ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বেপরোয়াভাবে  চলছে অপদ্রব্য পুশ

খুলনা অফিস : একের পর এক অভিযান হলেও বেপরোয়াভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশকারীরা। কোনভাইে থামানো যাচ্ছেনা অসাধু এসব ব্যবসায়ীদের। অবৈধভাবে মুনাফা অর্জনের আশায় কতিপয় ব্যবসায়ী অপদ্রব্য জেলী পুশ করছেন চিংড়িতে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের দেশের সুস্বাদু চিংড়ি তার সুনাম ও বাজার দুটোই হারাচ্ছে। এধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি ও তাদের ব্যবসা থেকে বয়কট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিংড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে দারুণভাবে ভূমিকা রাখছে। আঞ্চলিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চিংড়ি শিল্প। কতিপয় ব্যক্তির লোভ-লালসার কাছে মূল্যবান এ শিল্পটি এখন হুমকির মুখে রয়েছে। প্রতিমাসে খুলনা জেলার বিভিন্ন মৎস্য ডিপোতে অভিযান চালিয়ে পুশকৃত চিংড়ি জব্দ ও জরিমানা করা হচ্ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নগরীর নতুনবাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর নতুনবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার ৪টি ডিপোতে অভিযান চালিয়ে ওজন বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলী পুশকৃত ৭০০ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। চিংড়িতে অপদ্রব পুশ করার অভিযোগে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত ৭০০ কেজি চিংড়ি রূপসা নদীতে ফেলে দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া পুশের জন্য রাখা প্রায় ১ হাজার কেজি চিংড়ি উদ্ধার করে বিভিন্ন এতিমখানায় দিয়ে দেয়া হয়। এসকল চিংড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। র‌্যাব-৬, খুলনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। র‌্যাব-৬ ও মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে নতুনবাজারের ৪টি মৎস্য ডিপোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় চিংিড়িতে অপদ্রব্য জেলী পুশের অভিযোগে নতুন বাজারের ফাতেমা ফিসের মালিক ফারুক হোসেনকে ৭৫ হাজার টাকা, অপু ফিসের মালিক আকাশ রায়কে ২০ হাজার টাকা, সুমন ফিসের মালিক সুমনকে ৫০ হাজার টাকা এবং আঁখি ফিসের মালিক মো. আলমগীর শেখকে ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অংগ্যজাই মারমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই জরিমানা আদায় করেন। এসময় চারটি ডিপো থেকে জেলী পুশকৃত ৫০ কেজি গলদা ও ৬৫০ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করে তা’ রূপসা নদীতে ফেলে দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া পুশের অপেক্ষায় রাখা আরও ১ হাজার কেজি চিংড়ি উদ্ধার করে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অসাধু চিংড়ি ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ