ঢাকা, শুক্রবার 15 September 2017, ৩১ ভাদ্র ১৪২8, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উলিপুর-চিলমারীর মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি চাঙ্গা হচ্ছে

মাসউদ রানা, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) থেকে : বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল যতই ঘনিয়ে আসছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-২৭ (উলিপুর-চিলমারীর একাংশ) ৩ আসনের ২০ দলীয় জোট বিএনপি, জাতীয় পাটি (জাপা) ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাপ বেড়ে চলছে। প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকার কর্মী বাহিনীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ছোটাছুটি ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। নির্বাচনী প্রচারনায় বসে নেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও আ’লীগের এবং জাতীয় পার্টি, জামাত, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এলডিপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং কেন্দ্রে তাঁরা মনোনয়নের জন্য জোর লবিং শুরু করছে।
জানাগেছে, বর্তমান সাংসদ একেএম মাঈদুল ইসলাম মুকুলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যর্থতাকে কাজে লাগিয়ে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মিসেস মতি শিউলি বর্তমান সরকারের সফলতা তুলে ধরে নিজের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এবং তিনি সার্বক্ষনিক মাঠে রয়েছেন। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি শিল্পপতি তাসভির-উল ইসলামও তৎপর রয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, শিল্পপতি তাসভির উল ইসলাম নিয়মিত এলাকায় থাকেন না। তবে তিনি তার নিয়োগকৃত লোকজন দিয়ে দলীয় কর্মকা- পরিচালনা করায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বেজায় নাখোশ।
বিশেষ করে, বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে উলিপুর বিএনপি কার্যালয়ে বসে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীরা তার ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি ঐ সময় উলিপুর উপজেলা বিএনপি অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। তার এমন আপোষ কামী ভুমিকার কারনে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র নেতৃত্বের প্রতিও সাধারণ কর্মীদের আস্থা কমেছে। এদিকে, এ আসনের জাপা’র বর্তমান সাংসদ একেএম মাঈদুল ইসলাম তাসভির উল ইসলামের আপন ভাই হওয়ায় তার প্রতি অনেকেই আস্থা রাখতে পারছেন না দলের নেতাকর্মীরা। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঐ পরিবারের হাত থেকে বিএনপিকে উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক নেতাকর্মী জানান, দলের অভ্যন্তরে কোন গনতন্ত্র নেই। সভাপতির সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেই তাকে পদ-পদবি হারাতে হয়। সম্প্রতি যৌক্তিক কারণে বিরোধিতা করতে গিয়ে উলিপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার ,উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানকে বিতাড়িত করে তাদের স্থানে অনুগতদের বসিয়ে বিএনপিকে পারিবারিক দলে রুপান্তরিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, উলিপুর বিএনপিতে আদর্শের কারণে নয়, অনেকেই মাসিক চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত। এসব নেতাকর্মীদের সাথে মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তাছাড়া তার বড় ভাই বিএনপি, জাতীয় পার্টি এমনকি আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে নিজেরদের ভাগ্যেও পরিবর্তন ঘটালেও উলিপুরের উন্নয়নে কোন ভুমিকা রাখেনি। বড় ভাইয়ের সাথে দীর্ঘসময় রাজনৈতিক সুবিধাভোগী নেতাদের একটি অংশ তাসভির-উল-ইসলাম রাজনীতিতে সক্রিয় হলে তার সাথেই যোগ দেন। আর এসব নেতাদের দাপটে আসতে আসতে সরে যেতে হয় বিএনপি’র অনেক ত্যাগী নেতাকে। এ অবস্থায় হাইব্রিড নেতাদের কর্মকা-ে অনেকেই নাখোশ।
এ পরিস্থিতিতে উলিপুর বিএনপি’র হাল শক্তভাবে ধরতে একমাত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কেন্দ্রিয় যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেককে তারা মনে প্রানে সঠিক বলে মনে করেন। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকের মতে, স্থানীয় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা আব্দুল খালেককে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি বিএনপি’র ঘরে আসতে পারে বলে সচেতন মানুষ তথা ভোটাররা মনে করেন। সেই সাথে আগামী দিনে এ আসন বিএনপি’র একটি শক্তিশালী ঘাটি হিসাবে পরিনত হবে বলে অনেক নেতাকর্মী মনে করেন।
এদিকে, জাপা’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে যারা মাঠে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ আলহাজ  একেএম মাঈদুল ইসলাম (এমপি), ও জাপা কেন্ত্রীয় কমিটির যুগ্ন-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের খায়রুল হক (এটি)। এছাড়াও ট্রুথ পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম হাবিব দুলাল অপরদিকে আ’লীগের যারা মাঠে রয়েছেন চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বীরবিক্রম, উলিপুর পৌর আ’লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সরকার, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম হোসেন মন্টু, সাবেক এমপি আলহাজ আমজাদ হোসেন তালুকদার ও জেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান তবকপুর ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াদুদ হোসেন মুকুল বিকল্প ধারা’র মোজাম্মেল হক মানিক, জামাতের খাইরুল ইসলাম। প্রার্থীরা স্ব-স্ব পরিচিতি প্লাকার্ড-হ্যান্ডবিল ইত্যাদি ইতিমধ্যেই শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লাগানো ও বিতরণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন। ফলে, নির্বাচনি হাওয়া আগাম সরগরম হওয়ায় ভোটারা নির্বাচনের প্রতি দিন দিন উজ্জিবিত হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর মাঝে নির্বাচন আসা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ