ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কিউ পয়েন্ট শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

বেআইনিভাবে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার কিউ পয়েন্ট ন্যাশনাল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) নারী শ্রমিকদের লাল পতাকা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে কিউ পয়েন্ট শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) এর উদ্যোগে ইউনিয়ন বন্ধের অপচেষ্টা, কর্মরত শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত ও স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি নির্যাতনের প্রতিবাদে গার্মেন্টস শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি রাজিয়া সুলতানা। বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অন্তর, সংহতি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সিএলএনবি’র চেয়ারম্যান হারুনূর রশিদ, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সামছুদ্দিন। আরো বক্তব্য রাখেন সুলতানা বেগম, মোঃ ইলিয়াস, খাদিজা রহমান, মোঃ ফরিদ উদ্দীন, মাহবুবুল আলম, জান্নাতুন নাহার, আলমগীর রনি, তপন সাহা, বাচ্চু মিয়াসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। 

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জামুর মুচিপাড়া, হেমায়েতপুর, সাভারে অবস্থিত কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন্স লিঃ এর শ্রমিকরা গত ৩১ আগস্ট শ্রম দপ্তরে একটি শ্রমিক ইউনিয়ন কমিটি দাখিল করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ ইউনিয়নের বিষয়টি জানতে পেরে কর্মরত শ্রমিকদের ভয়ভীতি, চাকরিচ্যুত, মারধর এমনকি যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকদের জানিয়ে দেয় এ কারখানায় তাদের আর কোন প্রয়োজন নাই। বক্তারা আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ- শ্রমিক কর্মচারী, বিজিএমইএ, কলকারখানা অধিদপ্তর, শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার চুক্তি করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ আদৌও একটি চুক্তিও বাস্তবায়ন করেন নাই। কারখানার কর্মকর্তারা শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, চরথাপ্পর এমনকি স্থানীয় সন্ত্রাসী দ্বারা হুমকি দিয়ে থাকে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইনকে তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছা-খুশীমত কারখানা পরিচালনা করে শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর রেখে বের করে দেয়। এ কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্থায়ী কোন নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয় না। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ সুবিধাদী দেওয়া হয় না। শ্রমিকদের নৈমত্তিক, বাৎসরিক, মেডিকেল ছুটি কোন কিছুই কারখানা কর্তৃপক্ষ কার্যকর করে না। বক্তারা হুশিয়ার করে বলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মকান্ড বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর সর্বশেষ সংশোধনী-২০১৩’র ১৯৫ ধারা অসৎ শ্রম আচরনের শামীল এবং যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবিলম্বে সকল শ্রমিকদের চাকুরীতে পুনঃবহালসহ তাদের আইনানুগ প্রাপ্যাদী পরিশোধের আহ্বান জানান। অন্যথায় অসহায় শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ