ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 September 2017, ৩০ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দাকোপ উপজেলা রেজিস্ট্রি ও ভূমি  অফিসে রহস্যজনক চুরি

খুলনা অফিস: খুলনার দাকোপে উপজেলা পরিষদ অভ্যান্তরের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অবস্থিত উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে গভীর রাতে রহস্যজনক দুর্ধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দাকোপ থানা পুলিশ এক নৈশ প্রহরীকে গ্রেফতার করেছে।

দাকোপ থানার বাউন্ডারী সিমানার লাগোয়া উপজেলা পরিষদ বাউন্ডারীর নিরাপত্তার মধ্যে অবস্থিত সাব রেজিষ্ট্রি অফিস এবং উপজেলা ভূমি অফিসে রহস্যজনকভাবে দূর্ধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়েছে। ঘটনাটি এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। 

সংশ্লিষ্ট দুটি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিনে যথারীতি অফিস করে তাঁরা তালাবদ্ধ করে রেখে যায়। রোববার সকালে এসে ওই দু’টি অফিসের মূল ফটকসহ অভ্যান্তরীন সকল দরজার তালা ভাঙ্গা দেখা যায়। 

ভূমি অফিসের রেকর্ডরুম বাদে অবশিষ্ঠ চারটি রুমের এবং অভ্যান্তরে থাকা সাতটি ষ্টিলের আলমারী ও টেবিলের সকল ড্রয়ার এবং রেজিষ্ট্রি সাতটি আলমারীসহ ড্রয়ারের তালা ভাঙ্গা আবার কোনোটা কাটা পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে, গত শনিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় সংঘবদ্ধ চক্র এই দুঃসাহসিক কাজটি করেছে। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি পারভিন সুলতানা জানান, তাঁর কক্ষসহ অপর তিনটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে সাতটি আলমারী ও টেবিলের ড্রয়ার ভাঙ্গা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ২/৩ হাজার টাকা ছাড়া ওই অফিসের অন্য কোন মালামাল খোয়া যায়নি বলে তাঁরা ধারনা করছে। 

অপরদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী রবিন দাস জানায়, তাঁদের দপ্তরের সাতটি স্টিলের আলমারী এবং টেবিলের তিনটি ড্রয়ার ভাঙ্গা পাওয়া গেছে। তবে কোন মুল্যবান কাগজপত্র খোঁয়া যাওয়ার বিষয়টি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় দপ্তর নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে রোববার সকালে দাকোপ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভূমি অফিসের নৈশ প্রহরী মিঠুন চক্রবর্তীকে তাঁদের হেফাজাতে নিয়েছে। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি জানায় শনিবার রাতে ওই নৈশ প্রহরী ভূমি অফিসে না থেকে পাশের ডরমেটারীতে ছিল এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার দলিল এবং মুল্যবান কাগজপত্রের নিরাপত্তায় রেজিস্টি অফিসে অজ্ঞাত কারণে কোন নৈশ প্রহরী থাকেনা এমন দাবী তাঁদের। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষে রুহুল আমিন মল্লিক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আ. সামাদ, উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের রফিকুল ইসলাম, সমাজসেবার শেখ জহুর আলী এবং কৃষি অফিসের পক্ষে তারেক আজিজ নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে আছে। কিন্তু খোজ নিয়ে জানা গেছে, রুহুল আমিন মল্লিক ব্যতিত রাত্রী কালীন ওই কম্পাউন্ডে কাউকে দেখা যায়না। এমনকি মাধ্যমিক শিক্ষার আঃ সামাদ যে নৈশ প্রহরী সেটা পরিষদের অধিকাংশরা জানেইনা। কারণ তাঁকে সর্বদা অফিসার লেভেলের কাজে দেখা যায়। 

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। বিষয়টির আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম পরিষদ অভ্যান্তরে দুঃসাহসিক এই চুরির ঘটনার বিষয়টি যে কোন ভাবে আইনের আওতায় এনে প্রকৃত রহস্য বের খুঁজে বের করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ