ঢাকা, বুধবার 13 September 2017, ২৯ ভাদ্র ১৪২8, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা বিমানবন্দর নির্মাণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি

খুলনা অফিস : মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা, বিমানবন্দর নির্মাণ, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ খুলনার যাবতীয় উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ এ সব দাবি জানান। 

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, খান জাহান আলী বিমানবন্দর, যা ৫৪৫ কোটি টাকায় একটি নতুন এয়ারপোর্ট তৈরি করে খুলনা অঞ্চলের এবং দেশের বাকি অংশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য বিনিযয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দ্রুতগতির যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পটি একেবারেই অচল হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে বিমানবন্দর বাস্তবায়নে সংশয় দেখা দিয়েছে। খুলনায় অত্যাধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণাধীন। কিন্তু বর্তমানে উক্ত নির্মাণকাজ খুবই ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া যে কাজ হচ্ছে তা যথেষ্ট মানসম্পন্ন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। বর্তমানে খুলনা বিভাগীয় সদরের সাথে শহর ও তদসংযুক্ত উপজেলা গুলোর সড়ক ও যোগাযোগের ব্যবস্থার বেহাল দশা, চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা খুবই খারাপ, খুলনায় কোন খেলাধুলা না থাকায় স্টেডিয়ামগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। নগরীর শিববাড়ী মোড়ে জিয়া হল (পাবলিক হল) দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে আছে, যার ফলে বর্তমানে সভা সমাবেশ করার জন্য খুলনায় কোন অডিটরিয়াম নেই। খুলনার জনমানুষের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধির জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অবিলম্বে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনার জোর দাবি জানানো হয়।

খুলনা রেল স্টেশন থেকে পাওয়ার হাউজ মোড়, ময়লাপোতা হয়ে জিরো-পয়েন্ট পর্যন্ত ৬ লেনের রাস্তা, খুলনা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত ৬ লেন এবং রূপসা ও ভৈরব নদীর তীর ঘেষে শহর রক্ষা বাঁধসহ রিভার ভিউ রোড নির্মাণ, শের-এ-বাংলা রোডে ৪ লেন রাস্তার একটি প্রাক্যলন, খুলনা থেকে ফুলতলা ৬ লেন রাস্তার কোন প্রাক্যলন আদৌ তৈরি করা হয়নি এবং এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন কার্যক্রমও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শহর রক্ষা বাঁধসহ রিভার ভিউ রোডটি কমপক্ষে ১০০ ফুট প্রশস্ত হওয়া বাঞ্চনিয়, যা খুলনাকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করবে এবং যানজট নিরসনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে ও পর্যটন শিল্পের ব্যপক প্রসার ঘটাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনাবাসীর দাবির প্রতি সহানুভুতিশীল হয়ে ২০১৩ সালে কেডিএ’র প্রস্তাবনায় রূপসা ব্রীজ থেকে রূপসা ঘাট পর্যন্ত ৪ লেনের রাস্তা নির্মানের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন করেন। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় দীর্ঘ ৪ বছর পার হলেও অদ্যাবধি সেখানে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। ২০১১ সালে খালিশপুরের জনসভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করেন। কিন্তু প্রকল্পটি অদ্যাবধি দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি, প্রকল্পটি হিমাগারে পড়ে আছে। বয়রা মেইন রোড সম্প্রসারণসহ খুলনা টেক্সটাইলস্ পল্লী দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। খুলনায় মেরিন একাডেমী, ক্যাডেট কলেজ, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা, সুন্দরবনকে ঘিরে বৃহত্তর খুলনার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন-এ সমস্ত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো নির্মানেরও কোন খবরই নাই। প্রকল্পগুলো যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে খুলনায় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তাঘাট প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যার কারণে প্রায়শই রাস্তায় ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে ও জলবদ্ধতা হচ্ছে। 

এ সব দাবি বাস্তবায়নের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার মেডিকেল কলেজের সামনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অবিলম্বে ১০০০ বেডে উন্নীতকরণসহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু ও খুলনা জেনারেল হাসপাতাল আধুনিকায়ণের দাবিতে সকাল ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন, সহ-সভাপতি শাহিন জামাল পন, মো. ফজলুর রহমান, এডভোকেট শেখ আবুল কাশেম, মামনুরা জাকির খুকুমনি, সিনিয়র নেতা এডভোকেট এস এম দাউদ আলী, যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, মো. মনিরুজ্জামান রহিম, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আলীসহ সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, সরদার রবিউল ইসলাম, রকিব উদ্দিন ফারাজী, প্রকৌকলী মো. আব্দুল্লাহ, হাসান ইফতেখার চালু, জিয়াউর রহমান বাবু সাহেব, চৌধুরী হাফিজুর রহমান, মো. জিলহাজ্জ হওলাদার, কাজী মিরাজ হোসেন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ