ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শরণার্থী রোহিঙ্গা তরুণীরা নিরাপত্তা শংকায়

 

কামাল হোসেন আজাদ, কক্সবাজার: মিয়ানমারের মগসেনা ও হিং¯্র রাখাইনদের বেপরোয়া অত্যাচারের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অবিবাহিত রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণীরা চরম নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। এতে রয়েছে রক্ষণশীল পরিবারের অনেক সুন্দরী তরুণী। যারা সেদেশে পরপুরুষের নজর থেকে ছিল অনেক দূরে। রোহিঙ্গা বস্তিতে ঠাঁই হওয়ায় নানাবিধ সুবিধা পেতে অসহায় বাসিন্দার জীবন যাপন করতে হচ্ছে এসব মুসলিম তরুণীদের। তারা নিরীহ হলেও পরদেশে সোচ্ছার হতে কুণ্ঠিতবোধ করছে। সুন্দরভাবে বাঁচতে উস্কানি দিচ্ছে স্থানীয় দুষ্কতকারীরা। অবিবাহিত সুন্দরী নারী ও কিশোরীরা দুর্বৃত্তদের  লোলুপ দৃষ্টির টার্গেট হচ্ছে রীতিমত; এমন অভিযোগও রয়েছে অহরহ। 

মগসেনাদের অস্ত্রের মুখে নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমরা একতরফা যুদ্ধে খেঁই হারিয়ে ফেলে এসব জনগোষ্ঠী। ফলে প্রাণে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসলেও এসব তরুণী শান্তিতে নেই। এ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোহিঙ্গা মসুলিম তরুণীরা। নিরাপত্তার এমন সংকট হবে আঁচ করতে পেরে ভাবনায় পড়েছে পরিবারগুলো।

এমনিতে সুচতুর দালাল ও দুষ্কৃতকারীদের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেট কেড়ে নেয়াসহ গরু-ছাগল-মহিষ লুটপাট করার মতো বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়েছে রোহিঙ্গাদের। এর ওপর পানি ও খাবারের সংকট হলেও রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণীরা ভুগছেন নিরাপত্তা সংকটে। একইদশায় পড়েছেন তাদের মা-বাবারাও। পালিয়ে আসা তরুণীদের অধিকাংশরই আত্মীয়-স্বজন বর্বর মগসেনাদের হাতে কোনো না কোনভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। এনিয়ে শোক সাগরে ভাসলেও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় লম্পট ও দালালরা।

জানা যায়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতায় কাজ করছেন স্থানীয় লোকজন। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকেও লোক গিয়ে অসহায় রোহিঙ্গা সহযোগিতা করছেন মানবিকতার দৃষ্টিকোন থেকে। কিন্তু লম্পট প্রকৃতির কিছু স্থানীয় লোকজন কূটবুদ্ধির আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে নির্দয় আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগিদের কাছ থেকে। তারা জানায়, গরু-ছাগলসহ নানা জিনিসপত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এসব লুটপাটের ঘটনা সামাল দেয়ার কথা বলে অবিবাহিত রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণীদের ওপর বদনজরসহ ফুসলানোর ঘটনা ঘটাচ্ছে লম্পট শ্রেণির স্থানীয় কিছু লোক ও দালালরা। তারা সুন্দরী রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণীদের নানান প্রলোভ দিয়ে আসছে। অপহরণের পথও বেছে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এভাবে দালাল চক্র রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণীদের টার্গেট করে অসহায়ত্তের সুযোগ লুটতে মেয়ে ও মেয়ের পরিবারকে ফুসলানোর কায়দা প্রয়োগ করছে।

মিয়ানমারের বুচিদং টমবাজার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছে তরুণী হামিদা। তার বাবাকে মিয়ানমারের সেনারা গুলী করে হত্যা করেছে। মা ও এক ছোট বোনের সাথে ৪দিন আগে সে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসেও স্বস্তিহীন দিন যাপনের কৌশল রপ্ত করতে হচ্ছে তরুণী হামিদা ও মা আলেয়া খাতুকে। সুন্দরী হওয়ায় কিছু লম্পট তরুণীকে আয়ত্তে আনার অপচেষ্টায়রত আছে। একইসাথে দালালও আশেপাশে ঘুরঘুর করছে তাদের আবাসন রোহিঙ্গা বস্তি ঘিরে। গত তিনদিন ধরে নানাভাবে তরুণী হামিদা ও তার মাকে ফুসলাচ্ছে লম্পট ও দালালরা। লোভও দেখাচ্ছে। দিয়েছে তরুণী হামিদাকে কুপ্রস্তাবও। বিনিময়ে টাকা দিবে বলেও প্রলোভন দিচ্ছে। শুধু লম্পট যুবকেরা নয়, কয়েকজন দালালও হামিদার মাকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। বলেছে তরুণী হামিদাকে তারা হোটেলে রাখবে। বিনিময়ে অনেক টাকা দেবে তারা। হামিদা বলেন, ‘বাবাকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে চরম আতঙ্ক নিয়ে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত লম্পটদের কালো হাত তাড়া করছে আমাদের। এই আতঙ্কের কারণে একটুও শান্তি পাচ্ছি না। নইলে শুধু বেঁচে থাকার জন্য ঠাঁই দেয়ায় বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ। মা আলেয়া খাতুন বলেন, ‘নিজ দেশ ছেড়ে জান বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি। অবিবাহিত মেয়েকে নিয়ে রয়েছি দুশ্চিন্তায়। কারণ মেয়েটি দুর্বৃত্তদের কুনজরে পড়ায় এখানে এসেও বিপদ পিছু লেগেছে। আমার খুব ভয়, না জানি মেয়েটা কখন হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই রাতদিন মেয়েকে নিজের চোখের ওপর ও হাত ধরে রেখেছি।’

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সংখ্যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় নিরাপত্তার প্রকট সঙ্কট বিরাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ