ঢাকা, শনিবার 16 September 2017, ০১ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কলারোয়ার খেটে খাওয়া মানুষ নিঃস্ব॥ সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : “দৈনিক স্বপ্নের ঠিকানা র‌্যাফেল ড্র” নামের অবৈধ লটারি কলারোয়ার খেটে খাওয়া মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলছে। লটারির পুরস্কারের উপর প্রাপ্য লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার চন্দনপুরে ঈদ আনান্দ মেলার ব্যানারে এই অবৈধ লটারি শুরু হয়েছে। প্রতক্ষ্যদর্শী এলাকাবাসী জানায়, ঈদ আনান্দ মেলায় সার্কাসের নামে কিছু পশু পাখি প্রদর্শন, বিচিত্রানুষ্ঠানের নামে অজ্ঞাত অখ্যাত ব্যক্তিকে প্রদর্শন করা হচ্ছে। তবে এসব অনুষ্ঠানে তেমন দর্শক সমাগম নেই। সার্কাস বা বিচিত্রা অনুষ্ঠানের প্রচার মানুষের কানে আসেনা। তবে কলারোয়া উপজেলা সদর সহ গ্রামগজ্ঞের অলিতে গলিতে ইজিবাইকে মাইক নিয়ে “দৈনিক স্বপ্নে ঠিকানা র‌্যাফেল ড্র” নামের অবৈধ লটারির জমজমাট প্রচার চলছে। আর সমস্ত আনান্দ মেলা আবর্তিত হচ্ছে অবৈধ লটারিকে কেন্দ্র করে। প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইকে মাইক বাজায়ে হরেক রকম শ্রুতিমধুর আকর্ষণীয় প্রচার দিয়ে ২০ টাকা দামের লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর, কলারোয়া বাজার সহ গ্রামগজ্ঞের হাটবাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে চেয়ার টেবিল পেতে টিনের ড্রাম নিয়ে বসে রাত ৯ টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলছে। কলারোয়ার গ্রামগজ্ঞের অলিতে গলিতে ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা ও যশোরের শার্শা উপজেলার হাটবাজার গ্রামগজ্ঞে ব্যাপকভাবে মাইকিং করে লটারির টিকিট বিক্রি ধুম পড়ে গেছে। এজন্য নিঃসন্দেহে বলা যায়, কলারোয়ায় লটারি টিকিট বিক্রির মেলা চলছে। আর টিকিট বিক্রির মেলা না বসে উপায় নেই। কারণ প্রতিদিন ১৫০ সিসি এপাচী বা পালসার মটর সাইকেল সহ ১০০সিসি ৮ টি মটর সাইকেল, ১ ভরি ওজনের সোনার গহনা সহ প্রায় ৮ লাখ টাকার ৭৫ টি পুরস্কার প্রদানের মাইকিং করে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সাতক্ষীরা কেবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে। এসব দেখে মোটা টাকার পুরস্কারের লোভে পড়ে খেটে খাওয়া দিনমুজুর, ভ্যান রিকসা ওয়ালা বাজার সওদা বাদ রেখে লটারির টিকিট ক্রয় করছে। বাচ্চার খাওয়ার জন্য রাখা দুটা ডিম বিক্রি করে গৃহবধু টিকিট কিনতে ছুটছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আকর্ষনীয় পুরস্কারের প্রচার শুনে দুপুরে খাওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া টাকা দিয়ে এই লটারির টিকিট ক্রয় করছে। এভাবে দৈনিক প্রায় ১ লাখ টিকিট বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে মেলা সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়। মুষ্টিমেয় কয়েক জন ভাগ্যবান পুরস্কার পেলেও বহু খেটে খাওয়া মানুষ লটারির টিকিট কিনে সংসারে অভাব অনাটনে পড়ছে। রায়টা বাজারের আনারুল ও মাগফুর নামে দুই মিষ্টি দোকানী বামনখালী বাজারের ব্যবসায়ী ভীম চন্দ্র জানায়, মোটা লোভে মানুষ বাচ্ছাদের মিষ্টি মিঠাই খাওয়ার বায়না বাদ দিয়ে লটারি কিনে ফতুর হচ্ছে। তাই তাদের দোকানে বেচাকেনা লাটে উঠেছে। দক্ষিন সোনাবাড়িয়া গ্রামের আহম্মাদ আলী জানায়, লটারির টিকিট কিনতে তাদের এলাকার দুটি মসজিদের দান বাক্স চুরি হয়ে গেছে। চন্দনপুর কলেজের অধ্যক্ষ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, মেলার ও লটারির কারণে এলাকায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা পড়ার টেবিল ছেড়ে রাতে লটারি সার্কাসে যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, গ্রামগজ্ঞে মাইকিং করে লটারির টিকিট বিক্রি অনুমোদন নেই। আর দৈনিক ৮ লাখ টাকার পুরস্কার প্রদান ধরে গত ১৫ দিন লটারির প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের উপর সরকারকে কোন কর দেয়া হয়নি। এব্যাপারে কথা বলার জন্য চেষ্টা করে মেলা কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যাায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ