ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংকট সমাধানে আরাকান স্বাধীন করতে হবে

আরাকানে মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ ও হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও তৌহিদী জনতা। গতকাল ঢাকায় বাদজুমা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের জন্য প্লেকার্ড প্রদর্শন করা হয়। হেফাজতে ইসলামের পাশাপাশি সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও তাদের নিজ আবাসভূমিতে ফিরিয়ে দিতে জোর প্রচেষ্টা চালান। এতে সমাধান না হলে মুসলমানদের জন্য স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ ঘোষণা করুন। এ যুদ্ধে সরকার নেতৃত্ব দিলে জনগণ তাদের পাশে থাকবে। 

সমাবেশে হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধ তথা জিহাদ করা ফরজ হয়ে গেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। 

ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে আরাকান স্বাধীন করতে হবে। 

মাহফুজুল হক বলেন, মিয়ানমারের সাথে আলোচনা করে লাভ হবে না। স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনে জিহাদ করতে হবে। 

আব্দুর রব ইউসুফ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভারত যেভাবে আমাদের ট্রেনিং, অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছিল ঠিক সেভাবে স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গাদের ট্রেনিং ও অস্ত্র দিতে হবে। 

সমাবেশে হেফাজত নেতারা ত্রাণসামগ্রী সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশের তীব্য প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নির্দেশনা বাতিল করে যাতে সবাই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা করুন। 

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল ও সমাবেশে হেফাজত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমমনা ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে পৃথক একটি মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। এদিকে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করে হেফাজত ইসলাম।

খেলাফত আন্দোলন

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায় কর্তিক নিরীহ নিরপরাধ রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে গণহত্যা ও নিপীড়ন-নির্যাতন ও দেশান্তরিত করার প্রতিবাদে বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে । মিছিলটি পল্টন মোড়ে গিয়ে অংসান সু চির কফিনে ও মিয়ানমারের পতাকায় অগ্নি সংযোগ করে। পরে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতী ফখরুল ইসলাম, মুফতী সুলতান মুহিউদ্দিন, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা ফিরোজ আশরাফী, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান ও এডভোকেট কামরুদ্দিন প্রমুখ। 

সভাপতির ভাষণে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা স্থায়ী সমাধানে আরাকানকে স্বাধীন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার পার্শবর্তী রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে রোহিঙ্গাদের পাশে থেকে সকল সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা মানবিক দায়িত্ব। 

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যায় শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করলে হবে না, বিশ্ব স¤্রদায়কে মিয়ানমার সরকারকে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে হবে। তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সামরিক অভিযান চালাতে হবে।

মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, মুসলিম গণহত্যা বন্ধ না হলে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মিয়নমারের নাম মুছে যাবে। 

মুফতী সুলতান মুহিউদ্দিন, রোহিঙ্গাদের সাহায্যের পাশাপাশি গণহত্যা বন্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, আরাকান রাজ্য হতে মুসলমানদের বিতাড়িত করতেই পরিকল্পিত গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে শান্তিতে কথিত নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি ও মায়ানমার সরকার। তারা রোহিঙ্গা নিধনের মদদদাতা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রীসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছেন। শুধু লোকদেখানো নিন্দা নয় বরং মিয়ানমার সরকারকে গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে বাধ্য করতে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ^নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। জাতি নিধন ও গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে সু চি ও সামরিক জান্তার বিচার করতে হবে।

গতকাল বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কে এম আতিকুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ