ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশ বছরে সংস্কার নেই চার সেতু যেন মরণ ফাঁদ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : গৈলা ইউনিয়নের দাসপট্টি গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ চলাচলের অনুপযোগী

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র অধীনে নির্মিত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চারটি সেতু বিশ বছরেও সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ। সংস্কারের অভাবে সেতু চারটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে। জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কারের জন্য আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থ বছরে স্বল্প ব্যায় প্রকল্পের অধীনে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের রথখোলা-ভদ্রপাড়া সড়কের বড়ইতলা নামক স্থানে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, গত ২০ বছরে কর্তৃপক্ষ সেতুটি সংস্কারের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ছোট ও মাঝারি যানবাহনযোগে গৈলা, নাঘার,  মোল্লাপাড়া, ভদ্রপাড়া গ্রামের ২০ হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকে। গত তিন বছর যাবত এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় করম সরদার(৩৫), রাবেয়া (বেগম) ও কলেজ ছাত্র আরিফ হোসেন(২২) জানান,  সেতুটি দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার পরে পায়ে হেটে যাতায়াত করতে হয়। সেতুটির অবস্থা এতই খারাপ যে পায়ে চলাচল করতে গিয়ে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই ভাঙ্গায় পড়ে পা ভেঙ্গে আহত হয়েছে। বরিশাল এল,জি,ইডির স্বল্প ব্যায় প্রকল্পের অধীনে ১৯৯৮-১৯৯৯ইং অর্থ বছরে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যায়ে গৈলা ইউনিয়নের তালতার মাঠ এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। গত ২০ বছরে সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গৈলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য শোভা রানী সরকার জানান, সেতুটি সংস্কার করার জন্য বার বার উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো সত্বেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। স্থানীয়রা জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের তালতারমাঠ, ঐচারমাঠ ও দীঘিবাড়ি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সেতুটি দিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন সড়কে যাতায়াত করে থাকেন। এ ছাড়া এসড়কটি দিয়ে তালতারমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঐচারমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঐচারমাঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অশোক সেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগৈলঝাড়া এস, এম বালিকা বিদ্যালয় ও ভেগাই হালদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। গত প্রায় ৫/৬ বছর ধরে তালতারমাঠ এলাকায় সেতুটি ভেঙ্গে গেছে। সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে থাকে। তালতার মাঠ গ্রামের অতুল চন্দ্র সমাদ্দার (৬০), কৃঞ্চ কান্ত হালদার (৫০) ডা. শান্তি রঞ্জন হালদার (৬৫) জানান,  সেতুটি চালু থাকলে এলাকার লোকজন রিকসা ভ্যান ও ইজিবাইকে যাতায়াত করত। বর্তমানে সেতুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী ছোট ছোট শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয় এবং যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঐচারমাঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিখা রানী হালদার জানান, সেতুটি দিয়ে শিশুদের পার হতে খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় পা ফসকে শিশুরা দুর্ঘটনা কবলিত হয়। এ সেতু পার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় প্রায় ১২/১৪ জন শিশু আহত হয়েছে। জররি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বরিশাল এলজিইডি একই অর্থ বছরে একই প্রকল্পের অধীনে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের দাসেরহাট-মাহিলাড়া সড়কের দাসপট্টি নতুন হাট এলাকায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৫০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করেন। স্থানীয়রা জানান, গত ২০ বছরে সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব ইমতিয়াজ জনান, তার ইউনিয়নে তিনটি সেতু সংস্কারের অভাবে চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে মানুষ যাতায়াত করে থাকে। মানুষের দুর্ভোগের কথা উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও  কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। জরুরিভিত্তিতে সেতুটি সংস্কারের তিনি আবেদন জানান। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাহাদুরপুর গ্রামের উত্তর বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন যাতায়াতের একমাত্র  সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় শত শত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ ওই সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। ভুক্তভোগী দ্বিজেনদ্র নাথ, অরুন মন্ডল, শেফালী রানীসহ অনেকেই বলেন, আমাদের এই সেতুটি ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তিতে আর কখনো সেতুটি সংস্কার করা হয়নি। বাহাদুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সেতু দিয়ে বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উঃ বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর নিশিকান্ত গাইন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। ৫/৬ বছর ধরে সেতুটি দুরবস্থা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে যাতায়াত করে। অসংখ্য মানুষ সেতু থেকে পড়ে আহত হয়েছে। সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। এ প্রসঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকল্পটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  বরাদ্দ সাপেক্ষে সেতু গুলো সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হবে। 

অবহিত করণ সভা অনুষ্ঠিত : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ আনুষ্টানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রকল্পের আওতায় আগৈলঝাড়ায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের অবহিত করণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মৗলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ব্রেভ এর পরিচালক এম.এম আনোয়ার উল্লাহর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হল রুমে অবহিত করণ সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল। 

সভায় বিশেষ অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বরিশাল এর সহকারী পরিচালক জান-ই-আলম, সংস্থার আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার  অনামিকা বনিক শুভ্রা। সভায় বক্তারা জানান, বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়ায় ও গৌরনদীসহ দেশের ১৪টি জেলায় সরকারের মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে উল্লেখিত দুই উপজেলার  ১৫ থকে ৪৫ বছরের নিরক্ষর নারী ও পুরুষ তথ্য সংগ্রহ করে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করা হবে। সভায় তথ্য সংগ্রহকারীদের তথ্য সরবরাহের বিভিন্ন দিক ও প্রকল্পের বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ