ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায়  ৫ নম্বর কাটা যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার : এমবিবিএস চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ৫ নম্বর কেটে রাখার বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে চলতি বছরের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের ৫ নম্বর কাটা যাবে না। একই সঙ্গে নম্বর কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের স্বাস্থ্য স্বচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, পরিচালক (চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নম্বর কাটার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ড.ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। অপর দিকেসরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, ওই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত হওয়ায় চলতি শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর্দের ৫ নম্বর কাটা যাবে না।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এমবিবিএস কোর্সে প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন (২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষ) আহ্বান করে ২১ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর অণুচ্ছদে বলা হয়, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস বা বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের সর্বমোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর কর্তন করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। নম্বর কাটা বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিটের পর বলেছিলেন, ভর্তি বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস বা বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় আগের বছর এইচএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের সর্বমোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর কর্তন করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এর চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য কৌশল চ্যাপ্টারের এক নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া অব্যাহত থাকবে। ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রার্থী দুই বছরের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। ফলে আগের বার পাস করা শিক্ষার্থীদের থেকে ৫ নম্বর কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষানীতি পরিপন্থী। এ ছাড়া ওই সিদ্ধান্ত ২০১০ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইনের ৫ (৫) ধারার পরিপন্থী।

এর আগে নম্বর কাটার ব্যাখা চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন রিটকারী। কিন্তু বেধে দেয়া ৭২ ঘণ্টার মধ্যেও নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় তিনি এই রিট আবেদন করেন। নম্বর কাটার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করেছেন। এরআগে এমবিবিএস পরীক্ষায় নম্বরর কাটার বিধান ছিলনা।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ