্য এই বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল। এই অবসর সময়টাতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিজেকে ফুরফুরে করবো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ