ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 September 2017, ৩০ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান ভারতের

১৩ সেপ্টেম্বর, ইন্টারনেট: রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়; মন্তব্য করেছে ভারত। রাখাইনে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলাকালে তাদের ভারত থেকে বের করে দেওয়া হলে তা প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন হবে বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তার মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য এবং পূর্বানুমানভিত্তিক মন্তব্য আখ্যা দিয়েছে দিল্লি।

ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাসোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে নয়াদিল্লির সমালোচনা করেন জেইদ রা’দ আল হুসেইন। তিনি বলেন, ‘প্রথাগত আইন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ভারত সমষ্টিগতভাবে রোহিঙ্গাদের বহিষ্কার করতে পারে না।’ ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং গো-রক্ষকদের তাণ্ডব বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশ করেন এছাড়া সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে। 

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে ভারতের নিন্দা করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। জেইদ রা’দ আল হুসেইনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের প্রতিনিধি রাজীব কুমার চান্দের গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি আল হুসেইন ‘পূর্বানুমান-এর ভিত্তিতে ভারতের সমাজকে বিচার করতে চাচ্ছেন।’  

সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। আহত শরণার্থী হয়ে তারা ছুটতে থাকে বাংলাদেশ আর ভারতে। আনন্দবাজার পত্রিকার শনিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ইতিমধ্যেই আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি মিয়ানমারে গিয়ে এদের সকলকে ‘পুশব্যাক’ করার নীতি ঘোষণা করে এসেছেন।  

 সোমবার জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে নয়াদিল্লির সমালোচনা করে হুসেইন বলেন, ‘নির্যাতনের শঙ্কা আছে বা গুরুতর সহিংস এলাকায় তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারে না।’ 

এর বিপরীতে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রাজীব কে চান্দের কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভারত তার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, মুক্ত গণমাধ্যম, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার জন্য গর্বিত। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ভারতীয় সমাজের বৃহত্তর ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ