ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 September 2017, ৩০ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের ১২শ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত চলছে -- প্রধানমন্ত্রী

 

সংসদ রিপোর্টার: শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের ১২টি দেশে ১২০০ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়া  গেলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।

জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের ১২টি দেশে অর্থপাচারের তথ্য তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, সম্প্রতি  গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক প্রতিবেদন (জিআইএন) অনুযায়ী বিএনপির খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তার পরিবার যে টাকা পাচার করেছে; তার একটা রিপোর্ট রয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু দুবাই না, অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের সম্পদ আছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। 

কার কোথায় কী আছে তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, সৌদি আরবে আহমেদ আল আসাদের নামে আল-আরাবার শপিং মলটির মালিকানা বেগম জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘ইকরা’র মালিকও বেগম জিয়া। জিয়াপুত্র আরাফাত রহমানের নামে এই সম্পদের পুরো মালিকানা। তাছাড়া তুহিন নামে তার (খালেদা জিয়ার) ভাতিজার তিনটি বাড়ি আছে কানাডাতে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে ‘হোটেল মেরিন ডে’ মালিকানার ১৩ হাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্ট্যামফোর্ডে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে রয়েছে বিলাসবহুল ভবন। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস তার সন্তানের নামে কিনেছেন দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুর ইসলামের সিঙ্গাপুরে বিশাল বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তদন্ত চলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানি লন্ডারিং এর জন্য তদন্তের একটা ব্যবস্থা আছে। তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাতো সবাই জানেন তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় এসে হত্যা সন্ত্রাসের পাশাপাশি দুর্নীতি লুটপাট করে বিদেশে অর্থপাচার করা মানি লন্ডারিং করা এই অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচার করা টাকা ফেরত এনেছি। আমরাই প্রথম বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

সংসদের বিরোধী দল থেকে প্রশ্নটি আসায় ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের কেউ প্রশ্নটি আনলে অনেকে আছেন, যারা মায়াকান্না করতো- সরকার হিংসা করে এগুলো বলছে। যাইহোক তদন্ত চলছে, তাতে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

ফরিদুল হক খান দুলালের (জামালপুর-২) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহার হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া কোনো বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, চলাচল ও স্থানান্তর একই সঙ্গে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত আছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে জঙ্গি কর্মকা- একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের দেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয় বিধায় এদেশের মানুষ জঙ্গি কর্মকা-কে সমর্থন করে না। ফলে ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকা- পরিচালনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের যোগানদাতা ও মদদদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। জঙ্গিদের অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিদের অর্থায়ন সংক্রান্ত ২০১০ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত ৯০টি মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৭, ৮, ৯ এবং ১৩ ধারায় রুজু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গি অর্থায়ন সংক্রান্ত রুজুকৃত মামলাসমূহ সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে আরও বেশ কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে মর্মে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশের জঙ্গি অর্থের উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ