ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তাসহ  ৭ জনের বিচার শুরু

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তালসরা দরবার শরিফের কোটি টাকা লুটের মামলায় র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সাবেক অধিনায়ক (বরখাস্ত) লে. কর্নেল জুলফিকার আলী মজুমদারসহ ৭ জনের বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরে আলম ভুঁইয়ার আদালতে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। এই মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে আগামী ২৩ অক্টোবর।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন র‌্যাব-৭-এর তৎকালীন সদস্য ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (বাধ্যতামূলক ছুটিতে) শেখ মাহমুদুল হাসান, র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবুল বশর, উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার বসু, র‌্যাবের সোর্স দিদারুল আলম, মানব বড়ুয়া ও আনোয়ার মিয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি চট্টগ্রাম জেলা সরকারি কৌঁসুলি এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জুলফিকার আলীসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আদালত আগামী ২৩ অক্টোবর সাক্ষ্য শুরুর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। এর আগে মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিরোধিতা করে বলা হয়, আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পরে অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের পড়ে শোনান আদালত। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আসামিরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে দন্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় (দস্যুতা ও ডাকাতি) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের সময় জামিনে থাকা সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দরবারের অর্থ লুটের অভিযোগের পর র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

পিপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। আসামিরা দরবার শরিফে ঢুকে সেখানকার লোকজনকে আটকে রেখে দরবার ও মসজিদ সংস্কারের জন্য মানুষের দেয়া দুই কোটি টাকা লুণ্ঠন করে। ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর রাতে তালসরা দরবারে তল্লাশির নামে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ আনোয়ারা থানায় র‌্যাব সদস্যসহ ১২ জনেরর বিরুদ্ধে মামলা হয়। দরবারের পীরের গাড়িচালক মো. ইদ্রিসের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলফিকার মজুমদারের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে দরবার শরিফে রাখা আলমারি ভেঙে দুই কোটি সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। ওই দিন দরবার শরিফ থেকে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে র‌্যাব সদস্যরা আটক করে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হলেও টাকার বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করেনি র‌্যাব। এ ঘটনা পরে জানাজানির পর র‌্যাব সদর দফতর থেকে করা তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে টাকা লুটের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল জুলফিকার আলীকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর আগে তাঁকে র‌্যাব চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর আত্মগোপন করেন তিনি। একই বছরের ৩ মে ঢাকার রমনা থানা এলাকায় এক বন্ধুর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আনোয়ারা থানার পুলিশ। তবে ২১ জুন উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন নিয়ে মুক্ত হন। এরপর ২০১২ সালের ২৬ জুলাই জুলফিকারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ। ২০১২ সালেই মামলা বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন জুলফিকার ও মাহমুদুল হাসান। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ জুলফিকারের করা রুল আবেদনটি হাই কোর্টে বাতিল হয়ে যায়। সবশেষ গত বছরের ১৮ অগাস্ট মাহমুদুল হাসানের পক্ষে আবেদনটি না চালানোর কথা জানানো হলে সেটিও বাতিল করে দেয় হাই কোর্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ