ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরিবহন খাতে দুর্নীতি চাঁদাবাজি বন্ধ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে -মিয়া গোলাম পরওয়ার

 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পরিবহন সেক্টরে দুর্নীতি চাঁদাবাজি অবাধ প্রভাব দূর করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হব। পরিবহন সেক্টরে কেউ রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়ছে,অন্যদিকে দিনের পর দিন খাটিয়ে অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার মধ্যে দিয়ে এই সব অনিয়ম বন্ধ ও অসহায় শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যাগে গাজীপুরস্থ টংগীর শিল্পাঞ্চলের এক মিলনায়তনে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিক নেতৃবুন্দ এই কেন্দ্রীয় পরিবহন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবীর আহমেদের সভাপতি ও ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য আবুল হাশেমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান, পরিবহন মালিক নেতা ড. সৈয়দ সরোয়ার সিদ্দিকী, গাজীপুর মহানগরীর সিনিয়র সহ-সভাপতি খান মোহাম্মাদ ইয়াকুব আলী। উপস্থিত ছিলেন রংপুরের সড়ক পরিবিহন শ্রমিকনেতা আব্দুল মালেক রব্বানী, সিলেট মহানগরীর সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা আবু কাওছার কায়েস,বগুড়ার সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা শামসুল আলম কামরুল,ঢাকা মহানগরীর সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা শাহিন শিকদার, কক্সবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা নুরুল ইসলাম,গাজীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ হোসেন হাওলাদার, যশোর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা আসমত আলী খান ও গোলাম মোস্তফা,খুলনা সড়কক পরিবহন শ্রমিকনেতা ইউসুফ আলী হাওলাদার, চট্টগ্রাম মহানগরী সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা আবুল হোসেন, ফরিদপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা আব্দুর রহমান ও হাসানুল হক হাসমত,বরিশাল মহানগরীর সড়ক পরিবহন শ্রমিকনেতা জাকির হোসেন,চাপাই জেলা সড়ক পরিবহিন শ্রমিকনেতা সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও বাগেরহাট জেলার কামরুজ্জামান টুকু, কুমিল্লার দুলাল হোসেন সালাম,পাবনার সুরুজ আলী,পটুয়াখালীর আনোয়ারা হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা মহানগরীর প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, পরিবহন সেক্টরে দুর্নীতি চাঁদাবাজির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি সরকারি ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা বিভিন্ন নামে বে নামে শ্রমিক সংগঠনগুলি তিনি একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, দেশে বর্তমানে ৭ হাজার ৪৯০টি শ্রমিক ইউনিয়ন আছে। যার সদস্য সংখ্যা ২৩ লাখ ৩৬ হাজার জন। শ্রমিক ফেডারেশন আছে ১৫টি। এর সদস্য সংখ্যা ৫ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ জন।

অবৈধ সংগঠনগুলোই চাঁদাবাজি করছে দেশে ৪১২টি মালিক সংগঠন থাকলেও নিয়মিত কার্যক্রম চালায় ১১৬টি। অন্যদিকে ৫১০টি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে নিয়মিত কাজ করে ১৪৫টি। বাকি সংগঠনগুলোই এসব চাঁদাবাজির জন্য দায়ী দেশের সব ফেরিঘাট, ওয়েস্কেলে ইচ্ছেমতো চাঁদাবাজি হচ্ছে। হাইওয়ে, শিল্প পুলিশসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেও। পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা, ভূঁইফোর রাজনৈতিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ বিস্তর। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন মালিকরা কার্যত অসহায়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চাঁদাবাজি বন্ধ হলে স্তরে-স্তরে চাঁদা দেয়ার লাগাম টেনে ধরা অনেকটাই সম্ভব। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ