ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিমানবন্দরে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ ॥ আটক ১

 

স্টাফ রিপোর্টার : হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মো. ওসমান নামে এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে প্রায় ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৪ টাকা সমমূল্যের বিদেশী মুদ্রা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকায় মো. ওসমান (৪৪) কে আটক করা হয়েছে। তার পাসপোর্ট নম্বর-এজি-২১৭৮০৯৯। চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার পশ্চিম গুজরা গ্রামে তার বাড়ি। তার পাসপোর্ট থেকে জানা যায় সে ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ বার বিদেশে গেছেন।

গত সোমবার মধ্যরাতে বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেল এলাকা থেকে দুবাইগামী যাত্রী ওসমানের ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে এসব বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিজি-০৪৭) নম্বরের বিমানে করে দুবাইয়ের উদ্দেশে গতকাল মঙ্গলবার রওনা হওয়ার কথা ছিল যাত্রী ওসমানের।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিজি-০৪৭) নম্বরের বিমানটি দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা ছিল। আর ওই বিমানের যাত্রী ছিল চট্রগ্রাম জেলার বাসিন্দা মো. ওসমান। সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে যাত্রী ওসমান যখন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শেষে চেক-ইন কাউন্টারে (বোর্ডিং পয়েন্টে) পৌঁছায় তখন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। 

 গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। ওসমান তার কাছে কোন বৈদেশিক মুদ্রা থাকার বিষয়টি শুল্ক গোয়েন্দাদেরকে অস্বীকার করেন। ওসমানকে শুল্ক ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে নিয়ে ব্যাপক জিঞ্জাসাবাদ করলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। 

পরে তাঁর বুকিংকৃত কাপড়ের ব্যাগে থাকা সবজি ও গরুর মাংসের মধ্যে বিশেষভাবে প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাগুলো পাওয়া যায়। জব্দকৃত বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১৫০ সৌদি রিয়াল, ১ হাজার ৫৮০ দিরহাম ও ১ হাজার ওমানের রিয়াল। বাংলাদেশী টাকায় যার সমপরিমাণ ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৪ টাকা। 

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিজি ড. মইনুল খান আরো জানান, আটক যাত্রী ওসমান স্বীকার করেন যে তিনি চোরাচালানি পণ্য কিনতে এই মুদ্রা অবৈধভাবে বহন করছিলেন। কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়া এগুলো বহন বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও শুল্ক আইন বিরোধী। শুল্ক আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ