ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংস্কারের অভাবে খুমেক হাসপাতাল ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংস্কারের অভাবে দিনকে দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ র‌্যাম সিঁড়ি (রোগী ওঠানামার সিঁড়ি) দিয়েই রোগীদের ওঠানামা করতে হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবনের বিভিন্ন পিলারগুলো। বিষয়গুলো হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ পাবলিক ওয়ার্কার্স ডিপার্টমেন্টকে (পিডাব্লিউডি) অবহিত করলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি। গত কয়েকদিন হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি ১৯৮৯ সালে নগরীর ছোট বয়রায় ‘৭৫ শয্যা বিশিষ্ট খুলনা হাসপাতাল’ নামে এর যাত্রা শুরু। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। পরবর্তীতে এই হাসপাতালকে ঘিরে প্রতিষ্ঠা করা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ। সেই থেকে ২৫০ শয্যার এই খুলনা হাসপাতালটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলে পরিচিতি লাভ করে। জন্ম থেকেই হাসপাতালটি নানা সমস্য্যায় জর্জরিত। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি। গত নয় বছর আগে এ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এ পর্যন্ত এর জন্য কোন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল অবকাঠামোর এক তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে এ হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম।

সরেজমিন দেখা গেছে, জরুরি বিভাগের সামনে রয়েছে র‌্যাম সিঁড়ি। এই সিঁড়িটি দীর্ঘ এক বছর ধরে রেলিং ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে হাসপাতালে আসা আগত রোগীদেরকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেয়ার জন্য ওঠানামা করা হচ্ছে। একটু অসাবধনতা হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রান্নাঘরের ছাদটি প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে। মেডিসিনি ইউনিট-২ এর ৭-৮নং ওয়ার্ডে মেইন ক্লপসিবল গেট ভেঙে গেছে প্রায়ই দুই মাস অতিবাহিত হলেও হচ্ছে না মেরামত। এছাড়া রেজিস্ট্রি ডাক্তারের রুমের সামনে ছাদ ভেঙে পড়ছে, বিষয়টি ওয়ার্ডের ইনচার্জ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গত ১৯ জুলাই অবহিত করেন। ওই ওয়ার্ডে পুরুষ বাথরুমে পানির ট্যাপ নষ্ট হওয়ার কারণে পাইপ থেকে পানি পড়ে, দেয়ালের ক্ষতিসাধন হচ্ছে।

হাসপাতালের ভবনের পেছন সাইডে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের গুরুত্বপূর্ণ পিলারগুলো সংস্কার না হয়ায় আস্তে আস্তে পলেস্তরা খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। হাসপাতালে সিঁড়ির বাইরের কাঁচের জানালাগুলো ভেঙে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় পানি ভেতরে প্রবেশ করে সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

এছাড়া হাসপাতালের কয়েকটি কেবিনে পানির পাইপ ভাঙা, লেবার ওয়ার্ডে দরজা ভেঙে পড়ে আছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাথরুমের ট্যাপ ও দরজা নষ্ট রয়েছে। এ সব কারণে আগত রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ